প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এশিয়ার লৌহমানবীঃ দ্য ইকোনমিস্ট

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এশিয়ার লৌহমানবী। এমনটাই উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। সম্প্রতি শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা। এতে মার্গারেট থ্যাচার ও ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে শেখ হাসিনাকে তুলনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার হোটেল স্যুটে নেয়া হয় সাক্ষাৎকারটি।

দ্য ইকোনমিস্টে গত বুধবার শেখ হাসিনার ওপর প্রকাশ করা হয় একটি প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচে দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকা নারী সরকারপ্রধান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারী ও পুরুষ সরকারপ্রধানদের মধ্যে তিনি উল্লেখযোগ্যদের একজন। প্রায় দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা এই সরকারপ্রধান বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার ক্ষমতার মেয়াদের বেশির ভাগ সময় দেশের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ। ৭৫ বছর বয়সি প্রধানমন্ত্রী তার দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে মোট চারবার ক্ষমতাসীন হয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে তার নেতৃত্বে পরপর তিনটি নির্বাচনে জয় পেয়েছে দলটি। যা ইন্দিরা গান্ধী বা মার্গারেট থ্যাচারের ক্ষমতার চেয়েও বেশি। আগামী বছরের শুরুর দিকে নির্বাচনে জয়ী হবেন বলেও আশা করছেন তিনি। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনেও ঘুরে দাঁড়াবার খুব একটা সম্ভাবনা নেই বিএনপির। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেয়ার পাশাপাশি শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু প্রকৃত রাজনৈতিক দলকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেয়া উচিত। বিরোধী দলের এ যোগ্যতা নেই।

শক্তহাতে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ধরে রাখায় লাভ হয়েছে বাংলাদেশের। অবকাঠামোগত বিনিয়োগসহ এমন কিছু নীতি তিনি প্রণয়ন করেছেন, যার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির গতি বজায় ছিল। দুর্বল কোনো সরকারের পক্ষে এটা করা হয়তো সম্ভব হতো না। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক তাদের নিজস্ব বিষয়। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, নিজেদের গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে দাবি করলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাদের সেই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায় না। অদূরভবিষ্যতে অবসরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তার। তবে সরকারের ‘ভিশন-২০৪১’ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দেখতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

Share.

Comments are closed.