২০৩০ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ: প্রেস ক্লাবে বিএলএফ-এর মানববন্ধন ও র্যালি !
২০৩০ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ: প্রেস ক্লাবে বিএলএফ-এর মানববন্ধন ও র্যালি !
“শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে “বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬” উপলক্ষে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও র্যালির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ)। কর্মসূচিতে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী জনসচেতনতা গড়ে তোলা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে সব ধরনের শিশুশ্রম নির্মূলে সকল অংশীজনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সরকার প্রতিনিধি, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফে)-র প্রতিনিধি, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি) সহ বিভিন্ন জাতীয় ও খাতভিত্তিক শ্রমিক সংগঠন, মালিক সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ভয়াবহ শিশুশ্রম চিত্র ও জাতীয় লক্ষ্য কর্মসূচিতে বক্তারা বিশ্বব্যাপী ও বাংলাদেশের শিশুশ্রমের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ শিশু চরম ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লিপ্ত রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ১৭ লাখ ৯০ হাজার শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যার মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজার শিশুই তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূলের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিএলএফ আগামী ১ থেকে ১২ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী দেশজুড়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছে। বক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও সুপারিশমালা মানববন্ধনে বিএলএফ-এর নির্বাহী পরিচালক একেএম আশরাফ উদ্দিন বলেন, “শিশুশ্রম আজ ও বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর সামাজিক ও মানবাধিকারগত চ্যালেঞ্জ। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি শিশুদের কারিগরি ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।” সেই সাথে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কোনো শিশু যেন শ্রমে নিয়োজিত না হয়, সেজন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুদের পরিবারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি। কেরানীগঞ্জ ক্ষুদ্র গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, “শিশুশ্রম নিরসনে সর্বপ্রথম পরিবারকে সচেতন হতে হবে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।” চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন প্ল্যাটফর্ম (ক্লেপ)-এর সেক্রেটারি আফজাল কবির খান তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “শিশুশ্রম নিরসনকে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সকল শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, শ্রমে নিয়োজিত শিশুদের পরিবারকে শর্তযুক্ত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যৎ আহ্বান মানববন্ধনের সমাপ্তিতে বক্তারা একটি শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের সকল অংশীজন, নাগরিক সমাজ এবং মালিক পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি আইন ও নীতিমালার কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার উদাত্ত আহ্বান জানান।







