হেরে যাওয়ার পরও কৌশলগত সিদ্ধান্তে অটল টুখেল
হেরে যাওয়ার পরও কৌশলগত সিদ্ধান্তে অটল টুখেল
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের আবেগঘন এক জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট পেয়েছে তারা। তবে ম্যাচে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও মেসিদের বিপক্ষে হেরে যাওয়ার জন্য ‘অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক’ (প্যাসিভ) হয়ে পড়েছিল বলে স্বীকার করেছেন টমাস টুখেল।
নিজের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো ‘আক্ষেপ নেই’ বলেও জানান তিনি। টুখেল বলেন, আমরা হতাশ, তবে গোল করার পর আমরা অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিলাম। প্রতিপক্ষকে অনেক সুযোগ দিয়েছি এবং বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখতে পারিনি। আমরা প্রচুর ক্রস, সুযোগ ও শট হজম করেছি। আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি ছিলাম, কিন্তু গোল করার পর সেই খেলার মান ধরে রাখতে পারিনি।
খেলোয়াড় বদল বা সাবস্টিটিউশন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে টুখেল জোর দিয়ে বলেছেন, সমস্যাটি কৌশলগত কাঠামোর ছিল না। তিনি বলেন, অবশ্যই আমরা দ্বিতীয় গোলটি পেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার মনে হয়নি যে আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় নামালে কোনো লাভ হতো। আমরা আমাদের ৪-৪-২ ছকেই খেলেছি, কিন্তু ক্রমশ আরও বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিলাম।
হ্যারি কেইনদের এই কোচ বলেন, আমরা বলের দখল নিতে পারছিলাম না, বল ধরেও রাখতে পারছিলাম না; তাই আমার মনে হয় না এটি কাঠামোগত কোনো সমস্যা ছিল, আমরা কোনো পরিবর্তনও করিনি। কিন্তু ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরে গিয়েছিল। এতে কোনো সমস্যা নেই; আমি বুঝি যে এসব নিয়ে আলোচনা হবেই এবং ম্যাচের পর এমন লাখ লাখ কোচ বা বিশেষজ্ঞ থাকেন যারা মনে করেন তারা বিষয়টি আরও ভালো বোঝেন।
তবে বিশ্লেষক ও সমর্থকদের কাছ থেকে দ্রুতই সমালোচনা আসতে শুরু করলেও, টুখেল নিজের অবস্থানে অটল থেকে জানান যে তার কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি বলেন, দল নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। আমরা জয়ের খুব, খুব কাছাকাছি ছিলাম। আমার মনে হয় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকাটা আমাদের প্রাপ্য ছিল। আমরা আমাদের অন্যতম সেরা ম্যাচটি খেলেছি, হয়তো পরিস্থিতির বিচারে এটিই ছিল সেরা ম্যাচ। লড়াইটা কঠিন ছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা জয়টা নিশ্চিত করতে পারিনি। কোনো আক্ষেপ নেই।
অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার গোলে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশার পরাজয় নিয়ে মাঠে ছেড়েছে ইংলিশরা। ফলে দীর্ঘ ৬০ বছর পর ফাইনাল খেলার আশা জাগিয়েও সেমি-ফাইনাল থেকে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তাদের।







