শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মামলা থেকে মুক্তি পেলেন রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার শখের’ যুদ্ধই এখন ট্রাম্পের গলার কাঁটা, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে উপায় কি? পূর্ব চীনের উপকূলে তৃতীয়বার আঘাত হানল টাইফুন ‘সাউতেল’ বাপার প্রশিক্ষণ শেষে কাজ পেলেন ২০ হাজার ৮০৫ জন মিসাইল হামলায় ইরানে বিয়েবাড়িতে প্রাণহানি, তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র: ভ্যান্স ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নে আইডিবির ১ হাজার ৪ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া কোনো স্লোগান নয়, পরিকল্পনা : প্রধানমন্ত্রী প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ

 আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা  

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা 

সিডও সনদের ধারা-২ এবং ধারা-১৬, ১(গ) থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার কর; নারীর নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় সম্পদ-সম্পত্তিতে সমান অধিকার নিশ্চিত কর’-এই দাবিতে আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে আজ, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সকাল ১১:০০টায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম এনালিস্ট ও ইউনিট  ম্যানেজার (জেন্ডার রেসপনসিভ গভর্ন্যান্স) তপতী সাহা এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সিপিডি’র সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সম্মানিত আলোচক হিসেব উপস্থিত ছিলেন উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি দীপ্ত ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং জাকিয়া কে হাসান, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাড. সালমা আলী, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমী, স্টেপস্ টুওয়ার্ডস ডেভলপমেন্টের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর চন্দন লাহিড়ী, ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি ইশরাত জাহান ঊর্মি, উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি।

সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্তর্জাতিক উপপরিষদের সদস্য লুনা নূর এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি বলেন সিডও সনদের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গিকার দীর্ঘদিনের। সিডও শ্যাডো রিপোর্ট প্রণয়ণকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বে সাথে দেখে। এই রিপোর্টে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে সকল স্থানে ঘাটতি আছে সেখানে গুরুত্ব দিতে হবে এবং যে অর্জনগুলো হয়েছে সেগুলো নিয়েও আলোচনা করতে হবে। আজকের দাবি তিনি সংসদে তুলে ধরবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সকল নারীর সমান অধিকার থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন। ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম এনালিস্ট ও ইউনিট ম্যানেজার (জেন্ডার রেসপনসিভ গভর্ন্যান্স) তপতী সাহা বলেন, সকল বৈষম্য দূর করার আন্তর্জাতিক মানদন্ড- ২০১৬ সালে সিডও কমিটি তাদের অবজারভেশনে এই সনদের দুটি ধারা সংরক্ষণের ব্যাপারে পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছিল। আগামী বছরও তারা রিপোর্ট দেবে। সেখানে গত ১০ বছের আগ্রগতি কি হলো তা-ও উঠে আসবে। কিন্তু এখনো সিডও – এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলো না। সিডওর  জেনারেল রেকমেন্ডেশন (জিআর)-৪০ অনুযায়ী নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ ৫০: ৫০ হতে হবে। কাজেই শুধু অনুমোদন নয়, কাঠামোগত বাস্তবায়ন ও লক্ষ্য অর্জনে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম,

 বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সিপিডি’র সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আরও বাস্তবসম্মতভাবে চিন্তা করতে হবে কেন ৪০ বছরের সিডও বাস্তবায়ন হলো না। একদিকে সরকারের সদিচ্ছা, অন্যদিকে সমাজের বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। বহুত্বকে গুরুত্ব দিয়ে সকলকে সাথে নিয়ে জাতীয়ভাবে আলোচনা করতে হবে। টেকনিক্যাল সমাধান খুজে বের করতে হবে। আমরা আশা করি বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে আরও উদ্যোগী হবেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, জাতীয় সংসদে বৈষম্য-বিরোধী আইন পাশ হলে সিডও’র এই দুটি ধারা সংরক্ষণ রাখার প্রয়োজন নেই। কাজেই এই সংরক্ষণ বিলোপ হলে বরং সরকারেরই কাজের সুবিধা হবে। আবার সংরক্ষণ প্রত্যাহার না করলে সংবিধানে যে সমতার কথা বলা হয়েছে তা-ও বাধাপ্রাপ্ত হবে। সিডওর পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন ও বাস্তবায়ণ করতে হলে বাংলাদেশে সিডও’র ‘ফোকাল পয়েন্ট’ থাকা উচিত। সেটা কোথায় হবে, কীভাবে তা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত  নিতে হবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, আজ সারা বিশে^ একযোগে সিডও দিবস পালিত হচ্ছে। বৈশি^ক নারী আন্দোলনের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক জায়গায় নারী এগিয়ে গেলেও বর্তমানে সে জায়গুলোতে নারীরা আবার পিছিয়ে পড়ছে। নারীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে। এ প্রভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে অবশ্যই সিডও সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। কারণ নারী-পুরষের সমতা এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সিডও এটি গুরুত্বপূর্ণ ‘টুল’ সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি এবং দীপ্ত ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং জাকিয়া কে হাসান বলেন, গত তিন দশক ধরে দেশে-বিদেশে, ঘরে-বাইরে আমরা সিডও সম্পর্কে প্রচার করছি। এই আলোচনাগুলোই বারবার উঠে এসেছে কিন্তু ‘স্টাকচারড ওয়েতে’ আমরা আগাতে পারি নি। যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত সিডও বাস্তবায়ন হবে নাÑকারণ সরকার নেতৃত্ব নিলে কাজটা সহজ হবে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাড. সালমা আলী বলেন, নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে প্রত্যাশা তারা আগামী সংসদে সিডওর পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন দিবে ইতোমধ্যে ভারত, নেপাল এটার পূর্ণ অনুমোদন করেছে। একসেস টু জাস্টিস, ঘরে বাইরে কর্মক্ষেত্রে, এবং সম্পদ-সম্পত্তিতে নারীর সমতা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমী বলেন, ধারা-২ কে বলা হয় সিডওর প্রাণ। এখানে বৈষম্যকে নিন্দা করতে এবং বৈষম্য নিরসনে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এমনকি সংবিধানে বৈষম্যপূর্ণ আইন থাকলেও তা বাদ দিতে হবে এবং প্রয়োজনে নতুন আইন তৈরি করতে হবে। এমনকি কোনো ব্যক্তি বৈষম্যমূলক আচরণ করলে সেক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভাবমুর্তিও জন্যও বৈষম্য নিরসন করতে হবে স্টেপস্ টুওয়ার্ডস ডেভলপমেন্টের প্রোগ্রাম কো অর্ডিনেটর চন্দন লাহিড়ী সরকারের কাছে দুটো ধারা থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহারের সরাসির দাবি জানান ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি ইশরাত জাহান ঊর্মি বলেন সম্পত্তিতে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা আসলেই পুরুষ সমাজ ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া দেখায়  কিন্তু সম্পত্তি শুধু টাকা নয়, দরকষাকষির ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। সংবিধানে নারী-পুরুষ সমান কিন্তু বাবার সম্পত্তিতে কন্যার সমঅধিকার নেই। এটা প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অনেক ঝুঁকি আসবে তবে আইনগতভাবে সমাধানের পথ বের করতে হবে। উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি বলেন, অন্যান্য ইসলামিক রাষ্ট্র যেমন তুরস্ক বা সৌদি আরব সিডওর কোনো ধারায় অবরোধ রাখে নাই। কাজেই রাষ্ট্রকে নারীবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে সিডও বাস্তবায়ন জরুরি এছাড়াও মুক্ত আলোচনায় গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও প্রাক্তন উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, সেইফগার্ড সাপোর্ট অ্যান্ড রিসোর্স হাবের কান্ট্রি লিড বাংলাদেশ কাশফিয়া ফিরোজ, বহ্নিশিখার প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর পরিচালক সামিনা ইয়াসমিন, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফেরদৌসি সুলতানা; ডা. ফেরদৌস আরা বলেন, সেইফগার্ড সাপোর্ট অ্যান্ড রিসোর্স হাবের সেইফগার্ডিং অ্যাডভাইজার ফেরদৌস নাহিদ এবং ইউএনডিপির জেন্ডার অ্যানালিস্ট শামীমা শাম্মী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা সবাই সম্পদ-সম্পত্তিতে সমঅধিকারসহ নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সিডও সনদের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন জরুরি বলে মত দেন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. সিউতি সবুর সভায় সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির প্রতিনিধিবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সহসভাপতিম-লী ও সম্পাদকম-লী,  কর্মকর্তাগণ ও সাংবাদিকসহ মোট ৩০০ জন উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives