রাঙ্গামাটিতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ
রাঙ্গামাটির কাউখালীতে ‘কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর সরকারি উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবি, নির্মাণকাজ বন্ধের হুমকি এবং কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন কাউখালী উপজেলার ৪ নম্বর কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. ইসমাইল হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইসমাইল হোসেন জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এমএস এন্টারপ্রাইজ’ কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উন্নয়নকাজের দায়িত্ব পায়। লিখিত চুক্তি অনুযায়ী তিনি ওই প্রকল্পে নির্মাণ সামগ্রী ও মালামাল সরবরাহ করছিলেন। তবে কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বাধা সৃষ্টি করে আসছে।
অভিযোগ করা হয়, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের বিএনপির নেতা-কর্মী পরিচয় দিয়ে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা চলমান কাজে বাধা দেয় এবং জোরপূর্বক কাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরের নির্দেশে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম, কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাছির ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমের নেতৃত্বে কিছু লোক কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা শ্রমিক ও কর্মীদের ওপর প্রকাশ্য হামলা চালায়।
হামলায় কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
ইসমাইল হোসেন বলেন, “রাজনৈতিক পরিচয় কোনো অপরাধের লাইসেন্স হতে পারে না। সরকারি উন্নয়নকাজে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস আমরা মেনে নেব না।” এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সাথে তিনি কর্মরত কর্মীদের নিরাপত্তা এবং সরকারি কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা চান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইব্রাহীম, কাউখালী কলেজের ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক আরমান এবং উপজেলা ছাত্রদল নেতা মেহরাজ সরকার রাজু।
অভিযোগ অস্বীকার ও পাল্টা দাবি
চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম বলেন, “এলাকার কিছু অসৎ ও সাবেক ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী ছেলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি বা আমাদের দল এই ঠিকাদারি কাজের সাথে জড়িত নই, এমনকি ঠিকাদারকেও চিনি না।”
তিনি পাল্টা দাবি করেন, গত সোমবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এলাকায় গণসংযোগ চালানোর সময় উক্ত চক্রটি তাদের ওপর হামলা চালায়, এতে বিএনপির কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনার লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় পৌঁছায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







