স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের উদ্যোগে “শিশুদের শৈশবকে সুরক্ষিত রাখুন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের নতুন অডিটরিয়াম ২-এ “শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা করুন’’ এই আহ্বান জানিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম।সভায় উপস্থিত ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন ডিপার্টমেন্টর সহযোগী অধ্যপক ডা. নাজমুন নাহার রোজী, কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা, লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি পরিচালক অ্যাড. দীপ্তি সিকদার। মতবিনিময় সভায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তাসহ মোট ৬২ জন উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা জাহান ইকরা ও আসিফা জামান আঁচল।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন ডিপার্টমেন্টর সহযোগী অধ্যপক ডা. নাজমুন নাহার রোজী বলেন, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারী ও শিশুরা প্রতিনিয়ত ঘরে ও বাইরে চলার পথে যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণের ঘটনার শিকার হচ্ছে। তিনি শিক্ষার্থীদের আমলযোগ্য ও অ-আমলযোগ্য অপরাধমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দিয়ে বলেন রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় নারী ও শিশুরা অনেক সময় অশোভন স্পর্শের শিকার হচ্ছে যেটা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত হতে পারে। এই ঘটনাগুলোর প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ছাত্রীদের সচেতনতা বাড়াতে হবে, আত্মরক্ষার কৌশল অবলম্বন করতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে এবং ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।
কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, ২৪ আগস্ট নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবস। ১৯৯৫ সালে এই দিনে কিশোরী ইসায়মিনকে দিনাজপুর জেলার দশ মাইল এলাকায় পুলিশ সদস্যদের দ্বারা দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। তাকে স্মরণ করে প্রতি বছর এই দিন নারী নির্যাতন দিবস পালন করা হয়। তিনি বলেন, শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা গুলো কেন ঘটে, সহিংসতা কেন বৃদ্ধি পাচ্ছে তার পিছনে একটি বড় কারণ হচ্ছে জেন্ডার বৈষম্য। একটি শিশু জন্মের পর থেকেই জেন্ডার বৈষম্যর শিকার হয়। তিনি বলেন, কন্যাশিশুরা সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জেন্ডার বৈষম্যের শিকার হয়। জেন্ডার বৈষম্য দূর করে জেন্ডার সংবেদনশীল পরিবার ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ১৯৭০ সাল থেকে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ও নারী-পুরুষের জন্য সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের তরুণ সমাজ ভবিষ্যতের কর্ণধার। তাই তরুণদের নিজেদের সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে ও নারী আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে হবে।
লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি পরিচালক অ্যাড. দীপ্তি সিকদার বলেন, যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণ বন্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রায় অনুযায়ী যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন একটি সামাজিক অপরাধ। এই রায় অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রে উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি থাকতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কেউ সহিংসতার শিকার হলে অবশ্যই কমিটিতে অভিযোগ করতে হবে। বর্তমান সময়ে সহিংসতার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইন ও অফলাইনে শিশু ও নারীরা বিভিন্নভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তিনি নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের- ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার কার্যক্রম বিষয়ে তুলে ধরেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সহিংসতার শিকার নারীদের কিভাবে সহযোগিতা করে থাকেন সে বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন।
সভার সভাপতি সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম বলেন, তরুণ-প্রজন্মকে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে বলেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার করতে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন নিপীড়ন ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং জেন্ডার অসমতা দূর করে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভার মধ্যে দিয়ে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এক সাথে কাজ করার শুভ সূচনা হলো। তিনি বলেন, আমরা পরস্পরের সহযোগিতা নিয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ যৌন নিপীড়ন মুক্ত রাখবো। তিনি যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণের কোন ঘটনা ঘটলে প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান ।







