বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক টানা বর্ষণ ও জোয়ারে হাটহাজারীতে জলাবদ্ধতা ! রিয়েল এস্টেট খাতে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের হানা ! আড়াই হাজারে পরীক্ষার হলে হোয়াটসঅ্যাপে নকল সরবরাহ কারীরা বহাল,আবার চলছে নকল সরবরাহ জাতীয় সংসদের সামনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) ৪০ বছর পর এমন ঘটনার সাক্ষী হলো ব্রাজিল বিশ্বকাপ শেষে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন নেইমার দুপুরের মধ্যে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে হুঁশিয়ারি সংকেত বেলিংহামের দুই মিনিটে দুই গোল, একটি শোধ করল মেক্সিকো জাল ভিসা দিয়ে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

স্থবির পথের স্বপ্নহারা নগর

মোঃ: আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু / ১৪৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

হয়েছে মেট্রোরেল, হয়েছে ঝকঝকে পাকা পথ,
তবু কেন থেমে যায় শহরের চলার রথ?

উন্নয়নের আলো জ্বলে নগরের প্রতিটি প্রান্তে,
তবু ক্লান্তি নামে নীরবে দিনের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে।

ভোরের আগেই শহর জাগে হর্নের তীব্র সুরে,
ধুলো-ধোঁয়ার মিশ্র ঢেউ ভাসে ব্যস্ততার ঘোরে।

কেউ ছুটে যায় কর্মক্ষেত্রে জীবিকার সন্ধানে,
স্বপ্নগুলো আটকে থাকে জ্যামের অবরুদ্ধ বেষ্টনে।

রাজপথজুড়ে জমে থাকে যানবাহনের দীর্ঘ সারি,
একটু এগোনোর আশায় সময় হয় ভারী ভারী।

সিগন্যাল জ্বলে নিয়ম থাকে, মানে না অনেক প্রাণ,
অব্যবস্থার অন্ধকারে হারায় নগরের গান।

অপরিকল্পিত নগরপথে বাঁকা পথের জটিল রেখা,
দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থায় নেমে আসে স্থবিরতা দেখা।

নিয়ন্ত্রণহীন প্রবাহে ছুটে চলে এলোমেলো ধারা,
শহরের বুকে নীরব দহন, ক্লান্ত জীবনের কারা।

রাস্তা খুঁড়ে চলে বারবার পানির সংযোগের কাজ,
গ্যাস, বিদ্যুৎ, তারের জালে থেমে যায় চলার সাজ।

টেলিফোন নেটওয়ার্ক সংস্কারে ভাঙে পথের শরীর,
নিম্নমানের নির্মাণে জন্ম নেয় দুর্ভোগের ভিড়।

কাজ শেষ না হতেই আবার শুরু নতুন খোঁড়াখুঁড়ি,
শহরের বুকে জেগে ওঠে অস্থিরতার তীব্র ঝড়ি।

এক পথ বন্ধ, অন্য পথে বাড়ে মানুষের চাপের ঢেউ,
নগরজীবন প্রতিদিনেই ক্লান্তির নীরব দেউ।

ফুটপাত দখল, বাজার ছড়া—চলাচলের সংকীর্ণ জাল,
সংকীর্ণ পথে জমে ওঠে অনিয়মের কোলাহল।

যানজটের ভিড়ে কোথাও কোথাও নেমে আসে ছায়ার খেলা,
অজান্তেই হারিয়ে যায় কষ্টের অর্জিত বেলা।
অদৃশ্য ছায়ার হাত ফাঁদ পাতে ব্যস্ততার ভিড়ে,
নগর যেন আরও ক্লান্ত, নিরাপত্তাহীন ধীরে ধীরে।

কর্মস্থলের গন্তব্যে ছুটে চলে ক্লান্ত মানুষের দল,
সময়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হারিয়ে যায় স্বস্তির ফল।

জরুরি প্রয়োজনে কেউ ছুটে যায় হাসপাতালের পথে,
জ্যামের ভিড়ে আটকে পড়ে জীবন-মরণ ক্ষণে ক্ষণে।

হর্নের তীক্ষ্ণ আঘাতে কাঁপে ক্লান্ত শহরের মন,
কালো ধোঁয়ার স্তরে ঢাকা পড়ে দিনের আলোকরণ।

ঘড়ির কাঁটা ছুটে চলে, সময় থাকে নির্মম দাস,
মানুষ বয়ে চলে শুধু দায়িত্বের নিঃশব্দ শ্বাস।

ঘরের টান আর কর্মচাপ দুই দিকেই সমান ভার,
জীবনের হিসেবখাতা ভরে ওঠে দীর্ঘ হাহাকার।

গাড়ির জ্বালানির ব্যয় বাড়ে, বাড়ে জীবনচাপের দহন,
মধ্যবিত্তের বুকের ভেতর জমে নীরব ক্রন্দন।

বাজারভরা ব্যাগের ভেতর লুকানো ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস,
অভাব যেন ছায়ার মতো জুড়ে রাখে প্রতিদিন আশ্বাস।

বাসের ভিড়ে ঝুলে থাকা ক্লান্ত শরীরের মানুষ,
তারও বুকে বেঁচে থাকে ক্ষুদ্র সুখের নীরব ধ্বনিস্রোত।

সময়মতো পৌঁছায় না কেউ, ভেঙে যায় জরুরি কাজ,
নগরজীবন প্রতিদিনই কেড়ে নেয় পথের সাজ।

তবু প্রতিটি ভোরে মানুষ আবার পথে নামে,
স্বপ্ন বুকে আশার আলো রাখে নীরব প্রহরে।

হয়তো কোনো একদিন বদলাবে এই শহরের রূপ,
শৃঙ্খলার নতুন আলোয় ফিরবে জীবনের সুখ।

হর্নের বদলে বাতাস ভরবে পাখির মধুর সুরে,
যানজটহীন নগর হাসবে সবুজের আবহে দূরে।

সেদিন ক্লান্ত মানুষ হাঁটবে মুক্ত আকাশের তলে,
স্থবির শহর জেগে উঠবে নতুন জীবনের ছলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives