ভারতে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও বিশ্বজুড়ে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘ইসলামী সমাজ’-এর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান !
ঢাকা ভারতে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং উইঘুর, ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারসহ বিশ্বজুড়ে মুসলিম এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান নির্যাতনের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘ইসলামী সমাজ’। সংগঠনটি মানব রচিত ব্যবস্থার পরিবর্তে আল্লাহর আইন-বিধান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।
সম্প্রতি সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশব্যাপী বিতরণকৃত এক লিফলেটে এই আহ্বান ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ও চলমান সহিংসতা
লিফলেটে বলা হয়, ২০১৬ সালের মে মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি (BJP) জয়লাভের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতন ও আগ্রাসন শুরু হয়েছে। সহিংসতাকারীরা মুসলিমদের মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে এবং বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে বলে লিফলেটে অভিযোগ করা হয়।
বিশ্বজুড়ে নিপীড়নের চিত্র
সংগঠনটি উল্লেখ করে, কেবল ভারতেই নয়, বরং চীনের উইঘুর, ফিলিস্তিন এবং মিয়ানমারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিম ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর অমানবিক এবং নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মানুষ সৃষ্টির সেরা পথ ভুলে যাওয়ার কারণে দুনিয়াজুড়ে হিংসা, বিদ্বেষ এবং অশান্তির আগুন জ্বলছে।
সংকটের মূল কারণ ও সমাধান:
‘ইসলামী সমাজ’-এর মতে, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী বিধান ত্যাগ করে মানব রচিত ব্যবস্থা মেনে চলার কারণেই মানুষ আজ বিশ্বজুড়ে ঐশ্বরিক আজাব ও গজবের মুখোমুখি হচ্ছে। লোভ, ক্ষমতা ও সংকীর্ণ দলীয় বা জাতীয়তাবাদী চিন্তার কারণে মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে।এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে সংগঠনটি কয়েকটি মূল দাবি ও
আদর্শের কথা তুলে ধরেছে:
আল্লাহর সার্বভৌমত্ব: “সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও নিরঙ্কুশ শাসন-কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর, মানুষের নয়”—এই মহাশূন্য ও পরম সত্যের ভিত্তিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।ধর্মীয় স্বাধীনতা: হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী আইন-বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ সুযোগ পাবে।
উগ্রবাদ ও বৈষম্যের অবসান:
আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল ধর্মের নামে সহিংসতা, উগ্রপন্থা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং সব ধরনের বৈষম্যমুক্ত একটি মানবিক বিশ্ব গঠন সম্ভব।
‘ইসলামী সমাজ’-এর আহ্বান:
লিফলেটের শেষাংশে দল, মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে পরম সত্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষা এবং শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ‘ইসলামী সমাজ’-এর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে শামিল হওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আন্তরিক উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।






