সোভিয়েত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (SAAB)-এর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উদযাপন
সোভিয়েত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (SAAB) ঢাকার রাশিয়ান হাউসে একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে। এই আয়োজনে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস (CIS)-এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী বাংলাদেশিরা একত্রিত হন। তাঁদের যৌথ শিক্ষাগত ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক বন্ধন উদযাপনের লক্ষ্যেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, সঙ্গীত ও শাস্ত্রীয় নৃত্যের পরিবেশনা ছিল, যা বাংলাদেশি ও রাশিয়ান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী প্রজন্মের পর প্রজন্মের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দীর্ঘস্থায়ী ‘জনগণের সাথে জনগণের’ (people-to-people) সম্পর্ককে এই অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
সমাবেশে বক্তৃতাকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত অ্যালামনাইদের ঢাকা ও মস্কোর মধ্যে “বন্ধুত্বের এক অনন্য ও জীবন্ত সেতুবন্ধন” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, শিল্প ও বৈজ্ঞানিক উন্নয়নে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অবদানের পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী) জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি, বাংলাদেশের উন্নয়নে SAAB-এর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সোভিয়েত, রাশিয়ান ও CIS-এর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী বাংলাদেশিরা প্রকৌশল, চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, বিজ্ঞান, জনপ্রশাসন ও শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
ঢাকার ‘রাশিয়ান হাউস’-এর পরিচালক ১৯৭০ ও ১৯৮০-র দশকে উচ্চশিক্ষার জন্য সুদূর সোভিয়েত ইউনিয়নে পাড়ি জমানো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাহসিকতার কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে তাঁদের পেশাগত সাফল্য সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় অর্জিত উচ্চশিক্ষার গুণমানেরই প্রমাণ বহন করে; তিনি এই প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দুই দেশের মধ্যে “বন্ধুত্ব ও সংস্কৃতির দূত” হিসেবে অভিহিত করেন।
বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটির মধ্যে ছিল আলেকজান্ডার পুশকিনের বিশ্ববিখ্যাত কবিতা “আই লাভড ইউ” (Я вас любил)-এর আবৃত্তি, ভরতনাট্যম ও মণিপুরি নৃত্য পরিবেশনা, মনোমুগ্ধকর বাংলা গান এবং প্রখ্যাত শিল্পী ও ‘স্যাব’ (SAAB)-এর সদস্য তিমির নন্দীর কণ্ঠে কালজয়ী রুশ গান “মস্কো নাইটস” (Подмосковные вечера)-এর বিশেষ পরিবেশনা।
আমন্ত্রিত শিল্পী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে “উই শ্যাল ওভারকাম” (আমরা করব জয়) গানটির সম্মিলিত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক জন-সম্পর্ক উদযাপনের মধ্য দিয়ে এবং নৈশভোজ ও দলীয় ছবি তোলার মাধ্যমে এই স্মরণীয় সন্ধ্যাটির সমাপ্তি ঘটে।







