সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক প্রকৌশলী শাহ আলম আর নেই; ঢাকা-নোয়াখালীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরমাণুকেন্দ্রে হামলা ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’, বিধ্বংসী জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের মার্কিন হামলায় ইরানের পরমাণু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, পাল্টা জবাবের হুমকি তেহরানের আর্জেন্টাইনদের কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন পানিবন্দী মানুষের পাশে কাশিমপুর প্রেসক্লাব মোঃ আবদুর রহিম উচ্চশিক্ষার নামে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ! মোস্ট সাসটেইনেবল কোম্পানি অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে আইএসডিই বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ধাপে পেল আরও ১ হাজার পরিবার মেঘনার জেলে সমাজ: কাঠামোগত প্রান্তিকতা ও মানবাধিকারের সংকট- প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, পরিবেশ বান্ধব সাভার-ধামরাই-আশুলিয়া গড়তে গঠিত হলো সবুজ আন্দোলন ঢাকা জেলা উত্তর কমিটি

মেঘনার জেলে সমাজ: কাঠামোগত প্রান্তিকতা ও মানবাধিকারের সংকট- প্রফেসর ড. আসিফ মিজান,

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৫৯ Time View
Update : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

মেঘনার জেলে সমাজ: কাঠামোগত প্রান্তিকতা ও মানবাধিকারের সংকট- প্রফেসর ড. আসিফ মিজান,উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় (সোমালিয়া); সমাজ, রাজনীতি, অপরাধ ও মানবাধিকার বিশ্লেষক।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামষ্টিক পুষ্টির নিরাপত্তা এবং রফতানি আয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো মেঘনা অববাহিকার ঐতিহ্যবাহী জেলে সম্প্রদায়। অথচ সমকালীন আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার জাঁকজমকপূর্ণ রূপান্তর এবং উন্নয়ন ডিসকোর্সের সমান্তরালে এই শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনপ্রবাহ এক চরম মানবাধিকার সংকটের মুখোমুখি। নদী ও প্রকৃতির সঙ্গে জীবনপণ লড়াই করে দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা জোগান দেওয়া এই প্রান্তিক মানুষেরা নিজেরা জীবন ধারণের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আধুনিক রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামোর ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন’ (Inclusive Development) কিংবা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG)—বিশেষ করে লক্ষ্যমাত্রা ১ (দারিদ্র্য বিমোচন), ২ (ক্ষুধা মুক্তি), ৪ (মানসম্মত শিক্ষা) এবং ১০ (অসমতা হ্রাস)—এর সাথে মেঘনার পাড়ের জেলেদের বর্তমান জীবনযাত্রার মান একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একজন সমাজ, রাজনীতি, অপরাধ ও মানবাধিকার বিশ্লেষক হিসেবে এই চরম অনিশ্চিত ও অসম সমাজ বাস্তবতাকে কেবল অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি মূলত একটি পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন (Systemic Human Rights Violation), যার তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক বিশ্লেষণ এবং টেকসই সমাধান খোঁজা আজ সময়ের দাবি।

আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা ও মানবাধিকারের নিক্তিতে জেলে জীবন: UDHR-এর আলোকে বিশ্লেষণ

জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (UDHR)-এর বৈশ্বিক মানদণ্ডে মেঘনার জেলেদের জীবনযাত্রাকে বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্র ও সমাজের এক বড় ধরনের কাঠামোগত ব্যর্থতা ও ‘কাঠামোগত সহিংসতা’ (Structural Violence) উন্মোচিত হয়। এই জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম ও বঞ্চনা জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের সুনির্দিষ্ট ধারাগুলোর চরম লঙ্ঘন:

১. অর্থনৈতিক অধিকারের হরণ ও দাদন প্রথার শৃঙ্খল (UDHR অনুচ্ছেদ ৪, ২৩ ও ২৪):
মেঘনার জেলেদের নিজস্ব আধুনিক নৌকা বা মাছ ধরার উন্নত সরঞ্জাম নেই বললেই চলে। মাঠপর্যায়ের উপাত্ত দেখায়, নদী অববাহিকার প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ জেলে ‘দাদন’ নামক এক নির্মম প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শোষণের বেড়াজালে আবদ্ধ। চড়া সুদে বা অগ্রিম শর্তে দাদন নিতে বাধ্য করার মাধ্যমে তাদের ন্যায্য মজুরি ও শ্রমের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটি UDHR-এর অনুচ্ছেদ ৪-এর সরাসরি পরিপন্থী, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে—“কাউকে দাসত্ব বা বন্ধনে আবদ্ধ রাখা যাবে না।” দাদন প্রথা মূলত এক ধরণের আধুনিক অর্থনৈতিক দাসত্ব। এছাড়া, জেলেরা হাড়ভাঙা খাটুনির পরও তাদের শ্রমের সঠিক মূল্য পায় না, যা অনুচ্ছেদ ২৩-এর লঙ্ঘন। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “প্রত্যেক কর্মজীবীর নিজের ও তার পরিবারের মানবিক মর্যাদা রক্ষার উপযোগী ন্যায্য ও সন্তোষজনক পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার রয়েছে।” একইসাথে, মাছ ধরার দীর্ঘ ও অনিয়মিত কর্মঘণ্টা কোনো বিশ্রামের সুযোগ দেয় না, যা অনুচ্ছেদ ২৪-এ বর্ণিত “বিশ্রাম ও অবকাশের অধিকার”-কে খর্ব করে।

২. আবাসন, খাদ্য ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতা (UDHR অনুচ্ছেদ ৩ ও ২৫):
গলোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স অনুযায়ী বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী। মেঘনার ভাঙন, আকস্মিক বন্যা এবং ইলিশ প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে জেলেদের জীবন নদীর জলে ভাসা শেওলার মতোই অনিশ্চিত। সমাজবিজ্ঞানী উলরিখ বেক (Ulrich Beck) আধুনিক সমাজকে ‘ঝুঁকির সমাজ’ (Risk Society) বলে আখ্যায়িত করেছেন। মেঘনার জেলেরা এই জলবায়ুগত ঝুঁকির একেবারে সম্মুখভাগে অবস্থান করছেন। দিনশেষে একটু শান্তিতে ঘুমানোর মতো নিরাপদ আবাসন কিংবা পর্যাপ্ত খাদ্যের নিরাপত্তা না থাকা তাদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি UDHR-এর অনুচ্ছেদ ২৫-এর পরিপন্থী, যেখানে বলা হয়েছে—“প্রত্যেক মানুষের জীবনযাত্রার এমন এক উন্নত মানের অধিকার রয়েছে যা তার নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্য এবং কল্যাণের জন্য পর্যাপ্ত, যার মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা সুবিধা অন্তর্ভুক্ত।” জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব এবং রাষ্ট্রের অপর্যাপ্ত পুনর্বাসন ব্যবস্থার কারণে তাদের অনুচ্ছেদ ৩-এ বর্ণিত “জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার” প্রতিনিয়ত বিঘ্নিত হচ্ছে।

৩. প্রজন্মগত বৈষম্য ও সক্ষমতার সংকট (UDHR অনুচ্ছেদ ২৬):
অমর্ত্য সেনের ‘ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ’ বা সক্ষমতা তত্ত্ব এবং শিশু অধিকার সনদ (CRC)-এর আলোকে বলা যায়, মেঘনাপাড়ের জেলে সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সুযোগ না থাকা মানে তাদের futures মানবিক সক্ষমতাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা। গবেষণায় দেখা গেছে, জেলে পল্লীর সিংহভাগ শিশুই প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরোনোর আগেই ঝরে পড়ে এবং পারিবারিক বাধ্যবাধকতায় শিশুশ্রমে যুক্ত হতে বাধ্য হয়। শিক্ষার এই অনুপস্থিতি তাদের সামাজিক গতিশীলতাকে (Social Mobility) রুদ্ধ করে দিচ্ছে। এটি UDHR-এর অনুচ্ছেদ ২৬-এর এক নির্মম লঙ্ঘন, যেখানে নিশ্চিত করা হয়েছে—“প্রত্যেকেরই শিক্ষালাভের অধিকার রয়েছে এবং প্রাথমিক শিক্ষা হবে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক।” জেলে সন্তানদের এই শিক্ষাবঞ্চনা মূলত তাদের এক স্থায়ী দারিদ্র্য ও অধিকারহীনতার বৃত্তে বন্দি করে রাখছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক তুলনা

মেঘনার জেলেদের এই সংকট কেবল বাংলাদেশের একক কোনো চিত্র নয়, বরং গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক প্রান্তিক মৎস্যজীবী সমাজেই এই রূপ দেখা যায়। ফিলিপাইনের ‘উপকূলীয় মৎস্যজীবী’ (Municipal Fisherfolk) কিংবা ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের ট্রলার-রাজনীতির শিকার ক্ষুদ্র জেলেদের অবস্থাও প্রায় একই রকম। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্রায়তন মৎস্য যান ও মৎস্য আহরণকারীরা তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার বঞ্চনায় ভোগেন।

তবে এর বিপরীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছু সফল মানবাধিকার-ভিত্তিক মডেলও রয়েছে। যেমন, জাপানের ‘কোস্টাল ফিশারিজ কো-অপারেটিভস’ (FCAs) বা “মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি” ব্যবস্থা। সেখানে জেলেরা নিজেরাই নিজেদের পণ্যের মূল্য নির্ধারণ এবং বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণ করেন। চিলির ‘টার্ফ’ (TURF – Territorial Use Rights in Fisheries) মডেলের মাধ্যমে স্থানীয় জেলেদের নির্দিষ্ট জলসীমার ওপর আইনি অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা তাদের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই মৎস্য আহরণে উদ্বুদ্ধ করে। মেঘনাপাড়ের উন্নয়নে এই আন্তর্জাতিক সফল মডেলগুলো আমাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

বেসরকারি উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা

নদী অববাহিকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে ‘মেঘনাপাড়’ সহ বেশ কিছু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (NGO) শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে কাজ করছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওপেন সোর্স রিপোর্টের মাধ্যমে তাদের কিছু ইতিবাচক কার্যক্রমের চিত্র উঠে এলেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। কাঠামোগত এবং নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া কেবল এনজিও-ভিত্তিক বিচ্ছিন্ন চ্যারিটি বা অনুদান দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষা অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং একটি মানবাধিকার-ভিত্তিক উন্নয়ন রূপরেখা (Human Rights-Based Approach to Development)।

উত্তরণের পথরেখা: মানবাধিকারভিত্তিক সুপারিশমালা

মেঘনার প্রান্তিক জেলেদের আধুনিক ও ন্যায়সংগত সমাজ ব্যবস্থার মূলধারায় ফিরিয়ে এনে তাদের নাগরিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে বহুমুখী এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করতে হবে:

প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন ও দাদন উচ্ছেদ: জেলেদের মহাজনি ঋণ ও দাদনের হাত থেকে রক্ষা করতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সহজ শর্তে এবং বিনা জামানতে ‘মৎস্য ঋণ’ চালু করতে হবে। সমবায় ভিত্তিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে জেলেরা সরাসরি কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা পান এবং মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া বাজারে মাছ বিক্রি করে তাদের অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।

বিকল্প কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: ইলিশ প্রজনন বা জাটকা নিধন নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের যে চাল বা ভিজিএফ (VGF) সহায়তা দেওয়া হয়, তা পর্যাপ্ত নয়। এই সময়ে তাদের জন্য বিকল্প আয়বর্ধক কর্মসংস্থানের (Alternative Income Generation) প্রশিক্ষণ এবং স্থায়ী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো নাগরিক ক্ষুধার্ত না থাকে।

জেলে সন্তানদের জন্য কোটা ও বিশেষ শিক্ষা সুবিধা: প্রজন্মগত দারিদ্র্য ও বঞ্চনা ভাঙার একমাত্র হাতিয়ার শিক্ষা। মেঘনাপাড়ের জেলে পল্লীগুলোতে ভাসমান ও স্থায়ী বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। উচ্চশিক্ষায় এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানদের জন্য বিশেষ কোটা বা বৃত্তির ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রীয় আইনি দায়িত্ব।

আইনি ও জলমহাল অধিকার: ‘জাল যার, জলাশয় তার’—এই নীতির প্রকৃত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। প্রভাবশালী ইজারাদারদের হাত থেকে জলমহালগুলোকে মুক্ত করে প্রকৃত জেলেদের সমবায়ের কাছে দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শন করতে হবে, যা তাদের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অধিকার নিশ্চিত করবে।

অতএব, একটি রাষ্ট্র নিজেকে সভ্য বা উন্নত দাবি করতে পারে না যদি তার একটি বড় উৎপাদক গোষ্ঠী মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকে। মেঘনার জেলেরা আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, তারা করুণার পাত্র নন; বরং রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা (Human Dignity) ও সমঅধিকার পাওয়ার আইনগত দাবিদার। আধুনিক সভ্যতার এই চরম বৈষম্যমূলক ধারাকে টিকিয়ে রেখে আমরা কখনো সাম্যবাদী ও অধিকার-ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ করতে পারব না। রাষ্ট্র, নীতিনির্ধারক মহল এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এখনই মেঘনার পাড়ের এই প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে মেঘনার উত্তাল জলরাশি আর তাদের দীর্ঘশ্বাসের কারণ না হয়ে, সমৃদ্ধি ও অধিকারের উৎস হয়ে ওঠে।

লেখক: – প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় (সোমালিয়া); সমাজ, রাজনীতি, অপরাধ ও মানবাধিকার বিশ্লেষক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives