নৈতিক অবক্ষয় রোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার দাবি
নৈতিক অবক্ষয় রোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার দাবি
দেশে সব সমস্যার মূলে রয়েছে ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়। সম্পদ ও ক্ষমতার বশবর্তী হয়ে আমলা, রাজনীতিবিদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, পেশাজীবী ও যুবসমাজের একাংশ আজ নীতি-নৈতিকতাহীন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে সকল স্তরে নৈতিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা এবং আলাদা ‘নৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব জানানো হয়েছে।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফরিদপুর সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: মাহফুজুর রহমান। তিনি বিনা বেতনে ‘নৈতিক পরামর্শদাতা’ হিসেবে দেশের সেবা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের শিক্ষার হার ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও কাঙ্ক্ষিত সামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ চারিত্রিক অধঃপতন ও পারিবারিক, সামাজিক মূল্যবোধের বিনাশ। “শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড” হলেও নৈতিকতাহীন শিক্ষা দেশ ও সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। পারিবারিক শাসনের অভাব এবং মোবাইল ফোনের যথেচ্ছ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের নৈতিক সংকট নিরসনে ৮ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়:
১. জরুরি ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নৈতিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা।
২. দেশের কল্যাণবিরোধী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত আমলা, রাজনীতিবিদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
৩. জেলা পর্যায়ে ‘নৈতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন করা।
৪. তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে ১ম থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
৫. দেশের বৃহত্তর স্বার্থে শিক্ষাবিদ, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘নৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ (Ministry of Moral Affairs) গঠন করা।
৬. নতুন প্রজন্মের চরিত্র গঠন ও আনন্দঘন শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন।
৭. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা অর্পণ।
৮. দেশকে ভালোবেসে সকলকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রফেসর মো: মাহফুজুর রহমান বলেন, নৈতিক অবক্ষয় রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়, তবে রাষ্ট্রের ইতিবাচক পদক্ষেপ ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিক প্রশিক্ষণ চালুর মাধ্যমে একটি সৎ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠন করা সম্ভব।







