কাজী নজরুল ইসলামকে উদযাপন: সংস্কৃতি, সাহিত্য ও বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের এক অনন্য সন্ধ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কবিতা, সঙ্গীত ও তাঁর কালজয়ী অবদানের স্মরণে ও উদযাপনে ‘দ্য রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা’ ভারতের ‘ছায়ানট (কলকাতা)’-এর সহযোগিতায় এক বিশেষ সাংস্কৃতিক ও স্মারক সন্ধ্যার আয়োজন করে।
স্বাগত বক্তব্যে ‘দ্য রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা’-র পরিচালক আলেকজান্দ্রা এ. খলেভনয় কাজী নজরুল ইসলামকে একজন কালজয়ী কবি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নজরুলের বাণী ধর্ম, শ্রেণি, ভাষা, ভৌগোলিক সীমানা ও কালের গণ্ডি পেরিয়ে স্বাধীনতা, সাম্য, প্রেম, মানবতা ও আশাবাদের মতো সর্বজনীন মূল্যবোধকে ধারণ করে। এছাড়া তিনি নজরুলের সাহিত্যজগৎ এবং রুশ ও সোভিয়েত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যকার অর্থবহ সংযোগের ওপর আলোকপাত করেন; বিশেষ করে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সাহস, সহানুভূতি ও মানবিক মর্যাদার মতো অভিন্ন বিষয়গুলোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানটির একটি উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে ছিল কাজী নজরুল ইসলামের ওপর রুশ ও সোভিয়েত সাহিত্যের প্রভাবের বিষয়টি। ‘দ্য রাশিয়ান হাউস’-এর রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষার্থীরা নজরুলের নির্বাচিত কিছু কবিতা রুশ ভাষায় পরিবেশন করেন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় কবির সৃষ্টি এক ভিন্ন ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত হয়।
সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটি ও এমজিআইএমও (MGIMO) ইউনিভার্সিটির রুশ গ্র্যাজুয়েট (যারা বাংলা ভাষা শিখেছেন) এবং রাশিয়ায় বর্তমানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত ভিডিওর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার অব্যাহত সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্কের বিষয়টিও এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় নজরুল সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশিত হয়; যার মধ্যে ছিল ‘মেঘের ডমরু ঘন বাজে’ ও ‘এই রাঙা মাটির পথে’ গানগুলোর পরিবেশনা। সেরভ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এর শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত দলীয় নৃত্য ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
ছায়ানট (কলকাতা)-এর একটি সাংস্কৃতিক ভিডিও উপস্থাপনায় কাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচিত কিছু কবিতা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পরিবেশন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে ‘সমসাময়িক বিশ্বে কাজী নজরুল ইসলামের প্রাসঙ্গিকতা’ বিষয়ক একটি বিশেষ আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাঁর সাহিত্যিক ও মানবতাবাদী দর্শনের অব্যাহত গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করা হয়।
এই সন্ধ্যাটি বাংলাদেশের সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সাথে রাশিয়া ও ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটানোর একটি অর্থবহ সাংস্কৃতিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করে এবং একই সাথে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী জন-সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে।







