আদালতের রায় কার্যকর না করায় শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের বিরুদ্ধে কনটেম্পট অব কোর্ট মামলা দায়ের হতে যাচ্ছে
আদালতের রায় কার্যকর না করায় শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের বিরুদ্ধে কনটেম্পট অব কোর্ট মামলা দায়ের হতে যাচ্ছে
মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের রায়, রিভিউ খারিজের আদেশ এবং আইন, বিচার ও ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামতের আলোকে ১২২ জন কনটেম্পট পিটিশনারকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন “উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার” পদে আত্তীকরণ বিষয়ে আদালতের রায় কার্যকর না করায় শিক্ষা মন্ত্রী এহসানুল হক মিলন ও শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে কনটেম্পট অব কোর্ট মামলা দায়ের হতে পারে। সর্বোচ্চ আদালতের রায় না মানায় আদালত অবমাননার উক্ত অভিযোগ দায়ের হলে দুজনকে আদালতের কাছে নিঃস্বার্থ ক্ষমা চাইতে হবে এবং রায় কার্যকর করতে হবে। বিচারক ইচ্ছা করলে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করতে পারে। সচিবালয়ের ভিতরে এবং বাহিরে এই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সেকেন্ডারি এডুকেশন সেন্টার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসইএসডিপি) প্রকল্পটি ২০০৭ সালে কার্যক্রম শুরু হয়ে ২০১৪ সনে শেষ হয়। পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন সমাপ্ত সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রশ্নের (এসইএসডিপি) এর সহকারী পরিদর্শক, গবেষণা কর্মকর্তা, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার, প্রোগ্রামারসহ ২০ জন জনবলকে প্রকল্প দলিলের শর্তানুসারে এসইএসডিপি প্রকল্প সমাপ্তির পর জনবলসহ পদ রাজস্বখাতে স্থানান্তর বিষয়টি উল্লেখ ছিল। প্রকল্প দলিলের শর্তানুসারে এসইএসডিপি প্রকল্প সমাপ্তির পর জনবলসহ পদ রাজস্ব খাতে স্থানান্তর না করায় তারা মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন নং—৬০১৪ /২০১৪ দায়ের করেন। রিট পিটিশন নং-৬০১৪/২০২৫ মামলার শুনানীঅন্তে গত ১৬.১১.২০১৫ তারিখে দায়েরকৃত রীট মামলার বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সরকারের বিপক্ষে এবং পিটিশনারদের পক্ষে আদেশ রায় প্রদান করেন।
সরকার পক্ষ উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে লীভ টু আপীল নং ৩৪৯৩/২০১৬ দাখিল করেন। ২৬.০২.২০১৮ তারিখে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ সরকারের করা উক্ত লীভ টু আপীল খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের রায় বাস্তবায়নের নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে সরকারপক্ষ কর্তৃক সিভিল রিট পিটিশন নং ২৯৩/২০১৮ দাখিল করেন। আপীল বিভাগের ০৬ (ছয়) বিচারপতি মামলা শুনানীঅন্তে ২৪.০৪.২০২৫ খ্রি. তারিখে সরকারপক্ষ কর্তৃক দায়েরকৃত রিডিউ পিটিশনটি খারিজ করে দেন।
২০ অক্টোবর ২০২২ তারিখের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের স্পষ্টীকরণ পত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী যে সকল মামলা সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আইন ও বিচার বিভাগের মতামত গ্রহণ করে রায় বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে”। সে লক্ষ্যে গত ২৭.১১.২০২৫ তারিখে আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য প্রেরণ করা হলে ২১.১২.২০২৫ ‘তারিখে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রীট পিটিশন নং—৬০১৪/২০১৪ এর রায় অনুযায়ী পিটিশনারদের রাজস্বখাতের চাকুরিতে স্থানান্তর/আত্মীকরণ/নিয়মিতকরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে মর্মে প্রদান করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত প্রাপ্তির মাধ্যমে আইনি সকল ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।
আইনি সকল ধাপ সম্পন্ন হওয়ায় এবং সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন না করায় ১২২ জন কনটেম্পট পিটিশন নং—০২/২০২৬ দায়ের করেন। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন এ আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা আদালতে কনটেম্পট অব কোর্ট বা আদালত অবমাননার মামলা দায়েরের জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
বিগত সরকার অনেককে আত্তীকরণ করলেও বড় একটা অংশকে করা হয়নি। বৈষম্যের শিকার হয়ে তারা আদালতে তাদের ন্যায় সঙ্গত অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য মামলা করে।






