গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া: জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া: জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিবৃত্তে একটি নাম কালজয়ী প্রভাবে ভাস্বর—দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি কেবল ইতিহাসের অংশ হননি, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বকীয় জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে নিজেকে এক অদম্য দূরদর্শিতার প্রতীকে উন্নীত করেছিলেন। একনায়কত্ব, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের প্রবল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে জনগণের মৌলিক অধিকার ও হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর যে আপসহীন লড়াই, তা তাঁকে এনে দিয়েছিল ঐতিহাসিক ‘আপসহীন নেত্রী’র অনন্য উপাধি।

১৫ আগস্ট দেশের রাজনীতি ও সমাজবদলের এই অন্যতম কাণ্ডারীর ৮২তম জন্মবার্ষিকী। স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’-কে সাধারণ মানুষের হৃদয় গভীরে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়। স্বামীর আদর্শ ও মা-মাটি-মানুষের দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনৈতিক সংকটে দিশেহারা দলটির হাল ধরেছিলেন তিনি; নিয়ে গিয়েছিলেন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। শত নিপীড়ন, রাজনৈতিক চক্রান্ত কিংবা চরম প্রতিকূল পরিবেশেও তাঁর অবিচল দূরদর্শিতায় বিএনপি বারবার ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দেশের রাজনীতির বাঁকে বাঁকে তিনি প্রমাণ করেছেন কীভাবে জনকল্যাণমুখী নেতৃত্ব প্রতিকূল সময়কে জয় করে প্রাসঙ্গিক থাকতে পারে।
গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা ও এক আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শী এক রাষ্ট্রনায়ক। প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করা, নারী শিক্ষার আমূল প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির মজবুত ভিত রচনার মতো তাঁর গ্রহণ করা নীতিগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের কাছে ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনা ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রশ্নে তাঁর এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপগুলো তাঁকে আর পাঁচটা সাধারণ রাজনৈতিক ব্যক্তিতে সীমাবদ্ধ রাখেনি; তিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন এক ক্ষণজন্মা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
গেল বছরের ৩০ ডিসেম্বর এই মহান জননেত্রী দেশবাসীকে গভীর শোকের সাগরে ভাসিয়ে চিরবিদায় নেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তাঁর শেষ বিদায়ে প্রিয় নেত্রীকে শ্রদ্ধা জানাতে রাজপথে ঢল নেমেছিল লাখো সাধারণ মানুষের। কান্না আর অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত সেই অভূতপূর্ব জানাজা মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক জানাজা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আজ বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে তাঁর স্মৃতিকে স্মরণ করছি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি, তিনি যেন এই মহান নেত্রীর জীবনের সকল ভুলত্রুটি মার্জনা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনায় তাঁর অদম্য ত্যাগ ও আপসহীন আদর্শ প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।







