আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হার আমাকে দীর্ঘ সময় তাড়িয়ে বেড়াবে : বার্ন
ছবি : কোলাজ
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হার আমাকে দীর্ঘ সময় তাড়িয়ে বেড়াবে : বার্ন
আট বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে গিয়েও ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হলো না ইংল্যান্ডের। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার সেই দুঃসহ স্মৃতিই যেন আবার ফিরে এলো আটলান্টায়। এবার প্রতিপক্ষ ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর এই সেমিফাইনালের ৫৫ মিনিটে মর্গান রজার্সের চমৎকার ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে লিড নেয় ইংল্যান্ড। কিন্তু ম্যাচের শেষদিকের নাটকীয়তায় সব ওলটপালট হয়ে যায়। আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথমে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের জয়সূচক গোল ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেয়।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড যখন ১-০ গোলে এগিয়ে, তখন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন নিউক্যাসেল ডিফেন্ডার ড্যান বার্ন। ম্যাচ শেষে নিজের হতাশা ও দলের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, পুরোপুরি ভেঙে পড়েছি। আমরা আমাদের গেমপ্ল্যান বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছিলাম। কিন্তু ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আমরা কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ি। আমরা বক্সে অনেক বেশি ক্রস এবং সুযোগ দিয়ে ফেলেছি। আর্জেন্টিনার মতো মানসম্পন্ন দলের বিরুদ্ধে এমন ভুল করলে তার চড়া মূল্য দিতেই হবে। এই হার আমাকে দীর্ঘ সময় তাড়িয়ে বেড়াবে।
এর আগের দুই রাউন্ডে অবশ্য দারুণ সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছিল ইংলিশরা। শেষ ১৬-এর ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের বেশিরভাগ সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও মেক্সিকোকে ৩-২ ব্যবধানে হারায় তারা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে।
হোল্ডারদের (আর্জেন্টিনা) বিরুদ্ধে আগের ম্যাচের সেই ধার ধরে রাখতে না পারার কারণ জানতে চাওয়া হলে বার্ন বলেন, “আমি জানি না। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার এত কাছাকাছি চলে আসলে স্নায়ুচাপ তৈরি হওয়াটা মানবসুলভ স্বাভাবিক বিষয়। আর্জেন্টিনার এই পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস দুটোই ছিল। গত কয়েকটি ম্যাচে আমরা বক্সের ভেতর খুব ভালো রক্ষণভাগ বজায় রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম এবারও তা পারব, কিন্তু বক্সে আমরা যতটা আঁটসাঁট থাকা উচিত ছিল, ততটা থাকতে পারিনি।”
তবে হারের পরেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত বার্ন। তিনি বলেন, এই বিশ্বকাপে আমরা যা করেছি তার জন্য আমি এখনও খুব গর্বিত। আমার মনে হয় না টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কেউ আমাদের নিয়ে এতটা আশা করেছিল। আমরা অনেক ভালো ফুটবল খেলেছি, এবং সত্যি বলতে আমি ভেবেছিলাম এবার আমরা ইতিহাস গড়তে পারব।
ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভাঙলেও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা এখনই শেষ হচ্ছে না। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে থ্রি লায়ন্সরা।







