পাহাড়ি ঢলে ফের তলিয়ে গেছে রাঙ্গামাটির ফারুয়া: স্রোতের তীব্রতায় ব্যাহত ত্রাণ তৎপরতা
পাহাড়ি ঢলে ফের তলিয়ে গেছে রাঙ্গামাটির ফারুয়া: স্রোতের তীব্রতায় ব্যাহত ত্রাণ তৎপরতা
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নে ফের বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও গত রাতের মুষলধারে বৃষ্টিতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। তলিয়ে গেছে ইউনিয়নটির বাজারসহ প্রায় ২০টি গ্রাম। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই প্রথম দফায় গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছিল। পানি নামার আগেই গত রাতের নতুন ঢলে এলাকাগুলো পুনরায় তলিয়ে গেছে। রাত জেগে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মালামাল রক্ষার পাশাপাশি এখন তারা নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘বানের পানি গতবারের চেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পুরো ইউনিয়ন কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মানুষ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।’
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফারুয়া বাজার। টানা বন্যায় প্রতিবছর এ বাজারের ব্যবসায়ীরা বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারুন বলেন, ‘গতবার শতাধিক দোকান প্লাবিত হয়েছিল, আর এবার পুরো বাজার পানির নিচে। প্রতিবছর এভাবে ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। বাজারটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে আমি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

ঢলের কবলে পড়ে শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, বিদ্যালয়ের নিচতলা ডুবে যাওয়ায় পাঠদান পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া তক্তানালা, ওড়াছড়ি, যমুনাছড়ি, যামুছড়া, শুক্করছড়ি, চাইন্দা, আলেচং, রোয়াপাড়া ছড়া, এগুজ্যা ছড়ি, ঝাংবিল, উলুছড়ি, তাড়াছড়ি, চাইন্দা পাড়া, গোয়াইন ছড়ি পাড়া, আকাটা ছড়া, ফঁ ছড়া ও চংড়াছড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে।
ত্রাণ তৎপরতার বিষয়ে বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে পৌঁছানো যাচ্ছে না। স্রোতের গতি কিছুটা কমলেই দ্রুত সহায়তা পাঠানো হবে। এছাড়া রাজস্থলী-বিলাইছড়ি সীমান্ত সড়কের উদয় চর এলাকায় সড়ক ধসে পড়ায় বড় ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে, চরম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়া ফারুয়ার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, দাতা গোষ্ঠী ও হৃদয়বান বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।







