সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বসুন্ধরায় মডেল-অভিনেত্রী রিধিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ক্যাম্পাস টু কর্পোরেট’ প্রতিপাদ্যে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে স্কিল অ্যান্ড এমপ্লয়েবিলিটি সামিট অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সারাদেশে নারীর প্রতি অব্যাহত  সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা ও শিশু হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনে পুলিশি বাধা, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতির তীব্র নিন্দা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ : লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল ভবন না বানিয়েই ২.৮০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ প্রকৌশলী হাসান সৈকতের বিরুদ্ধে জনতার কমিশনার হিসেবে বিভিন্ন সেবা মূলক কাজের জন্য পাচ্ছেন সম্মাননা সোশ্যাল মিডিয়ার চোরাবালি ও বিভ্রান্ত তরুণ প্রজন্ম: সংকটের মনস্তাত্ত্বিক জ্যামিতি ও উত্তরণের পথ রাঙামাটিতে পিকআপ উল্টে নিহত ৪, আহত ২ অসভ্যতার সব সীমা পার: আইইবিতে পরিবারসহ জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি, নেপথ্যে ‘হাবলুর গুরুর’ ক্যাডারতন্ত্র!

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ : লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

লেখক পরিচিতি: লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল (শিক্ষক, কবি, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (কৃষি), কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্মমহাসচিব, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), কেন্দ্রীয় কমিটি ৭০ কাকরাইল, ঢাকা / ৬ Time View
Update : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ : লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। মানুষের আয় যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই স্থির, সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ফলে দেশের সাধারণ মানুষ এখন এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে সংসারের মাসিক হিসাব মেলানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। খাবার, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদার তালিকা ছোট করতে হচ্ছে।
চলমান সংকটকে শুধু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সমস্যা হিসেবে দেখলে বাস্তব চিত্রটি পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা, উৎপাদন ব্যবস্থা, পরিবহন ব্যয়, আমদানি নির্ভরতা, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার প্রশ্ন। অর্থাৎ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি পরস্পর বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। বরং একটি সংকট অন্য সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, পরিবহন এবং সেবা খাতের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়। গ্যাসের চাপ কমে গেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা কমে যায়। অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়, যার খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি। সেই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপর এসে পড়ে।
একজন ভোক্তা বাজারে গিয়ে হয়তো শুধু পণ্যের বাড়তি দামটিই দেখছেন। কিন্তু সেই বাড়তি দামের পেছনে রয়েছে কাঁচামাল উৎপাদন, কারখানা পরিচালনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং বিপণনের বাড়তি খরচ। ফলে জ্বালানির মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হলে তার প্রভাব ধাপে ধাপে পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহ শুধু উৎপাদন ব্যাহত করে না, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একজন উদ্যোক্তা যখন নিশ্চিতভাবে জানেন না যে তাঁর কারখানা নিয়মিত জ্বালানি পাবে কি না, তখন উৎপাদন পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সরবরাহ কমতে পারে। আর সরবরাহ কমে গেলে চাহিদার তুলনায় পণ্যের প্রাপ্যতা কমে গিয়ে দাম বাড়ার চাপ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এ ধরনের সংকটে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বড় প্রতিষ্ঠানের মতো অতিরিক্ত ব্যয় বহন করার সক্ষমতা অনেক ছোট প্রতিষ্ঠানের নেই। ফলে তাদের উৎপাদন কমানো, কর্মঘণ্টা কমানো কিংবা ব্যবসা সীমিত করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এর প্রভাব কর্মসংস্থানেও পড়ে।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের সম্পর্কও গভীর। কৃষিতে সেচ, সার, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ে। সেই ব্যয় পণ্যের বাজারদরে প্রতিফলিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। আবার কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর সেটি শহরের বাজারে পৌঁছাতে পরিবহন লাগে। পরিবহন ব্যয় বাড়লে পণ্যের চূড়ান্ত মূল্যও বাড়ে। ফলে কৃষক ও ভোক্তা উভয়েই চাপের মুখে পড়েন। কৃষক বেশি খরচ করেও ন্যায্য দাম না পেতে পারেন, আর ভোক্তাকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়। এই ব্যবধান কমানোর জন্য উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নজর দেওয়া জরুরি।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর, কিন্তু মধ্যবিত্তও এর বাইরে নয়। নির্দিষ্ট বেতনের একজন চাকরিজীবীর আয় যদি বছরে সামান্য বাড়ে, অথচ খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়তের ব্যয় তার চেয়ে দ্রুত বাড়ে, তাহলে প্রকৃত অর্থে তার জীবনযাত্রার মান কমে যায়।
আগে যে অর্থ দিয়ে একটি পরিবার মাসের বাজার করতে পারত, এখন একই পরিমাণ অর্থে কম পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে পরিবারগুলোকে একের পর এক ব্যয় কমাতে হচ্ছে। কেউ বিনোদন বাদ দিচ্ছেন, কেউ চিকিৎসা পিছিয়ে দিচ্ছেন, কেউ সন্তানের অতিরিক্ত শিক্ষা ব্যয় কমাচ্ছেন, আবার কেউ সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন। একটি দেশের অর্থনীতির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। কারণ মানুষের সঞ্চয় কমে গেলে ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা দুর্বল হয়। আর দীর্ঘদিন জীবনযাত্রার ব্যয় আয়ের তুলনায় বেশি থাকলে মানুষের ঋণনির্ভরতা বাড়তে পারে।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সবটুকু জ্বালানি সংকট দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। বাজারে অতিরিক্ত মুনাফা, কৃত্রিম সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অস্বচ্ছ ভূমিকা অনেক সময় পণ্যের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখে। তাই বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে। শুধু বাজারে অভিযান পরিচালনা করে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। উৎপাদক, পাইকার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার মধ্যে পণ্যের মূল্য কীভাবে বাড়ছে, কোথায় অস্বাভাবিক মুনাফা হচ্ছে এবং কোথায় সরবরাহে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তা তথ্যভিত্তিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে হবে। বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমে যায়।
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিকল্প নেই। শুধু সংকট দেখা দিলে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া যথেষ্ট নয়। দেশের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের সঠিক ব্যবহার, নতুন উৎস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতাও দূর করা জরুরি। কারণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ ভোক্তার কাছে পৌঁছানো না যায়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। শিল্প ও ব্যবসা খাতের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত। জ্বালানি সংকট কমাতে পারলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, সরবরাহ বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাজারদরের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষা করাও জরুরি। কারণ বাজারে পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও যদি মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান না বাড়ে, তাহলে সংকট পুরোপুরি কাটবে না। সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মধ্যবিত্তের ওপর বাড়তে থাকা ব্যয়ের চাপও নীতিনির্ধারণের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে হবে।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উৎপাদন ব্যয় এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি একই অর্থনৈতিক চক্রের অংশ। তাই একটি সমস্যার সমাধান করে অন্য সমস্যাকে উপেক্ষা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে হবে, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে রাখতে হবে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান তখনই মানুষের কাছে অর্থবহ হবে, যখন সেই প্রবৃদ্ধির সুফল মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত হবে। আজ সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সংসারের খরচ আর কত বাড়বে? আয় না বাড়লেও যদি গ্যাস, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বাড়তেই থাকে, তাহলে মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে। এই চাপ শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিকভাবেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তাই এখনই সমন্বিত, বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো, বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা, এই চারটি বিষয়কে একই নীতির আওতায় আনতে হবে। কারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের পরিচয়।
গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো, সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা, বাজারে অস্বাভাবিক মুনাফা ও কৃত্রিম সংকট বন্ধ করা এবং মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা, সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কারণ জ্বালানি সংকট যখন উৎপাদন ব্যয় বাড়ায়, উৎপাদন ব্যয় যখন পণ্যের দাম বাড়ায়, আর পণ্যের দাম যখন মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তোলে, তখন এটি আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা থাকে না। এটি একটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পরিণত হয়।
মানুষ স্বস্তি চায়, শুধু আশ্বাস নয়। তারা এমন একটি বাজারব্যবস্থা চায় যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নাগালের মধ্যে থাকবে, এমন একটি জ্বালানি ব্যবস্থা চায় যেখানে গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা উৎপাদন ও জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সর্বোপরি, তারা এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা চায় যেখানে দেশের উন্নয়নের সুফল মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও দৃশ্যমান হবে। আজ যে মানুষটি বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিসাব কষছেন, যে শ্রমিক বাড়তি আয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন, যে মধ্যবিত্ত পরিবার সন্তানের শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে সঞ্চয় ভাঙছে, তাদের কষ্টকে অর্থনীতির সাধারণ পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা যায় না। তাদের স্বস্তিই হতে হবে নীতি ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এখন আর কেবল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, এটি জনজীবনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার প্রশ্ন। জনগণের নাভিশ্বাস আর দীর্ঘায়িত করা যাবে না। জ্বালানি নিরাপত্তা, স্থিতিশীল বাজার ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করে সেই নাভিশ্বাসকে স্বস্তিতে পরিণত করার কার্যকর উদ্যোগই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই, বরং একটির প্রভাব অন্যটিকে আরও তীব্র করে তোলে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধে ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাসহ বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এছাড়াও অসাধু মজুতদারি ও সিন্ডিকেট দমন, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সুষম ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
লেখক পরিচিতি:
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
(শিক্ষক, কবি, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক)
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (কৃষি), কেন্দ্রীয় কমিটি
যুগ্মমহাসচিব, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), কেন্দ্রীয় কমিটি
৭০ কাকরাইল, ঢাকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives