শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবগঠিত পরিষদকে বিএনপির সংবর্ধনা ছন্দ সেন চাকমা ​বিশেষ প্রতিনিধি, রাঙামাটি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট বিলোপ ও কারখানা চালুর দাবিতে শ্রমিক জনতার দলের মানববন্ধন ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয়, আধুনিকায়ন ও লাইসেন্স প্রদানের দাবি ‘সংগ্রাম পরিষদ’-এর মিলাদুন্নবীর দর্শন: সুশাসন, মানবাধিকার ও অপরাধমুক্ত সমাজ ঐক্য পরিষদের স্মরণসভা : জেনারেল দত্ত মানবাধিকার আন্দোলনের বাতিঘর রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচসহ আজকের খেলার সূচি পার্বত্য অঞ্চলে মৃত্তিকা ট্রেড সেন্টার গড়ে তুলতে হবে : পার্বত্য মন্ত্রী রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কাউকে আটক বা কারাগারে রাখা হবে না : শামা বিদায় হজের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক : রাষ্ট্রপতি  জুলাই শহীদ জুবায়েরের বোনের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয়, আধুনিকায়ন ও লাইসেন্স প্রদানের দাবি ‘সংগ্রাম পরিষদ’-এর

বিশ্বজিৎ মন্ডল , ঢাকা:    / ১০১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ নয়, আধুনিকায়ন ও লাইসেন্স প্রদানের দাবি ‘সংগ্রাম পরিষদ’-এর

 

​সড়কে ব্যাটারিচালিত যান উচ্ছেদ না করে এর আধুনিকায়ন, নিবন্ধীকরণ ও চালকদের লাইসেন্স প্রদানের দাবি জানিয়েছে ‘রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজি বাইক সংগ্রাম পরিষদ’।
​আজ ২৭ আগস্ট (২০২৬) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক পথসভা ও সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ব্যাটারিচালিত যানবাহন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক রূপরেখা ও নীতিগত ভাবনার বিষয়ে সংগ্রাম পরিষদের বক্তব্য ও বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহন সম্পর্কিত যে সব পরিকল্পনা ও শর্তের কথা জানা যাচ্ছে, তা বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে খাতটিকে জিম্মি করার নামান্তর। সংস্থাটি মনে করে, সাধারণ চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করে উচ্ছেদ নয়, বরং সঠিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব এই গণপরিবহনকে টিকিয়ে রাখা জরুরি।
​সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে তোলা মূল আপত্তি ও প্রশ্নাবলি:
​১. রেজিস্ট্রেশন ও বিআরটিএ প্রসঙ্গ: বিআরটিএ-কে বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন)-এর মাধ্যমে ই-রিকশার নিবন্ধন প্রদান কতটুকু টেকসই বা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
​২. সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের শর্ত: চালক ও সংগঠন নেতৃবৃন্দ জানান, জাতীয় গ্রিড বা আবাসিক বিদ্যুৎ ছাড়া কেবল ‘সৌর বিদ্যুৎ’ দিয়ে গাড়ি চার্জ করার যে শর্তের কথা বলা হচ্ছে, তা বর্তমান প্রযুক্তি ও বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভব। সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি দিয়ে সারাদিন গাড়ি চালানো বাস্তবসম্মত নয়, এবং এই অজুহাতে চালকদের জরিমানার আওতায় আনা অমানবিক।
​৩. পলিটেকনিক থেকে ফিটনেস সনদের বাধ্যবাধকতা: জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে যানবাহনের ফিটনেস সনদ নেওয়ার প্রস্তাবকে জটিল ও আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলে চিহ্নিত করা হয়। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো কোনো ফিটনেস দেওয়ার লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ নয় বলে তারা উল্লেখ করেন।
​৪. জোনভিত্তিক চলাচল বিধিনিষেধ: ঢাকাকে ৮টি জোনে ভাগ করে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনাকে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং চালকদের রুটি-রুজির ওপর বড় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
​৫. নির্দিষ্ট কারখানার শর্ত: নির্দিষ্ট কিছু অনুমোদিত কারখানা ছাড়া অন্য কোথাও থেকে রিকশা কেনা যাবে না—এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মিস্ত্রি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান ধ্বংস করবে এবং এতে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট সুবিধা পাবে বলে অভিযোগ করা হয়।
​সংগ্রাম পরিষদের উত্থাপিত ৭ দফা প্রস্তাব ও দাবি:
​সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও পরিচালনা পরিষদের পক্ষে একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়:
​উচ্ছেদ বন্ধ ও আধুনিকায়ন: ব্যাটারিচালিত যানবাহন উচ্ছেদ না করে কারিগরি ত্রুটি সংশোধন, স্পিড কন্ট্রোলার স্থাপন ও নিরাপদ ব্রেক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে।
​সহজ লাইসেন্স ও নিবন্ধন: বিআরটিএ বা স্থানীয় সরকারের সমন্বিত কর্তৃপক্ষের অধীনে সহজে ও স্বল্প ফি-তে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যানবাহনের নম্বর দিতে হবে।
​চার্জিং সুবিধা ও নীতিমালা: গ্রিড বিদ্যুৎ বা সোলার বিদ্যুৎ—যেটিই হোক, ব্যাটারি চার্জিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট ও নিরাপদ চার্জিং স্টেশন গড়ে তুলতে হবে এবং হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
​চালকদের সামাজিক সুরক্ষা: সারাদেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সাথে জড়িত প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা রক্ষায় চালকদের জন্য পেনশন, স্বাস্থ্য বীমা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
​সড়ক নিরাপত্তা ও রুট নির্ধারণ: মহাসড়ক বা হাইওয়ে বাদে শহরের অলিগলি ও সংযোগ সড়কে এসব যান চলাচলের জন্য সুনির্দিষ্ট লেন বা রুট নির্ধারণ করতে হবে।
​ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা: স্থানীয় মেকানিক ও ক্ষুদ্র তৈরি কারখানাগুলোকে সরকারি নীতিমালার আওতায় এনে কাজের সুযোগ দিতে হবে, কোনো সিন্ডিকেট তৈরি করা যাবে না।
​মামলা ও হয়রানি বন্ধ: চালকদের ওপর পুলিশি হয়রানি, অন্যায্য জরিমানা এবং গাড়ি ডাম্পিং করার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
​সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, প্রায় ৫০ লাখ চালক ও তাদের পরিবারের রুটি-রুজি এবং কোটি মানুষের সাশ্রয়ী যাতায়াতের কথা বিবেচনা না করে কোনো একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives