বিশ্বে নতুন নজির: গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা করল মাস্কের ‘এক্সএআই’
বিশ্বে নতুন নজির: গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা করল মাস্কের ‘এক্সএআই’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুলের অপব্যবহার ঠেকাতে আইনি লড়াইয়ের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো প্রযুক্তি বিশ্বে। প্রথমবারের মতো কোনো এআই কোম্পানি নিজের এক ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
পরিষেবার শর্ত ভঙ্গ এবং সুরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে মামলাটি করেছে ইলন মাস্কের এক্সএআই (xAI)।
গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা টেরি হারউড নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।
১২ পৃষ্ঠার অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত হারউড ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এক্সএআইয়ের চ্যাটবট গ্রোক-এ একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। তিনি গ্রোকের সুরক্ষা ব্যবস্থা এড়ানোর জন্য এমন প্রম্পট দেন, যাতে গ্রোকের নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়ানো যায়। এরপর সাধারণ কিছু ছবি আপলোড করে সেগুলোকে বিকৃত বা যৌন উত্তেজক ছবিতে রূপান্তরের চেষ্টা করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হারউড ছবিগুলোকে যৌন আবেদনময়ী করার জন্য গ্রোককে নির্দেশ পাঠাচ্ছিলেন। তবে সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘনের কারণে গ্রোক তা তৈরি করতে অস্বীকার করছিল। কিন্তু হারউড মডারেশন প্রচেষ্টাকে পাশ কাটাতে বারবার প্রম্পট পরিবর্তন করে বাধ্য করার চেষ্টা চালান।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এক্সএআই আদালতের কাছে হারউডের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে। পাশাপাশি, প্ল্যাটফর্মটি থেকে তাকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার আদেশও চাওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনা ও আইনি কড়াকড়ির মুখেই এক্সএআই মামলাটি দায়ের করেছে। এর আগে প্ল্যাটফর্মটিতে আপত্তিকর ও যৌন উত্তেজক বিষয়বস্তু তৈরির সুযোগ থাকার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। গ্রোক ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের রোষানলে পড়ার পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াতে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে।
যদিও চলতি বছরের জানুয়ারিতে সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে ইলন মাস্ক গ্রোকের মাধ্যমে শিশুদের কোনো ধরনের যৌনতাপূর্ণ বা নগ্ন ছবি তৈরির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিলেন।






