বাংলাদেশে হিন্দু কথা বললেই তাঁর কপালে দু:খ নেমে আসে?
কোন অপরাধ না করে বিনা কারণে বিনা বিচারে শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস অনেকদিন জেলে আছেন। কবে তিনি মুক্তি পাবেন, বা আদৌ মুক্তি পাবেন কিনা কেজানে? সদ্য হরিদাস চন্দ্র তরনিদাস গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁর ভাগ্যও অনিশ্চিত। ইতোপূর্বে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অপমানিত হয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক কলঙ্কিত হয়েছেন। এমনকি পঙ্কজ দেবনাথ ভিকটিম হয়েছেন। এ সবগুলো নাম হিন্দু, এদের নির্যাতিত হবার অন্য কোন কারণ দরকার নেই? এঁরা যে ‘অপরাধী’ রাষ্ট্রযন্ত্র কিন্তু তা প্রমান করতে পারেনি, বিচারপতি সিন্হা’র ক্ষেত্রে ‘ফালতু’ মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। বাংলাদেশে যেকোন হিন্দু কথা বললেই তাঁর কপালে দু:খ আছে?
এডভোকেট চৈতালি মুখার্জি চুপ হয়ে গেছেন বা তাঁকে চুপ করে দেয়া হয়েছে। অনেকদিন আগে প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে একটি সত্য কথা বলে দিয়েছিলেন, পুরো জাতি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হয়েছিল, দেশে থাকলে তাঁর অবস্থা কি হতো তা আন্দাজ করা যায়, তিনি আদৌ আর এ জীবনে দেশে যেতে পারবেন কিনা সেটা অনিশ্চিত। প্রবাসে যারা বাংলাদেশের হিন্দুদের পক্ষে নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম-আন্দোলন করছেন তারা দেশে যেতে সাহস পাননা, কারণ দেশের মানুষগুলো বর্বর হয়ে যাচ্ছে। দেশে আইন-কানুন, বিচার-সালিশ আছে বলে মনে হয়না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবস্থাও এখন হিন্দুদের মত, তবে তাঁরা ধর্মের কারণে নির্যাতিত নন, হিন্দুরা ধর্মের কারণে নির্যাতিত।
মুক্তিযুদ্ধকালে একাত্তরেও একই অবস্থা ছিলো, হিন্দুরা ধর্মের কারণে টার্গেট ছিলো, আওয়ামী লীগ কর্মীরা টার্গেট ছিলো রাজনৈতিক কারণে। দেশের অবস্থাটা কিন্তু এখন একাত্তরের মতোই, শেষটাও কি একাত্তরের মত হবে? তর্কের খাতিরে ধরে নেয়া যাক যে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসলো, তাতে কি হিন্দুদের অবস্থার উন্নতি হবে? আওয়ামীলীগের ১৭বছরের শাসনামল কি সেই কথা বলে? এটি সত্য ১৯৭১ সালে হিন্দুরা বিশ্বাস করেছিলো যে, পাকিস্তান গেছে, এখন আমরা সবাই বাঙ্গালী, হিন্দু-মুসলমান একসাথে বসবাস করবো, দেশ গড়বো। হিন্দুরা মুসলমানদের বিশ্বাস করেছিলো। গত ৫৫ বছরে সেই বিশ্বাস ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। অনেক হিন্দুই এখন বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশের হিন্দুরা মুসলমানের সাথে একসাথে বসবাস করতে পারবে না?
তাহলে উপায়? উপায় তো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানকে খুঁজে বের করতে হবে? এখনো বাংলাদেশে দুই কোটি হিন্দু আছে, এদেরকে মেরে ফেলা যাবেনা, ধর্মান্তরিত করা যাবেনা, বিতাড়ন করা যাবেনা। হিন্দুরা বাংলাদেশের ভূমিপুত্র, এই দেশ তাঁদের চৌদ্ধপুরুষের। তাঁরা উড়ে এসে জুড়ে বসেনি। বাংলাদেশে হিন্দু আন্দোলনে একটি শ্লোগান এখন বেশ শোনা যায়, সেটি হচ্ছে, “কথায় কথায় বাংলা ছাড়, বাংলা কি তোর বাপ্-দাদার”? ইউনুস সরকারের আমলে হিন্দুরা যথেষ্ট অত্যাচারিত হয়েছে, প্রতিবাদী হতে শিখেছে। একজন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস হাজারো হরিদাস, চৈতালির জন্ম দিয়েছে, এদের অত্যাচার করে দমিয়ে রাখা যাবেনা। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে হিন্দুরা আর কোন দলের ‘ভোটব্যাংক’ থাকবে না, তারা নিজের মত করে বাঁচতে শিখেছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হিন্দু জেনজি আন্দোলন দেখবে। ২৭ জুলাই ২০২৬।







