শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যে কলম বিক্রি হয়নি: একজন সাংবাদিকের আত্মকাহিনি চলচ্চিত্রের পর্দায় ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা আইন লঙ্ঘন ও নাগরিক অধিকার হরণ করে দখলদারিকেই মাঠ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিয়েছে রাজউক ব্যবসায়ী থেকে গভর্নর: আর্থিক খাতে নতুন চমকের নাম মোস্তাকুর রহমান : অয়ন আহমেদ পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের সাথে বিশ্বশান্তি কুঠির প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ একুশে বইমেলায় আসছে সাংবাদিক মোস্তফা খানের উপন্যাস ‘একটি কলমের দাম’ তারেক রহমানকে সেক্রেটারিয়েট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’র অভিনন্দন দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও সহযোগিতায় সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন দ‌ক্ষিণ এ‌শিয়ার নিরাপত্তা ও উন্নয়ন: মিডিয়ার দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জা‌তিক সংলাপ দিল্লির আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে গেলেন ঢাকার তিন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

যে কলম বিক্রি হয়নি: একজন সাংবাদিকের আত্মকাহিনি

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ / ৬ Time View
Update : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

মোঃ হুমায়ুন কবির। ছাত্রজীবন থেকেই নিয়মিত গল্প, কবিতা ও সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত। তার সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা হয় ১৯৮৫ সালে। সে সময় মফস্বল সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি শফিকুর রহমানের (বিক্রমপুর) মাধ্যমে এবং ঝালকাঠির প্রবীণ সাংবাদিক হেমায়েত উদ্দিন হিমু” র সার্বিক সহযোগিতায় ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন।
পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে ঢাকায় এসে ‘দৈনিক কালবেলা’ পত্রিকায় মেডিকেল (ক্রাইম) রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করে। তৎকালীন সময়ে তারা একই সাথে কাজ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক মহাসচিব রোকন ভাইর মতো প্রথিতযশা সাংবাদিকদের সাথে। এরপর একে একে দৈনিক নব অভিযান, শক্তি, জনপদ, ভোরের আকাশ, ঘোষণা, স্বাধীন মত, ভোরের পাতা এবং সকালের সময়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লেখালেখি ও সাংবাদিকতা করেছে।এর পাশাপাশি তিনি দুইটি বই লিকছেন , প্রথমটি হলো “মা আমার মা “ দিত্বীয়টি হলো “কোরআন ও হাদিসের আলোকে মা আমার জান্নাত” ।
বর্তমানে তিনি’দৈনিক বাংলাদেশ পরিক্রমা’ পত্রিকার চীফ রিপোর্টার হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছে এবং এর পাশাপাশি ‘হিডেন নিউজ’ নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিচালনা করছে।
দীর্ঘ চার দশকের এই দীর্ঘ পথচলায়, ১৯৮৭ সাল থেকে অদ্যাবধি তার সাংবাদিকতা জীবনে কোনো প্রকার কলঙ্ক বা বিতর্কের দাগ লাগেনি। ১৯৯০ সালে সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য পদ লাভ করার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সহকর্মীর সাথে তার কোনো বৈরিতা, তর্ক বা বিরোধ তৈরি হয়নি। এই সুদীর্ঘ সময়ে দেশে একাধিকবার তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তি বা পেশাজীবী হিসেবে তার আদর্শের কোনো বিচ্যুতি ঘটেনি। কারণ, তিনি সর্বদা সাংবাদিকতার মূল পেশাগত নীতিমালা মনে-প্রাণে ধারণ করেছে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার যে চিরন্তন নিয়ম, তার মধ্যে থেকেই আজ ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত অত্যন্ত সততা ও সম্মানের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
পেশাগত জীবনে তিনি কখনোই দল-মত বা কোনো পক্ষের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করিনি। লেখার ক্ষেত্রে সবসময় নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছে এবং যে যেমন আচরণ করেছেন, বাস্তব চিত্রটি হুবহু সেভাবেই তুলে ধরেছে। সাংবাদিকতা পেশায় সিনিয়র ও জুনিয়র সকল সহকর্মীকে সবসময় তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে তিনি বিগত দিনগুলো পার করেছে। সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সহকর্মীদের মাঝে তার কোনো রক্তের আত্মীয় নেই, তাই পেশাগত সৌহার্দ্য বজায় রাখতে তিনি সবার সাথে সুকৌশলে সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনপূর্বক কুশল ও সালাম বিনিময় করে আসছে।
তিনি কখনো ভাবেনি সাংবাদিকদের ভেতরেই তার কোনো শত্রু থাকতে পারে। তবে সত্য কথা বলতে গিয়ে মাঝে মাঝে হয়তো এমন কিছু বলে ফেলেছে, যা অনেকের ভালো লাগেনি। কিছু মানুষ নিজেদের অপশক্তি কাজে লাগিয়ে নেতাদের অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করেছে। নেতারা তাদের বারবার তোসামতে ও উৎকোচে নিজেদের ন্যায়-অন্যায় বোধ ও মনুষ্যত্ব হারিয়ে পাপিষ্ঠ ও নীতিহীন হয়ে পড়েছে। তা না হলে তার মতো একজন পেশাদার সাংবাদিকের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য পদের আবেদন ৪-৫ বার কেন নাকচ হয়ে যাবে? অথচ যারা প্রকৃত সাংবাদিকতা করেন না, শুধু সময় পার করার জন্য ইউনিয়নে আড্ডা দেন এবং ইউনিয়নের বৈধ সদস্যও নন, তারা ঠিকই সদস্যপদ পেয়ে যান !
তিনি দেখেছেন নেতাদের সাথে কিছু অপসাংবাদিকের সার্বক্ষণিক গোপন ফিসফিসানি। দুই দিন আগেই দেখেছে নেতার সাথে কথা বলে তার গাড়িতে উঠেছেন এবং ক্লাবের বাইরে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ থেকে কী প্রমাণিত হয়? অথচ সেই অপসাংবাদিক ও সেই চামচার অনুসারীরাই ( চামচারাই ) প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ লুফে নিয়েছে। নেতারা কোন যোগ্যতায় এবং কত টাকার বিনিময়ে তাদের এই সদস্যপদ দিয়েছেন, সেই প্রশ্ন আজ তোলার সময় এসেছে।
ছাত্রজীবন থেকে যে রাজনৈতিক আদর্শের (বিএনপি) সাথে যুক্ত ছিল তারা আজ ক্ষমতায় থাকার পরও তিনি তার ন্যায্য সদস্যপদ থেকে বঞ্চিত হলো—এই দুঃখ ও ক্ষোভ তিনি কোথায় রাখবে কার কাছে প্রকাশ করবে ? তিনি বলছেন জাতীয় প্রেস ক্লাব হওয়া উচিত দেশের সকল পেশাদার সাংবাদিকের নিরাপদ আশ্রয় ও মিলনমেলা। সেখানে কোনো দলীয় সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়; এটিকে কারো পারিবারিক বা দলীয় সম্পত্তি মনে করা অন্যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবকে নিজস্ব সম্পত্তির মতো পাহারা দেওয়া হচ্ছে এবং নীতিকে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পেশাদার সাংবাদিকদের মুখের হাসি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, যারা এমন অন্যায় করেছেন, তারা একদিন ঠিকই সাংবাদিক সমাজ থেকে বিতর্কিত হয়ে মাথা নিচু করে প্রেস ক্লাব থেকে বিদায় নিয়েছেন। মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত হয়ে হারিয়েছেন জীবনের শান্তি, নাম ও যশ। সাংবাদিকদের কাছে তারা আজ ঘৃণার পাত্র। টাকা ও ক্ষমতা থাকলে সাময়িক সম্মান পাওয়া যায়, কিন্তু তা স্থায়ী হয় না। চিরস্থায়ী সম্মান অর্জন করতে হলে মানুষের ভেতরে বিবেক ও সুবুদ্ধি থাকা আবশ্যক।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives