রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
‘শুটকি নদী কোনো জলমহাল নয়, এটি একটি জীবন্ত নদী’ পিতা-মাতার ভরণপোষণ সন্তানের ধর্মীয় আইনি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব সীমান্ত নিরাপত্তার চেয়েও ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন বেশি জরুরি: তথ্যমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকদের-১ বছরের পিআরএল “শীর্ষক” সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় চৌদ্দগ্রামে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর। নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্দ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান ! নয়াদিল্লির আবাসিক হোটেলে আগুনে নিহত কুমিল্লার নুরুল আমিন বাউফলে একই পরিবারের তিন প্রতিবন্ধী সহোদরের পাশে দাঁড়াল বিএনপি।  সাবেক মন্ত্রী অ্যাড. দীপন দেওয়ানকে পুনর্বহাল এর দাবীতে স্থানীয় নেতা পহেল চাকমা ও এম এ আবুল বাশার যৌথ সংবাদ সম্মেলন চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের ব্যয় কমেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা !

‘শুটকি নদী কোনো জলমহাল নয়, এটি একটি জীবন্ত নদী’

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ২ Time View
Update : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নোঙরের আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ ও হবিগঞ্জের শুটকি নদী পরিদর্শন

“শুটকি নদী কোনো জলমহাল নয়, এটি একটি জীবন্ত নদী! এর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দিয়ে নদীর প্রাণ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে।” বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন ‘‌নোঙর ট্রাস্ট’-এর চেয়ারম্যান সুমন শামস এ কথা বলেন।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় স্থানীয় কামালখানিস্থ হাসান মন্জিলে ‘নোঙর ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ ও শুটকি নদী পরিদর্শন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
“নদী কোনো জমি বা স্থাবর সম্পত্তি নয়। নদী একটি চলমান, জীবন্ত ও গতিশীল পরিবেশগত ব্যবস্থা। তাই নদীকে কেবল ‘জলমহাল’ হিসেবে বিবেচনা করা হলে তার অস্তিত্ব ও পরিবেশগত গুরুত্বকে অস্বীকার করা হয়।” – সুমন শামস, চেয়ারম্যান, নোঙর ট্রাষ্ট।

সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর মতো শুটকি নদীও আজ দখল, ভরাট, অবৈধ বাঁধ, দূষণ এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে, জলজ উদ্ভিদ বিলুপ্ত হচ্ছে এবং সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে।
বক্তারা অবিলম্বে শুটকি নদীর ইজারা বাতিল করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এর বিরূপ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

নদীটিকে বাঁচাতে এবং এর আগের রূপ ফিরিয়ে আনতে নোঙর ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়:

১. নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা। ২. অবৈধ দখল ও ভরাটের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। ৩. নদীকে ইজারানির্ভর ‘জলমহাল’ নয়, বরং পরিবেশগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা। ৪. স্থানীয় জনগণকে নদী ব্যবস্থাপনার মূল ধারায় সম্পৃক্ত করা। ৫. নদীভিত্তিক গবেষণা ও নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালু করা। ৬. নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

মো. আবদুর রাহিমের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বানিয়াচং উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন নোঙর বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মহসীন মোর্শেদ রানা, বিআইডব্লিউটিএ-এর সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা খাজা নিজাম উদ্দীন, বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোশারফ হোসাইন, সমাজকর্মী সৈয়দ পলাশ মিজান, মওদুদ আহমেদ, এম এ হাসান, নোঙর সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে সানি, কেন্দ্রীয় সদস্য মো. সাইদুর রহমান তপু এবং দ্বীন মোহাম্মদ সোহাগসহ স্থানীয় গণ্যমান্য পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভা শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় পরিবেশবাদীরা শুটকি নদীর কাছারিঘাট এলাকায় পরিদর্শনে যান। সেখানে নদীর তীরে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষরোপণ শেষে প্রতিনিধি দলটি শুটকি নদীর বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তারা নদীটির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives