বিশ্বজয়ী কোচের হতাশাজনক বিদায়, টানা হারে ফরাসি ডাগআউট ছাড়লেন দেশম
বিশ্বজয়ী কোচের হতাশাজনক বিদায়, টানা হারে ফরাসি ডাগআউট ছাড়লেন দেশম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিদায়টা যে এতটা নাটকীয় ও তেতো হবে, তা হয়তো কোনো ফরাসি সমর্থক কল্পনাও করেননি। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ফরাসি ডাগআউট সামলানো প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমের বিদায়ী ম্যাচটি রূপ নিল এক চরম গোল উৎসবে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করল লেস ব্লুসরা।
প্রথমার্ধে মাঠের ভেতর ফরাসি ফুটবলারদের চরম উদাসীনতা ও ঘুমন্ত পারফরম্যান্সের কারণে প্রথমার্ধেই ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তারা। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া জোড়া গোল ও সতীর্থদের লড়াইয়ে ব্যবধান ৬-৪ এ নামিয়ে কিছুটা সম্মান বাঁচানো গেছে, তবু দিদিয়ের দেশমের বিদায়টা হলো চরম এক হতাশার মধ্য দিয়ে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্রান্সের এমন বিপর্যয় দেখে ফুটবল বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল। ইংলিশ ফরোয়ার্ডরা যেভাবে ফরাসি রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠ চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছিল, তা দেখে মনে হচ্ছিল ফরাসি ফুটবলাররা যেন মাঠে খেলার ন্যূনতম ইচ্ছাটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন। তবে ম্যাচ শেষে এই ভরাডুবির পেছনের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচের আগের রাতে মায়ামিতে থাকা ফরাসি ফুটবলাররা কোচের কাছে একটু মানসিক বিশ্রামের জন্য একটি রাত ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশম ফুটবলারদের সেই অনুরোধ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং ম্যাচ নিয়ে শতভাগ মনোযোগ ধরে রাখার নির্দেশ দেন। কোচের এই অতিরিক্ত কড়াকড়ি ও ‘রাত জাগার নিষেধাজ্ঞা’ হিতে বিপরীত হয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
খেলোয়াড়দের হয়তো ম্যাচ শুরুর আগে যে মানসিক স্বস্তি বা বিরতির প্রয়োজন ছিল, কোচের কঠোর নিয়মের বেড়াজালে তা তারা পাননি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে প্রথমার্ধের খেলায়। দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স চার-চারটি গোল করে ম্যাচে দুবার সমতায় ফেরার খুব কাছাকাছি চলে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। থ্রি লায়নদের আক্রমণের তোড়ে ৬-৪ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
এই হারের মাধ্যমে ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশমের দীর্ঘ ও সফল এক যুগেরও বেশি সময়ের গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ফরাসি ফুটবলকে বিশ্বকাপ জেতানো এই মাস্টারমাইন্ডের এমন এক ছন্নছাড়া বিদায় ফুটবল ইতিহাসের পাতায় দীর্ঘদিন এক ট্র্যাজিক অধ্যায় হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।







