মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জেআরপিতে স্থানীয় সংগঠনগুলোর কাছে ১% এরও কম বাজেট: প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট স্থানীয়করণ ও প্রত্যাবাসন রোডম্যাপ নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর আতিকুল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন মূল আসামি সহ গ্রেফতার ৬ পাহাড়ে জুমের গন্ধ, মেঘের বসতি এবং একটি আত্মপরিচয়ের লড়াই ছন্দ সেন চাকমা যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে বিজয়ী কাউন্সিলর রানা রহমানকে অভিনন্দন ​সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব: জাতীয় প্রেস ক্লাবে মতবিনিময় সভা তামাক পণ্যের দাম বৃদ্ধির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন আমানতের আর্তনাদ কঠোর ভাবে মব জাস্টিস প্রতিরোধের আহ্বান ৮০-৯০ দশক ছাত্রনেতাদের রাজস্ব আয়ের খাত নয় টেলিযোগাযোগকে সেবার খাত হিসেবে দেখার আহ্বান টিক্যাবের তেজগাঁও কলেজ ছাত্র অধিকার পরিষদের আংশিক কমিটি গঠন

জেআরপিতে স্থানীয় সংগঠনগুলোর কাছে ১% এরও কম বাজেট: প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট স্থানীয়করণ ও প্রত্যাবাসন রোডম্যাপ

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ / ৬ Time View
Update : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটের জন্য প্রণীত যৌথ সাড়া দান পরিকল্পনায় (JRP) মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে স্থানীয় ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। মোট বাজেটের ১ শতাংশেরও কম বরাদ্দ পাচ্ছে তারা, যা স্থানীয়করণের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (CCNF) এবং ইকুইটিবিডি (EquityBD) এই বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ১০ দফা সুপারিশ পেশ করে।
​বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের জেআরপি বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পুরো কার্যক্রম এখনও ব্যাপকভাবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন। মোট ৯১৮.০৮ মিলিয়ন ডলারের বাজেটের মধ্যে ৮১.৮% সরাসরি জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো পাচ্ছে ৮.১৭% এবং জাতীয় এনজিওগুলো পাচ্ছে ৪.১৯%। অথচ সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করা স্থানীয় এনজিওগুলোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ০.০৬%, যা স্থানীয় সংগঠনগুলোকে সরাসরি অর্থায়নের সুযোগ থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বঞ্চিত করার শামিল।
​বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০টি আবেদনকারী সংস্থার কাছেই জেআরপি বাজেটের ৯১% কেন্দ্রীভূত। এর মধ্যে মাত্র ১০টি সংস্থা মোট বাজেটের ৭১% নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশেষ করে WFP (৩৪%), UNHCR (২১%), IOM (১৪%), UNICEF (১১%) এবং UNFPA (৪%) এর মতো বড় সংস্থাগুলোই মূল বাজেট ভোগ করছে। এর বিপরীতে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের (BRAC) অংশও যেকোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার তুলনায় কম।
​সংগঠন দুটির মতে, বর্তমান জেআরপি কোনো পূর্ণাঙ্গ বা সমন্বিত পরিকল্পনা নয়। বাংলাদেশ সরকার এই সংকটে বিপুল আর্থিক ও অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করলেও জেআরপি কাঠামোতে তার প্রতিফলন নেই। এটি মূলত জাতিসংঘ-নির্ভর একটি তহবিল সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় সরকার, জেলা প্রশাসন ও আরআরআরসি (RRRC)-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সীমিত।
​এছাড়াও ২০২৬ সালের জেআরপিতে ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত না করায় উখিয়া ও টেকনাফে বসবাসরত স্থানীয় মানুষ চরম উপেক্ষার শিকার হচ্ছে। ক্যাম্পের বর্জ্যের কারণে প্রায় ৩০০ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিদিন ভূগর্ভস্থ থেকে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি তোলার কারণে দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
​টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে ১০ দফা সুপারিশ:
​১. উদ্বেগ ও প্রত্যাবাসন: মানবিক সহায়তার পাশাপাশি প্রত্যাবাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।
২. ক্যাম্প নিরাপত্তা: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটেছে, তা নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
৩. অধিকার নিশ্চিতকরণ: রোহিঙ্গাদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
৪. রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন গঠন: বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এই প্রক্রিয়ার যথাযথ তদারকি ও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে একটি ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন’ গঠন করা জরুরি।
৫. জাতিসংঘের বিশেষ সম্মেলন: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে বৈশ্বিক সমর্থন জোরদার করা প্রয়োজন।
৬. স্থানীয়দের জন্য ২৫% তহবিল: স্থানীয় জনগণ ও স্থানীয় এনজিওর জন্য রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন টিমে (RCT) অন্তত ২৫% তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
৭. অর্থায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি: স্থানীয় এনজিওগুলোর তহবিল সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়াতে এবং সরাসরি দাতাদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে জেআরপিতে বিশেষ পরিকল্পনা রাখতে হবে।
৮. স্থানীয় সরকারের অংশগ্রহণ: জেআরপি প্রধান প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন ও আরআরআরসি (RRRC)-এর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
৯. বাজেটে স্বচ্ছতা: জেআরপি বাজেটে কার্যক্রম ব্যয়, পরিচালন ব্যয়, জনবল ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় পৃথকভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যেন অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে মূল অর্থ রোহিঙ্গাদের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়।
১০. পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও নাফ নদীর পানি ব্যবহার: ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে নাফ নদীর পানি শোধন করে সরবরাহ করতে হবে। একই সাথে পরিবেশের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একটি বিশেষ “পরিবেশ পুনরুদ্ধার তহবিল” গঠন করতে হবে।
​সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিসিএনএফ এবং ইকুইটিবিডি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোকে তহবিল থেকে বঞ্চিত করে এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives