দ্রুত পদায়নের দাবিতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি
দ্রুত পদায়নের দাবিতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি
নিয়োগ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪,৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের দ্রুত বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক, ২০২৩ ব্যাচ’-এর পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, প্রায় ৯ লাখ প্রার্থীর মধ্য থেকে লিখিত, মৌখিকসহ অন্যান্য সব ধাপ অতিক্রম করে ১৪,৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। চূড়ান্ত সুপারিশের পর প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো তাদের বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়নি। ফলে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার পরিবার তীব্র আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। চাকরি পাওয়ার আশায় অনেকে পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়ে এখন সম্পূর্ণ বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পরই যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নিয়ম। কিন্তু এবার নতুন করে ‘NSI Report’-এর বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, যা অতীতে দেখা যায়নি। পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত এই ধাপ যুক্ত করার কারণে নিয়োগ কার্যক্রমে চরম বিলম্ব ও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়েছে:
১. নিয়োগ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী ১৪,৩৮৪ জন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের অবিলম্বে বিদ্যালয়ে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
২. NSI Report সংক্রান্ত বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট ও লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে।
৩. নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা আরও জানান, ইতোমধ্যেই তারা দেশের ৬১টি জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন এবং অধিদপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়ার মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছেন। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো যখন তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে, তখন এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে পদায়ন করা হলে একদিকে যেমন শিক্ষক সংকট দূর হবে, অন্যদিকে সাড়ে ১৪ হাজার পরিবার অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাবে। তারা রাজপথে নয়, বরং দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফিরে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।







