রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় নদী দিবসে নৌ পথ চালুর দাবিতে বুড়িগঙ্গা মঞ্চ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত সাইকেল শোভাযাত্রা  UNIP Bangladesh Chapter Chittagong Division Celebrates 2nd Anniversary 2026 পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগ হলো বৃক্ষরোপণঃ ভিসি মোহাম্মদ জহিরুল হক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে তামাকজাত দ্রব্যে সুনির্দিষ্ট করারোপের বিকল্প নেই শিশু রামিসার হত্যাকারীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় সম্মিলিত নাগরিক সমাজ জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা: বাংলার অন্তিত্বের কবি কাজী নজরুল সারাদেশ শিশু নিপীড়নের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে নগরিকবন্ধন শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এসডিজি অর্জনে সহায়ক প্রজ্ঞা’র ওয়েবিনারে বক্তারা বিষবৃক্ষ রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকায় রুশ ঐতিহ্য আবিষ্কার: মাতরিয়োশকা ডল পেইন্টিং মাস্টার ক্লাস অনুষ্ঠিত

জাতীয় নদী দিবসে নৌ পথ চালুর দাবিতে বুড়িগঙ্গা মঞ্চ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত সাইকেল শোভাযাত্রা 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৫ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

আজ,২৩ মে,শনিবার,সকাল ৯টায় ,
রাজধানী সোয়ারীঘাট ,
নোঙর ট্রাস্ট ,বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের আয়োজনে
জাতীয় নদী দিবস উপলক্ষে
বুড়িগঙ্গা মঞ্চ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত সাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

নদী আমাদের জীবন, সভ্যতা ও পরিবেশের প্রাণ।দখল, দূষণ ও অবহেলায় আজ বাংলাদেশের নদীগুলো সংকটের মুখে।
নদীর গুরুত্ব, সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে
জাতীয় ভিত্তিক সংগঠন “নোঙর ট্রাস্ট” দীর্ঘদিন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
সেই ধারাবাহিকতায়,
বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সহযোগিতায় বাইসাইকেল র‍্যালী
আয়োজন করা হয়।

বর্ণাঢ্য বাইসাইকেল র‍্যালী শুভ উদ্বোধন করেন , নোঙর ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও নদী বরপুত্র ,সুমন সামস। সাইকেল র‍্যালিতে
আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি ,আমিনুল ইসলাম টুববুস,
বুড়িগঙ্গার মঞ্চের জাতীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ,কামরুল হাসান চৌধুরী বিপু, কেরানীগঞ্জ ইউনাইটেড সাইক্লিস্ট এর সভাপতি রফিকুল হাসান,
চকবাজার সাইক্লিস্টের নির্বাহী সদস্য কায়সার আহমেদ সহ বিভিন্ন
সাইক্লিস্টরা নদীর দূষণ রোধের সচেতনতা বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ যাত্রায় বিশেষ ভাবে
উপস্থিত ছিলেন।এছাড়া
সকাল ১০:৩০ মিনিটে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সরকারের নীতি-নির্ধারকেরা অংশ নেন। আলোচনা সভায় জনসম্পৃক্ত নদী ব্যবস্থাপনার উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিভারাইন পিপরৈ মহাসচিব শেখ রোকন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নদী বাঁচলে বাঁচবে এ দেশের কৃষি, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি। কারণ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। ২৩ মে ২০০৪ সালে মেঘনা নদীতে মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে নোঙর এর জাতীয় নদী দিবস ঘোষণার আন্দোলনের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনসম্পৃক্ত নদী ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব আরপ করে জনগণকে সাথে নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে একটি বাস্তব ভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ কারা হবে। কারণ নদীর সাথে দেশের ভাগ্য জড়িত। দেশে ছোট বড় প্রায় ১৪১৫টি নদী রয়েছে, এসব নদী একএকটি জীবন্ত সত্তা। নদী ব্যবস্থাপনায় জনসম্পৃক্ততা আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় তিনি আরো বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের প্রভাবের কারণে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ মরুকরণের ঝুঁকিতে রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সর্বোচ্চ জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিচ্ছেন। আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। খাল খননের সাথে খাল ও নদীর অবৈধ দখল ও দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী উদ্যোগ। নদী রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে জাতীয় নদী দিবস ঘোষণার বিষয়টিও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
পরিবেশবাদীদের মতে, নদী রক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করার একটি জাতীয় দায়িত্ব। কারণ নদী বাঁচলে, বাঁচবে বাংলাদেশ।

নদীর সাথে দেশের ভাগ্য জড়িত: পানিসম্পদ মন্ত্রী
বাংলাদেশের সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং যাতায়াত ব্যবস্থার প্রাণস্পন্দন লুকিয়ে আছে নদীগুলোর বুকে। বিগত ৫৪ বছরে দেশের বিভিন্ন নৌপথে ছোট-বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এবং ঈদের মতো উৎসবগুলোতে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের আনন্দযাত্রা রূপ নেয় গণকবরে। নদীপথের এই অনিরাপত্তা এবং অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে লড়াই করে আসছে সামাজিক সংগঠন নোঙর ।
এই প্রেক্ষাপটে, ২০০৪ সালের ২৩ মে চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক লঞ্চ ট্র্যাজেডিকে স্মরণ করে প্রতিবছর ২৩ মে-কে সরকারিভাবে জাতীয় নদী দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়েছে
সামাজিক সংগঠন নোঙর ট্রাস্ট।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আনিছুর রহমান খোকন বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ এ কথাটি যেমন আমাদের জন্য গৌরবের, তেমনি এক চরম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। নদী বেঁচে থাকলে এ দেশের কৃষি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং মানুষ বাঁচবে। নদী রক্ষা এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার খাল খনন কর্মসুচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দখলকৃত খাল ও নদী উদ্ধার কার্যক্রম আরো বেগবান করতে সরকারে আন্তরিক প্রচেষ্টার উপর গুরুত্ব আরপ করেন। এ সময় তিনি নদী বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে তাদের সংগ্রাম অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরো বাস্তবসম্মত নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করার পরামর্শ দেন। নৌ-দুর্ঘটনায় নিহত হাজারো মানুষ কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, তারা প্রত্যেকেই রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনার শিকার। নদীপথের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নদী গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মী আইরিন সুলতানা, কসমস সমাজ উন্নয়ন সংস্থা প্রধান নির্বাহী মেহনাজ পারভীন মালা, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (পরিবেশ শাখা), পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো) মোহাম্মদ আলমগীর, অগ্রযাত্রা নারী ফোরাম ও সমন্বয়ক, হাওরঅঞ্চলবাসী’র আহ্বায়ক জাকিয়া শিশির, এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী এবং চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী, বাংলাদেশ পুকুর রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক ইব্রাহিম আহমেদ রিপন, তিস্তা নদী রক্ষা কমিটি সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন, বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিবহন বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনভাইরনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিজিইডি)র প্রধান নির্বাহী ড. মো. আবদুল ওয়াহাব, মেরিন হাউজ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং নৌ স্থপতি ও সামুদ্রিক পরামর্শক প্রকৌশলী মো. শামসুল আলম, জাইকা বাংলাদেশ এর উপদেষ্টা প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান, সেন্টার ফর ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং এর প্রতিষ্ঠাতা এবং খণ্ডকালীন শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর ড. মাহমুদুল ইসলাম, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বাদল, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া, সাবেক রাষ্ট্রদূত মসয়ুদ মান্নান, চ্যানেল আই টিভি সম্পাদক মীর মাশরুর জামান।
২৩ মে-কে জাতীয় নদী দিবস ঘোষণার যৌক্তিক কারণসমূহ:
বর্তমানে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার ‘বিশ্ব নদী দিবস’ পালিত হলেও বাংলাদেশের নিজস্ব প্রেক্ষাপটে একটি ‘জাতীয় নদী দিবস’ থাকা আবশ্যক বলে মনে করে নোঙর ট্রাস্ট। এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ তুলে ধরা হয়।
এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জনসম্পৃক্ত নদী ব্যবস্থাপনা’। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। নদী দখল-দূষণমুক্ত এবং নৌপথ নিরাপদ করার মাধ্যমে নদী দুর্ঘটনায় নিহত ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের বিদেহী আত্মার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives