বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দীঘিনালায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) কর্মী সুজন চাকমা নিহত ! কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩৪ লক্ষাধিক টাকার মাদক ও চোরাচালানী মালামাল উদ্ধার ! ভারতীয় স্বজনদের সহযোগিতায় কুমিল্লার চিওডায় থানায় চৌধুরী পরিবারের মা ও হ্যাকার ছেলের যৌন স্যার এবং ব্ল্যাকমেলিং ! বাংলাদেশস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে হিন্দু মহাসভার সৌজন্য সাক্ষাত নিখোঁজ সংবাদ রাঙ্গামাটিতে নিখোঁজের দুই দিন পর গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার পার্বত্য চুক্তির চেতনা ও প্রতিনিধিত্বের সংকট তারেক জিয়া পরিষদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হলেন সাংবাদিক ফিরোজ হোসেন মেঘনায় মাদক বিক্রির অভিযোগে যুবক আটক, আদালতে প্রেরণ ! প্রগতিশীল,গণতান্ত্রিক,অসাম্প্রদায়িক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের সুযোগ নষ্ট করা যাবেনা-বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

ভারতীয় স্বজনদের সহযোগিতায় কুমিল্লার চিওডায় থানায় চৌধুরী পরিবারের মা ও হ্যাকার ছেলের যৌন স্যার এবং ব্ল্যাকমেলিং !

নিজস্ব সংবাদদাতা : / ৫ Time View
Update : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

ভারতীয় স্বজনদের সহযোগিতায় কুমিল্লার চিওডায় থানায় চৌধুরী পরিবারের মা ও হ্যাকার ছেলের যৌন স্যার এবং ব্ল্যাকমেলিং !

 

ভারতীয় স্বজনদের সহযোগিতায় কুমিল্লার চিওড়া থানার চৌধুরী পরিবারের ব্যাভিচারী মা ও হ্যাকার ছেলেদের বিকৃত যৌনাচার এবং ব্ল্যাকমেইলিং এর বৃত্তান্ত
১। পারিবারিক পরিচয়:
বাংলাদেশের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া থানার জিনিদকরা গ্ৰামের বিত্তবান, প্রভাবশালী ও বনেদি বংশ হলো চৌধুরী পরিবার। যারা এলাকায় অতি সজ্জন ও দানশীল হিসেবে পরিচিত। ঢাকার কলাবাগানের বশির উদ্দিন রোডের মসজিদের গলিতে ৯/৩ নং বাড়ীর নীচতলায় বসবাস করেন এই চৌধুরী বংশেরই অযোগ্য কুলাঙ্গার সন্তান নোমান চৌধুরী (৫৩) যিনি তার যৌবন থেকেই নারী, মদ আর জুয়ায় আসক্ত বলে খ্যাত। পরিবারে আছেন তার ব্যাভিচারী স্ত্রী ফাতেমা আক্তার মুক্তা (৪৩) এবং ইয়াবা ও বিকৃত যৌন সম্ভোগে আসক্ত তাদের দুই কু-সন্তান হ্যাকার ফাহিম চৌধুরী নাফি (৩০) ও হ্যাকার আমান চৌধুরী নাকিব (২৬)। মা ফাতেমা আক্তার মুক্তা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আদি নিবাসী মজুমদার পরিবারের মেয়ে। ৭১-এ যুদ্ধের আগেই এই মজুমদার পরিবারের একাংশ ভাগ্যান্বেষণে বাংলাদেশে চলে আসে এবং কুমিল্লার চিড়া থানার পায়ের কোলা গ্ৰামে বসবাস শুরু করেন।
২। ঘটনার শুরু:
২০০৫-৬ সালে বিভিন্ন জায়গার মানুষকে ঠকিয়ে, ব্ল্যাকমেইল করে বেশ কিছু টাকা একাট্টা করে কুলাঙ্গার নোমান চৌধুরী তার পরিবারসহ ভুতের গলির এলাকায় ৭৬/৭৭ নং কেয়ার স্বপ্নপুরী বিল্ডিং এর ২য় তলায় এ-২ ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন। এঢাকারখানে তাদের অপরাuধের সঙ্গী হন একই বিল্ডিং এর ১ম তলার ই-১ ফ্লাটের গোপালগঞ্জ নিবাসী সৃজন যার বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট পাঠানোর ব্যবসা ছিল। সেই সুত্রে তার ফ্লাটে রাত ৮ টার পর থেকে ও-লেভেল, এ-লেভেলের ইয়ং স্টুডেন্ট বিশেষ করে মেয়েরা আসত যারা পরবর্তীতে রাত ২-৩ টার পর অসংলগ্ন অবস্থায় ঐ ফ্লাট ত্যাগ করত। তাদের অবস্থানকালীন সময়ে ঐ ফ্লাটের আশপাশ এলকোহল, ইয়াবা ও গাঁজর ঘ্রাণে মৌ মৌ করত। এ বিষয়ে তার বিপরীতের ফ্লাট এ-১ এর বাসিন্দা সৃজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এরূপ অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য বারংবার চাপাচাপি করলে সৃজন একদিন বাধ্য হয়ে তার কাছে থাকা এ-১ ফ্লাটের বাসিন্দার কনজুগাল লাইফের প্রাইভেট মোমেন্টের রেকর্ডেড ভিডিও মোবাইলে তাকে দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি প্রদান করে এবং পরবর্তীতে কিছুদিনের মধ্যেই নোমান চৌধুরী ও তার ছেলেদের সহযোগিতায় এলাকার উঠতি বয়সের তরুনদের সাহায্য নিয়ে প্রায় ৫০-৬০ জন মিলে ঐ ভিকটিমকে ও তার সহযোগী ২-৩ জন ছোট ভাইকে মারধর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে।
এসময় নোমান চৌধুরী ভারতীয় স্বজনদের কাছে থেকে শেখা ব্ল্যাকমেইলিং এর নতুন কৌশল বাংলাদেশে তার ছেলেদের সাথে নিয়ে ঐ এলাকার বিভিন্ন বয়স ও পেশার আরো বেশ কিছু মানুষ একত্রে মিলে ভুতের গলির আশেপাশে গ্ৰীনরোড, কলাবাগান ধানমন্ডি সহ বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে ইলেকট্রিশিয়ান, এসি মেকানিক, ইন্টারনেট টেকনিশিয়ান এবং ডিস লাইন টেকনিশিয়ান নিয়োগ করেন। তারা প্রতিনিয়ত এই সব এলাকায় রেকি করতে থাকত এবং সকল খালি ফ্লাটের কেয়ার-টেকারদের সাথে লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলে। যেখানেই নতুন ভাড়াটিয়া আসত সেখানেই সকল হোম ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য তাদের ডাক পড়ত। সার্ভিস দেয়ার সুযোগে তারা বিভিন্ন ফ্লাটের বেডরুম ও বাথরুমে সুবিধাজনক অলক্ষ্যনীয় স্থানে একাধিক ব্যাটারি সিস্টেম হিডেন ক্যামেরা (বর্তমানে সোলার সিস্টেম হিডেন ক্যামেরা) সেট করে আসত। ব্যাটারি শেষ হলে বা ক্যামেরায় কোন সমস্যা হলে সাথে সাথে ইন্টারনেটের লাইন অথবা ডিসের লাইনেও সমস্যা দেখা যায়। ফলে আবার তাদের ডাক পড়ে এবং ক্যামেরার সমস্যাও সলভ হয়ে যায়।
এভাবে ভিকটিমদের কনজুগাল লাইফের প্রাইভেট মোমেন্টগুলো বিভিন্ন অনলাইন প্রাইভেট চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে ও দেশের বাইরে ভারতসহ অন্যান্য দেশে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। আবার রেকর্ডেড ভিডিওর মাধ্যমে ভিকটিম ও তার পরিবারকে করা হয় ব্ল্যাকমেইল। এভাবে ব্ল্যাকমেইল এর শিকার হয়ে বহু ভিকটিম করেছে আত্মহত্যা, কেউবা বেছে নিয়েছে নেশার পথ আবার কেউবা হয়েছে রাস্তার পাগল। কেউবা বাধ্য

হয়েছে নিজের মেয়ে বা স্ত্রীকে অন্যের হাতে তুলে দিতে তাদের বিকৃত যৌন সম্ভোগের দাসী হিসেবে।
৩। হ্যাকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ:
ভারত থেকে ২০০৮-৯ সালে এই পরিবারের হাতে চলে আসে তৎকালীন ইসরাইলি সর্বাধুনিক সার্ভিল্যান্স হ্যাকিং প্রযুক্তি আরএনএন-৬ যা বর্তমানে পেগাসাস-৩ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে একইভাবে ২০১১-১২ সালে তাদের হাতে পৌঁছায় সর্বাধুনিক ভার্চুয়াল ক্লোনার প্রযুক্তি এবং সফটওয়্যার যার মাধ্যমে মাত্র ২ মিনিটের মধ্যে যে কোন সিম নাম্বারকে ভার্চুয়ালি ক্লোন করে সেই সিমটি যেই বাটন বা স্মার্টফোনে ইউজ করা হচ্ছে সেই ফোন সেটটির হুবহু ভার্চুয়াল ক্লোন একই ইএমআই নাম্বার সহ তৈরি করা যায়। এক্ষেত্রে ভার্চুয়ালি ক্লোন করা সিম এবং সেটটি হয়ে যায় মাস্টার এবং ভিকটিমের সিম ও সেট হয়ে যায় স্লেভ অর্থাৎ ভার্চুয়ালি ক্লোন করা সিম এবং সেটটির মাধ্যমে ভিকটিমের সকল অনলাইন প্লাটফর্ম, ব্যাংকিং প্লাটফর্মসহ ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুকও হ্যাকারদের হাতের মুঠোয় চলে আসে। ভিকটিমের সকল ব্যক্তিগত ইনফরমেশন চলে যায় হ্যাকারদের হাতে যার ফলশ্রুতিতে ভিকটিমের আর নিজস্বতা বা পার্সোনাল বলে কিছুই থাকেনা। এমনকি এমত অবস্থায় ভিকটিমের ফোন সেটটি বন্ধ থাকলেও সেটির ফ্রন্ট ক্যামেরা, ব্যাক ক্যামেরা এবং স্পিকার সম্পূর্ণ চালু থাকে। ২০২০-২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তাদের হাতে আরএনএন-১৬ যা বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধুনিক সার্ভিলেন্স ইসরাইলী প্রযুক্তি বিদ্যমান রয়েছে। প্রযুক্তিটি এমন যে স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থান গুগল ম্যাপের টপ ভিউ বা সাইড ভিউ যেমন হয় সেভাবেই প্রতি মুহূর্তের লাইভ ভার্চুয়াল ইমেজ দেখা যায় এবং যে কোন দূরত্ব থেকে ভিকটিমের লোকেশন একিউরেটলি ট্র্যাক করা সম্ভব হয়।
প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এখন আর হ্যাকারদের কোডিং শেখার প্রয়োজন হয় না বরং কেবল উপযুক্ত সফটওয়্যার ও টেকনিক্যাল ডিভাইসের নাগাল পেলেই যে কেউ এমনকি শিশু বাচ্চাও হয়ে উঠতে পারে হ্যাকিংয়ের অন্ধকার জগতের ডন।
এই পরিবার তাদের বর্তমান ঠিকানার আশে পাশের লোকজনদের এক একজনের কাছে তাদের এক এক ব্যবসা যেমন নিউমার্কেটে কাপড়ের বিজনেস, পান্থপথে ফার্নিচার বিজনেস কিংবা এলিফ্যান্ট রোডে পর্দার বিজনেস আছে ইত্যাদি বলে প্রচার করে অথচ আদতে এরকম কোন বিজনেস তাদের নেই। হ্যাকার ফাহিম (৩০) নিজেকে এসিসিএ পাশ বলে দাবি করলেও এখন পর্যন্ত ও-লেভেল পাশ করেনি এবং হ্যাকার আমান (২৬) নিজকে এ-লেভেল পাশ করে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত দাবি করলেও সেও এখনো আন্ডার ও-লেভেলই রয়েছেন। তারা তাদের ইনকামের বৈধ কোন কাগজপত্র অথবা শিক্ষাগত যোগ্যতার বৈধ কোন সার্টিফিকেট দেখাতে পারবেন না। হ্যাকিং এবং ব্ল্যাকমেইলিং-ই তাদের ইনকামের একমাত্র অবৈধ উৎস। মদ, নারী এবং জুয়ায় আসক্ত নোমান চৌধুরী তার পূর্বের ভাড়া বাসস্থান ৭৬/৭৭ ভুতের গলি থেকে ২ লক্ষাধিক টাকার উপরে ভাড়া ও সার্ভিস চার্জ বাকি রেখে ২০১৭-১৮ সালে পুরো পরিবারসহ তল্পিতল্পা রেখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
৪। কিছু বিচ্ছিন্ন কিন্তু নিয়মিত গতানুগতিক ঘটনা:
২০১৪, ১৫ ও ১৬ সালে ভুতের গলিতে অবস্থানকালীন সময়ে নোমান চৌধুরীর বাড়িতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ থেকে ১৫ বছরের গৃহ কর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়। সে সময় প্রায়শই তাদের বাসা থেকে গৃহকর্মী পালিয়ে যেত। ৫-৬ মাসের বেশি কেউ থাকতো ন। পরবর্তীতে এই গৃহকর্মীদের কারো কারো সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা যে লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা করেছে তাতে প্রমাণিত হয় নোমান চৌধুরী ও তার দুই ছেলে ইয়াবা সেবন করে নেশাগ্রস্থ হয়ে তাদের বিকৃত কাম চরিতার্থ করার জন্য এই অপ্রাপ্তবয়স্ক গৃহকর্মীদের উপর ভয়ংকর নির্যাতন চালাতো।
গৃহকর্মীদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নোমান চৌধুরী বাসায় তার ছেলেরা প্রায়শই বন্ধুদের নিয়ে রাতে নেশার আড্ডা বসতো। সেই আড্ডায় অনেক মেয়েই উপস্থিত হতো এবং থাকতো যাদের আচার-আচরণ ও বেশভূষায় বোঝা যেত সেখানে তাদের উপস্থিতি ও আত্মসমর্পণ কেবল স্বেচ্ছায় বাধ্যবাধকতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
তাদের থেকে আরো জানা যায় যে, অনেক মেয়ে এবং মহিলা সেই সময় জুয়াড়ি নোমান চৌধুরীর রাতের সঙ্গী ছিলেন। কখনো এমনও হয়েছে যে ছেলেরা পালাক্রমে অথবা কখনো কখনো একত্রে নিঃসঙ্গ মায়ের সাথে ঘুমোতে যেত। ব্যাভিচারী মা ফাতেমা আক্তার মুক্তা মূলত তার ছেলেদের কে নিয়ে ভিকটিম এবং তার পরিবারকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য মোবাইলে ভিকটিমের কনজুগাল লাইফের প্রাইভেট মোমেন্টের এর ভিডিও নিয়ে ভিকটিমের বাসায় যায় এবং ভিকটিমের স্ত্রী বা মেয়ে কে সেই ভিডিও দেখিয়ে অনৈতিক কর্মে লিপ্ত হতে প্রভাবিত করে।

৫। গ্রামীণফোন সহ অন্যান্য অপারেটর এবং আইটি ফার্মের সাথে হ্যাকারদের সম্পৃক্ততা:
এই বিকৃত মানসিকতার হ্যাকারদের সাথে সম্পৃক্ত অনেকেই গ্রামীণফোন সহ দেশের প্রায় সকল মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর বড় বড় পদে চাকরি করছেন। তাদের নিজস্ব আইটি ফার্ম আছে এবং তাদের লোকজন বিভিন্ন আইটি ফার্মে চাকরিরত আছেন। যে কারণে যেকোনো এনআইডি তে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ছাড়া সিম রেজিস্ট্রেশন, এনআইডি থেকে এনআইডি তে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ছাড়া সিম ট্রান্সফার এবং যেকোনো এনআইডি থেকে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ছাড়াই সিম ডিএক্টিভেশন এর মত ঘটনার সাথে তারা সরাসরি জড়িত।
দেশের অভ্যন্তরীণ অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সমূহ দেশের বাইরে পাচারের সাথে সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভিকটিমের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়ীক গোপন তথ্য ব্যবসার সাথেও তারা জড়িত। ভিকটিমের অনলাইন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম এবং হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ভাইবার এর মত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ফেসবুক ও ইন্সটাগ্ৰামের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকায় প্রায়শই অনেক বড় অংকের টাকা তারা ভিকটিমের মেসেজে আসা ওটিপি ব্যবহার করে বিকাশ অথবা অনলাইন ব্যাংকিং থেকে উত্তোলন করে নেয়। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ইমেইলের টেক্সট পর্যন্ত তারা ম্যানিপুলেট করে এডিট করতে পারে।
হ্যাকারদের সাথে সম্পৃক্ত অনেকেই দেশীয় বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্টের সাথে জড়িত থাকার কারণে আমরা মোবাইলে দেশীয় যে অ্যাপসগুলো ব্যবহার করি এবং সেগুলো স্মার্টফোনে ইন্সটল করে স্মুথ অপারেশনের জন্য স্মার্ট ফোনে যে বিভিন্ন পারমিশন আমরা দেই তার মাধ্যমে আমাদের ফোন সেটের নিয়ন্ত্রণ বহুলাংশে তাদের হাতে চলে যায়। এভাবেও তারা আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য হাসিল করে থাকে।
৬। হ্যাকারদের সাথে হানি ট্র্যাপ চক্রের সংশ্লিষ্টতা:
২০১২-১৩ সালেই ভিকটিম লক্ষ্য করেন যে হ্যাকারদের সাথে একদল স্মার্ট, সুদর্শন এবং একটু এলিট শ্রেণীর তরুণ-তরুণীদের যথেষ্ট সখ্যতা রয়েছে। এরাই মূলত হ্যাকারদের হানি ট্র্যাপ টিম। এই টিমের মেয়েরা ভয়ংকর সুন্দরী এবং আবেদনময়ী। এদের সাথে কথা বললে যে কোন বয়সের যে কেউ খাবি খেয়ে যায়। ছেলেগুলো বেশ স্মার্ট আর ইন্টেলিজেন্ট। এই টিম সাধারণত যে কোন লেভেলের মানুষ কে কনভিন্স করতে পারে এবং বিভিন্ন উপর মহলে এরা নেগোসিয়েশনের কাজ করে থাকে।
২০১৭ এবং ২০১৮ সালে প্রথমে ৩ দিনের জন্য এবং পরে ১৫ দিনের জন্য, ভিকটিম হ্যাকারদের সাথে ভারতের সম্পৃক্ততার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে বাংলাদেশে থেকে ব্যবসায়িক সফরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভ্রমন করেন। এই উভয় ভ্রমণেই ঐ হানি ট্র্যাপ চক্রের একাধিক কাপল গ্ৰুপ ভিকটিমের সাথে প্রতি ভ্রমণেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভ্রমনের সময় এবং দেশে ফিরে আসার সময় প্লেনে প্রতিবার তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন যা চরমভাবে অস্বাভাবিক। দ্বিতীয়বার ভ্রমণের সময় ভিকটিম ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হ্যাকারদের পরিবারের একাধিক অংশের বাসস্থান এবং তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত হন।
৭। ভিকটিমের পদক্ষেপ:
২০১১ সাল থেকে ভিকটিম হয়ে আজকের তারিখ পর্যন্ত একজন ভুক্তভোগী নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ২০১২-১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি বহু প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং বন্ধুবান্ধব অনেকের কাছেই হ্যাকারদের উপরোক্ত কার্যক্রমের বিষয়ে প্রমান সহ আলোকপাত করেন এবং সাহায্য প্রার্থনা করেন। প্রায় সকলেই প্রাথমিক অবস্থায় ভিকটিমকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন কিন্তু যোগাযোগের এক সপ্তাহের মধ্যেই সাহায্যকারী ব্যক্তি হ্যাকারদের হানি ট্র্যাপ অথবা মানি ট্র্যাপ অথবা উভয় ট্র্যাপে পড়ে ভিকটিমকে সহযোগিতা না করে অসহযোগিতা করতে বাধ্য হন অর্থাৎ কম্প্রোমাইজড হয়ে যান। ভিকটিম ২০১৮ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আসামিদের বিপক্ষে মোট ৫ টি জিডি ও ২ টি মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত জিডি ও মামলা সমূহের সকল আইও আসামিদের মাধ্যমে কম্প্রোমাইজড হয়ে যান। পরবর্তীতে আসামিদের ফোন নাম্বারের সিডিআর রেকর্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে আসামিরা ২০২৫-২৬ সালে ভিকটিমের সাথে যোগাযোগকৃত সকল সাহায্যকারীর সাথে ফোনে কন্টাক্ট করে এবং তাদেরকে হানি ট্র্যাপ অথবা মানি ট্র্যাপ অথবা উভয় ট্র্যাপে ফেলে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে।
৮। জিডি ও মামলাসমূহ:
(ক) জিডি নং: ১২৩৪
তারিখ: ২৪/০২/২০২৬
ধানমন্ডি থানা
(খ) জিডি নং: ১৭৬০
তারিখ: ২০/০১/২০২৬
শেরেবাংলা নগর থানা
(গ) পিটিশন মামলা: ৪৫৫/২৫
তারিখ: ০৬/০১/২০২৬
সাইবার ট্রাইব্যুনাল কোর্ট, ঢাকা
(ঘ) জিডি নং: ২৪৯
তারিখ: ০৩/১১/২০২৫
সাভার মডেল থানা
(ঙ) জিডি নং: ১৪৭৬
তারিখ: ২৪/০৮/২০২৫
কলাবাগান থানা
(চ) সি, আর, মামলা নং: ১০৫৯/২৫
তারিখ: ১৮/০৬/২০২৫
চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সাভার), ঢাকা
(ছ) জিডি নং: ৩৬৬
তারিখ: ০৭/০৮/২০১৮
ধানমন্ডি থানা

৯। প্রকাশনা সমূহ:
ভিকটিম এই বিকৃত রুচি ও মানসিকতার হ্যাকারদের ইনোসেন্ট চেহারার আড়ালের লুকিয়ে থাকা প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচিত করে সত্য প্রকাশের লক্ষ্যে একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে এ বিষয়ে প্রমাণ সহ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। অনলাইনে ফেসবুকে কমপক্ষে ৪০০০ গ্ৰুপ সহ অন্যান্য সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যম যেমন হোয়াটসঅ্যাপে প্রচারিত প্রায় ৬০০০ পোস্ট হ্যাকাররা ফেসবুক গ্ৰুপ ও হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারের এডমিনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পোস্টগুলো ডিলিট করে ফেলে এবং ভিকটিমকে গ্ৰুপ থেকে বের করে দেয় যার মধ্যে বাংলাদেশের সাইবার-৭১ সহ হ্যাকিং এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী ২৬ টি হোয়াইট হ্যাকার গ্রুপও রয়েছে।
(ক) “হ্যাকারদের কবলে দেশের সাধারণ মানুষ- আপনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা গোপনীয়তা হুমকির সম্মুখীন”
প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক বঙ্গ সংবাদ
তারিখ: মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫
(খ) “ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে দেশীয় হ্যাকারদের সার্বজনীন গোপন নজরদারি!!! জিম্মি হয়ে আছে কমপক্ষে ১৬ কোটি জনগণ ও দেশের সার্বভৌমত্ব!!!”
প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক খোলাবাজার
তারিখ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
১০। হ্যাকারদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সমূহ:
(ক) প্রধান আসামিদের সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোবাইল নাম্বারের সিডিআর রেকর্ডের মোট ৫৬ পাতা স্ক্রিনশট (প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রাপ্ত) যেখানে প্রমাণিত হয়েছে যে হ্যাকার সহদোরেরা ভিকটিমের যোগাযোগ কৃত সাহায্যকারী কন্টাক্ট সমুহের সাথে নিজ উদ্যোগে যোগাযোগ করেছে। যার ফলশ্রুতিতে ওই সাহায্যকারী কন্টাক্ট গুলো পরবর্তীতে ভিকটিমকে আর কোন সাহায্য করেনি।
(খ) হ্যাকারদের সাথে ভিকটিমের বিভিন্ন সময়ের কল রেকর্ড যা প্রকৃতপক্ষেই অকাট্য প্রমাণ। অকারণে বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্নভাবে তাদের অযাচিত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যাচার প্রমাণ করে তাদের প্রকাশিত মিথ্যার বেষ্টনীর আড়ালে লুকিয়ে থাকা গোপন সত্যের উপস্থিতি।
(গ) হ্যাকারদের সাথে সম্পৃক্ত একজনের সাথে কল রেকর্ড যেখানে সে একাধিকবার হ্যাকিং এবং ব্ল্যাকমেইলিং এর সাথে আসামিদের জড়িত থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে।
(ঘ) ২০১৪ সালে নির্যাতিত হওয়া একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক গৃহকর্মীর বর্তমানে পরিণত বয়সে অতীতের নির্যাতন এবং ঐ পরিবারের অন্যান্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও।
(ঙ) কলাবাগানের বশির উদ্দিন রোড এলাকায় হ্যাকারদের নিজ বাসস্থানে অবস্থানকালীন সময়ে স্থানীয়দের জেরার মুখে হ্যাকার আমান চৌধুরী নাকিবের তাদের দুই ভাইয়ের হ্যাকিং এর সাথে জড়িত থাকা এবং এ বিষয়ে একজন স্থানীয় ক্ষুদে নেতার সাথে ডীল করার বিষয়ে স্বীকারোক্তি।
(চ) বাংলাদেশের সাইবার-৭১ সহ হ্যাকিং এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী ২৬ টি হোয়াইট হ্যাকার গ্রুপ সহ ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৬০০০ গ্ৰুপ এডমিনের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে রয়েছে।
(ছ) স্থানীয় ৪-৫ উশৃংখল কিশোর এই ডীলের বিষয়ে হ্যাকার আমান চৌধুরী নাকিবের সাথে যোগাযোগ করে ফিটিং খেতে চাইলে নাকিব তাদেরকে বাসার ভেতরে নিয়ে ইয়াবা সেবন করে একত্রে বিকৃত যৌন সম্ভোগের জন্য প্রস্তাব দেয়।
(জ) হ্যাকিং এর সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী হ্যাকার পরিবারের একাধিক অংশের সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।
(ঝ) হোয়াটসঅ্যাপে তথ্য আদান-প্রদান এর নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যানিপুলেশন এর অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।
(ঞ) হ্যাকারদের মাদক সংশ্লিষ্টতা বিশেষ করে ইয়াবা সেবন এবং এর প্রসার এর সাথে সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।
১১। হ্যাকারদের প্রতিরোধে ভিকটিমের শেষ পর্যায়ে উদ্দ্যোগ:
কোথায়ও কারো কাছে কোন সহযোগিতা না পেয়ে ভিকটিম বাধ্য হয়ে হ্যাকারদের স্থায়ী ঠিকানা কুমিল্লায় চৌদ্দগ্রামের চিওড়া থানার জিনিদকরা গ্ৰামের চৌধুরী পরিবারের মুখপাত্র শশী চৌধুরীর সরণাপন্ন হন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস যে শশী চৌধুরী ভিকটিমের সাথে কোন কথা না বলে ঢাকায় ধানমন্ডির একটি লোকেশনে ভিকটিমকে দেখা করতে বলেন যদিও তিনি তাঁর মোবাইল নাম্বারটা ভিকটিমের সাথে শেয়ার করতে অস্বীকৃতি জানান। ভাবি সাক্ষাতের অনিশ্চয়তার টেনশনে ভিকটিম ৫ দিন ধরে ঐ এলাকায় অবস্থান করে অবশেষে স্থানীয় সরকার দলীয় একজন নেতার সহায়তায় শশী চৌধুরীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে সমর্থ হন। ফোনে ঢাকায় দেখা করার নিশ্চয়তা পেয়ে ভিকটিম ঢাকায় ফেরত আসেন এবং নির্দিষ্ট দিনে সময়মত সাক্ষাতের জন্য ধানমন্ডি যান। সেখানে শশী চৌধুরীকে তাদের পরিবারের সদস্যদের এই কলংকময় বিকৃত আগ্রাসন সম্পর্কে প্রমাণ সহ অবহিত করে এর প্রতিরোধের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করলে শশী চৌধুরী ভিকটিমের কোনো আবেদনে কর্ণপাত না করে পুরো বিষয়টি উপেক্ষা করত কোনো সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে এ বিষয়ে শশী চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোন মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান যা পক্ষান্তরে হ্যাকারদের পক্ষে তার পরোক্ষে মদদকেই প্রতীয়মান করে।
১২। বিকৃত হ্যাকার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করুন:
(ক) ফাহিম চৌধুরী নাফি: ০১৬২৫-০৫৭১১৫
(খ) আমান চৌধুরী নাকিব: ০১৮৫০-৩১০৭০৪
(গ) ফাতেমা আক্তার মুক্তা: ০১৯১১-৩০৮৫৪৯
(ঘ) নোমান চৌধুরী: ০১৮১৯-২৭১০৩২
১৩। উপরোক্ত ঘটনা বিন্যাসে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দের প্রতিটি অক্ষরের পক্ষে অকাট্য দলিল ও প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে দয়া নীচের দেয়া নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ অথবা ডাইরেক্ট কলে যোগাযোগ করুন: ০১৩২১-৭৫০৬২৬ / ০১৮০৬-৬৪৮১০৯
১৪। তথ্যসূত্র:
(ক) দৈনিক বঙ্গ সংবাদ
(খ) দৈনিক খোলা বাজার
(গ) দৈনিক রুদ্র বাংলা
(ঘ) দৈনিক অগ্নিশিখা
(ঙ) দৈনিক স্বাধীন সংবাদ
(চ) অনলাইন শীর্ষ খবর
(ছ) অনলাইন ক্রাইম রিপোর্ট ২৪
(জ) আল-জাজিরা, বাংলাদেশ
(ঝ) প্রজন্ম টিভি
(জ) ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোর্টার্স ফাউন্ডেশন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives