নড়াই নদীর নামফলক উধাও: রামপুরা থানায় নোঙরের জিডি, নদীখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
নড়াই নদীর নামফলক উধাও: রামপুরা থানায় নোঙরের জিডি, নদীখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
ঢাকা, ১৪ জুলাই ২০২৬: রাজধানীর রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার পরিবেশ ও নদী রক্ষার প্রতীক ঐতিহাসিক ‘নড়াই নদীর নামফলক (সাইনবোর্ড) প্রকাশ্য দিবালোকে উধাও করে দিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা। পরিবেশের ওপর এমন নগ্ন হামলার প্রতিবাদে এবং নামফলকটি দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের বিশিষ্ট পরিবেশবাদী, নদী ও প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নোঙর বাংলাদেশ’।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ১৩ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টায় নোঙর বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুমন শামস রাজধানীর রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮৮৩) দায়ের করেছেন। জিডি গ্রহণের পর রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এসআই পলাশ কুমার ঘোষকে দ্রুত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
image.jpeg
নদী ও পরিবেশের ওপর পরিকল্পিত আঘাত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে নড়াই নদী রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে একটি বিশাল মানববন্ধন এবং নৌ-র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। দেশের বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও নদীপ্রেমীদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই নামফলকটি স্থাপন করা হয়, যা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার নদী রক্ষা ও পরিবেশগত সচেতনতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু গত ২৬ জুন ২০২৬ সকাল ১০টার পর থেকে সাইনবোর্ডটি আর নির্দিষ্ট স্থানে দেখা যাচ্ছে না।
পরিবেশবাদীদের ধারণা, নড়াই নদীর অস্তিত্ব মুছে ফেলা এবং নদী দখলের হীন উদ্দেশ্যে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। একটি নদীর নামফলক উপড়ে ফেলার অর্থ হলো—নদীটির নাম ও ইতিহাসকে সমাজ থেকে আড়াল করে দেওয়া, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতি জরুরি আহ্বানে নড়াই নদী রক্ষায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নোঙর ট্রাস্ট-এর চেয়ারম্যান সুমন শামস বলেন: “নদীর নামফলক চুরি কেবল একটি সাইনবোর্ড চুরি নয়, এটি আমাদের নদী ও পরিবেশের ওপর এক ধরণের সন্ত্রাসী হামলা। নদীখেকো চক্রকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা প্রশাসন ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই চুরির নেপথ্যের নায়কদের খুঁজে বের করা হোক এবং নদীর সীমানা ও অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।”
নোঙর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যম ও দেশের সচেতন নাগরিকদের এই নদী রক্ষার লড়াইয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঢাকার বুক থেকে একে একে নদী ও খাল হারিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নড়াই নদীর মতো একটি ঐতিহাসিক প্রবাহকে বাঁচাতে হলে এখনই প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।
জনসাধারণের দাবি, রামপুরা থানা পুলিশ যেন দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের গ্রেপ্তার করে এবং নড়াই নদীর বুকে আবারো সগৌরবে সেই সচেতনতার প্রতীক—নামফলকটি পুনঃস্থাপন করার ব্যবস্থা করে।







