সড়কের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধসহ ৫ দফা দাবিতে হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলন
সড়কের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধ, আইন অমান্যকারী মালিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে বরাদ্দসহ ৫ দফা দাবিতে শ্রমিক ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ অটোরিক্সা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।
আজ ২০ মে (বুধবার) সকাল ১১:০০ ঘটিকায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ ইব্রাহিম সর্দার, কবির হোসেন মনজু, আকরাম হোসেন মন্টু, বেলাল তালুকদার প্রমুখ।
ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সড়কে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে অসংখ্য মানুষকে অকালে প্রাণ হারাতে হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আযহাতেও বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়বেন। অনতিবিলম্বে সড়কের এই দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধ করা না গেলে আবারও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। “একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না”—এই কথা উল্লেখ করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন তারা। এই লক্ষ্যে শ্রমিক ফেডারেশন প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানানো হয়।
মালিক ও পুলিশের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ২০০৭ সালের ঢাকা-চট্টগ্রাম সিএনজি/পেট্রোল চালিত অটোরিক্সা সার্ভিস নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মালিক পক্ষ শুরু থেকেই চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দৈনিক জমা আদায় করে আসছে। ২০০২ থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চালকদের কাছ থেকে দৈনিক ২০০ টাকা করে অতিরিক্ত জমা নিয়ে মালিকেরা হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশকে প্রতি মাসে মিটার মামলা বাবদ গড়ে একজন চালককে ২০০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়, যা সামগ্রিকভাবে শত কোটি টাকায় দাঁড়ায়। পুলিশ ও বিআরটিএকে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ চালকদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় চালকেরা রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শুধু অতিরিক্ত শাস্তি ও জরিমানা বৃদ্ধি করলেই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না। গত ২০২১ ও ২০২৫ সালে সড়ক পরিবহন আইনের ২২টি ধারা সংশোধনের জন্য লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে গত বছরের ৩ নভেম্বর বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে সভা হলেও তার সিদ্ধান্ত আজ পর্যন্ত শ্রমিকদের জানানো হয়নি। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৫ দফা দাবি:
১. নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সড়কে বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধ করে আধুনিক সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
২. পরিবহন শ্রমিকসহ সর্বস্তরের শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিতে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০,০০০/- টাকা ঘোষণা করতে হবে এবং আসন্ন বাজেটে পরিবহন শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে হবে।
৩. শ্রম আইনের শ্রমিক স্বার্থ-বিরোধী কালাকানুন সংশোধন করে মালিক-শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষাকারী গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
৪. কৃষকদের ন্যায় শ্রমিকদের জন্যও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করে ন্যায্য মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।
৫. পরিবহন মালিকদের জুলুম এবং ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ করে শ্রমিকের শ্রমের সঠিক স্বীকৃতি দিতে হবে।






