উচ্চশিক্ষার নামে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ !
উচ্চশিক্ষার নামে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ !
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ভিসা প্রসেসিংয়ের নামে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছে ‘ভিসা গাইড’ (Visa Guide) নামক একটি নামসর্বস্ব কনসাল্টিং এজেন্সি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি এবং এর একাধিক সহযোগী শাখা মফস্বল ও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে পুঁজি করে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। আজ ১৯ জুলাই ২০২৬ (রবিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষে ওবায়দুল ইসলাম হিমেল ও ইয়ারিন তাসনিম এসব তথ্য ও অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ‘ভিসা গাইড’ দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন চটকদার ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে আসছিল। বিশ্বাসযোগ্যা অর্জনের জন্য এবং প্রতারণার জাল বিস্তার করতে তারা আরও চারটি ভিন্ন নামে অফিস পরিচালনা করত। এই সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—
১. জাস্ট থট এডুকেশন কনসালটেন্ট (Just Thought Education Consultant)
২. গ্লোবাল ভিসা স্টেশন (Global Visa Station)
৩. গ্লোবাল ইমিগ্রেশন এক্সপার্ট (Global Immigration Expert) এবং
৪. গো ভিসা (Go VISA)।
অভিযোগ করা হয়, এই ছদ্মনামধারী শিক্ষা কনসাল্টিং ফার্মগুলোর তথাকথিত কর্মকর্তারা নানাবিধ কৌশলে নিজেদের স্বার্থ সাধন করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই মফস্বল এলাকা ও মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অনেকে পরিবারের শেষ সম্বল জমিজমা, বসতভিটা বিক্রি করে কিংবা চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ী অভিভাবকের কষ্টার্জিত সঞ্চয় তুলে দিয়েছিলেন এই এজেন্সির হাতে। টাকা নিয়ে কর্মকর্তাদের আকস্মিক অন্তর্ধান এবং অফিস বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় শত শত পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তা, আর্থিক, সামাজিক ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আবেগঘন ও ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তাদের বর্তমান দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। আর্থিক ও সামাজিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়া অনেক শিক্ষার্থী লোকলজ্জা ও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কারণে পরিবারের মুখোমুখি হতে পারছেন না, এমনকি কেউ কেউ বাড়ি পর্যন্ত ফিরতে পারছেন না। তীব্র মানসিক চাপের শিকার হয়ে ইতিমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে জানানো হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় অনেক অভিভাবক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং পরিবারগুলোতে এক চরম মানসিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। ভুক্তভোগীদের চার দফা দাবি: শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এটি কেবল কয়েকজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা, বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন এবং সাধারণ মানুষের আস্থার ওপর এক বড় আঘাত। সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্তকারী সংস্থার প্রতি ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়: ১. পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত: ঘটনার একটি বিশদ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অতি দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। ২. দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: অভিযুক্ত প্রতারক চক্রের কর্মকর্তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. অর্থ উদ্ধার ও ফেরত: আত্মসাৎকৃত অর্থ দ্রুত উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ৪. কঠোর নজরদারি: ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রতারণা ও মানবিক বিপর্যয় রোধে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও স্টুডেন্ট কনসাল্টেন্সি খাতের ওপর সরকারের কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে সমন্বয়কদ্বয় বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্যায় করতে চাই না; আমরা শুধু সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে চাই।” উদ্ভূত এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় বিবেচনা করে দেশের গণমাধ্যম, প্রশাসন ও সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা বিনীত ও জোর আকুতি জানান।







