রিজার্ভ চুরি: সিআইডির চার্জশীট এমাসেই

0
হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার আশা থাকলেও তা সময়সাপেক্ষ, বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে, এ মাসেই মামলা করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাংক। অন্যদিকে, সিআইডি বলছে, তাদের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। হ্যাকিংয়ের ঘটনায় যে ৮টি দেশের নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান জড়িত তাদের চিহ্নিত করে পাঠানো হয়েছে নোটিশ। তার জবাব পেলেই মামলার চার্জশিট দেবে সিআইডি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে হ্যাকিং করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়। পরে, শ্রীলংকা এবং ম্যানিলার ব্যাংক আরসিবিসিতে পাঠানো হয় এই বিপুল পরিমাণ ডলার। সবশেষ ফিলিপিন্সের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের মাধ্যমে তিনটি ক্যাসিনোতে এই অর্থ ট্রান্সফার হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি এই অপর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যাক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। এ বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চায়না, জাপান, শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। যে সব দেশের সঙ্গে পারস্পারিক আইনি সহযোগিতা চুক্তি (এমএলএটি) চুক্তি আছে সে সব দেশে আমরা নোটিশ পাঠিয়েছি। এ তথ্য গুলো না আসা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি এই তথ্য গুলো আসবে তত তাড়াতাড়ি আমরা এই মামলার চার্জশিট জমা দিতে পারবো।’ এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করেনি। যদিও আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়। এই তিন বছরের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩রা ফেব্রুয়ারি। মামলা এবং অর্থ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক জামালউদ্দিন আহমেদ জানান, ‘লিগ্যাল অ্যাকশনের জন্য প্রস্তুত। ফিলিপিন্স থেকে কিছু টাকা ফেরত পাওয়া গেছে। ফিলিপিন্সের ব্যাংক এর ম্যানেজারের যে জেল হলো, সেটা বাংলাদেশের অভিযোগ অনেকটা প্রমাণের কাছাকাছি।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন পর্যন্ত সঠিক পথেই আছে জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক জামালউদ্দিন আহমেদ জানান, ‘বাংলাদেশ ব্যংকের লিগাল এ্যাডভাইজার এবং সিনিয়র আইনজীবী যাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে তারাসহ এবং ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমকে আনার জন্য চেষ্টা করছি একটা পার্টির মাধ্যমে। যদি এটা আনতে পারে তবে বাংলাদেশে অভিযোগটা আরও জোরদার হবে। যেহেতু ক্রাইমটা ফিলিপিন্সে হয়েছে।’ চুরি করা এই বিপুল অংক ডলারের অবৈধ লেনদেনের জন্য গত ১০ই জানুয়ারি ব্যাংক কর্মকর্তা মায়া দেগুইতোকে সাজা দিয়েছে ফিলিপিন্সের আদালত।
Share.

Comments are closed.