মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও গ্যাস সংকট নিরসনে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ : লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫ সমীক্ষা প্রতিবেদন বিষয়ক সংবাদ-সম্মেলন অনুষ্ঠিত দীর্ঘ সক্ষমতা নিয়ে আলোচনায় রিয়েলমি সি১০০আইয়ের টাইটান ব্যাটারি নান্দনিক শিক্ষাদর্শন, প্রগতিশীল নারীত্ব ও অন্ধ রক্ষণশীলতার দ্বন্দ্ব বিএনপি ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত মাসব্যাপী জলাশয় পরিচ্ছন্ন, মশার স্প্রে, কয়েল ও ডেঙ্গু লিফলেট বিতরণ গাছ সংরক্ষণে করণীয় বিষয়ক কর্মসূচির আয়োজন-খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার চলতে বছরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর সংহিসতার তথ্য প্রকাশে ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতির বিচার ও আইনি সুরক্ষা: সংবিধানের ৫১(১) অনুচ্ছেদ কি অপরাধের চিরস্থায়ী লাইসেন্স? বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর ৬টি বিতরণ অঞ্চল বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫ সমীক্ষা প্রতিবেদন বিষয়ক সংবাদ-সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৩০ Time View
Update : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

আজ ২৭ জুলাই ২০২৬, সকাল ১১.৩০ টায় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫ সমীক্ষা প্রতিবেদন বিষয়ক সংবাদ-সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ-সম্মেলনে মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষে সমীক্ষা বিষয়ক তথ্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। তিনি বলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনার ওপর ভিত্তি করে সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা যায়, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা একটি গভীর জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌন হয়রানি, হত্যা, আত্মহত্যা, যৌতুক এবং বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
কন্যাশিশুরা দলবদ্ধ ধর্ষণ (১৪২), আত্মহত্যা (২০৩) এবং ধর্ষণের চেষ্টার (১১৭) ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা হত্যার (৭৫৬), ধর্ষণের (৩৭৬) এবং যৌন হয়রানির (১২৫) ঘটনায় সর্বোচ্চ সংখ্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণ নির্দেশ করে যে, শৈশবে যৌন সহিংসতার ঝুঁকি বেশি থাকলেও বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকান্ড ও আত্মহত্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে গৃহিণীদের হত্যার (৫৮%), আত্মহত্যার (৬৩%) এবং যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতার (৯৪%) প্রধান শিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে শিক্ষার্থী কন্যাশিশুরা ধর্ষণের চেষ্টা (৮০%), আত্মহত্যা (৬৭%), দলবদ্ধ ধর্ষণ (৩৯%) এবং বাল্যবিবাহের (১০০%) ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সমীক্ষা আরও দেখানো হয়, গৃহ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয় স্থানই নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে, যা তাদের নিরাপত্তা সংকটকে আরও তীব্র করেছে। সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয় বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, তদন্তে বিলম্ব, সাক্ষী ও প্রমাণের দুর্বলতা এবং সামাজিকভাবে ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করার প্রবণতা অপরাধীদের দায়মুক্তিকে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর পক্ষ থেকে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, জবাবদিহি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মডারেটরের বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সমীক্ষার পর্যবেক্ষণ আমাদের সামনে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সহিংসতার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে নারীর কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব গৃহিণী পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নারী সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনায় ছয় থেকে নয় বছর বয়সী শিশুকন্যার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হওয়া আমাদের সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বার্তা দেয়।

কন্যাশিশুদের এই বয়স প্রমাণ করে , ধর্ষণের জন্য কখনোই ভুক্তভোগী দায়ী নয়; দায়ী অপরাধী এবং সেই সামাজিক মানসিকতা, যা অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়।আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ আজ নারী শুধু যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন না, তার জীবনও ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এটি কেবল নারীর সংকট নয়; এটি সমগ্র সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিকতার সংকটকে তুলে ধরে। তিনি এসময় গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে বলেন এই ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম কে শুধু ঘটনা প্রকাশ করে নয়, বরং সেই ঘটনাগুলোর সামাজিক ও কাঠামোগত কারণও তুলে ধরার আহ্বান জানান। অন্যদিকে সহিংসতার ঘটনার পর প্রায়ই ভুক্তভোগীর পরিচয়, জীবন ও পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়; কিন্তু অপরাধী সম্পর্কে খুব কমই জানানো হয়। এই প্রেক্ষাপটে ভুক্তভোগীর প্রতি সংবেদনশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি অপরাধীকেও দৃশ্যমান করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন ধর্ষণ, হত্যা বা এ ধরনের সহিংসতা ফৌজদারি অপরাধ। কিন্তু প্রায়ই এসব অপরাধের ক্ষেত্রে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে আপস করার চেষ্টা দেখা যায়। এটি শুধু অন্যায় নয়, আইনগতভাবে ও গ্রহণযোগ্য নয়। ফৌজদারি অপরাধের বিচার আদালতেই হতে হবে; সালিশের মাধ্যমে এর নিষ্পত্তি করার চেষ্টা বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং অপরাধীদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করে। আজকের এই সমীক্ষা কেবল তথ্য উপস্থাপন করেনি; এটি সকলের সামনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণও তুলে ধরেছে। নারী নির্যাতনের বিষয়টি কেবল নারীর সমস্যা নয়; এটি সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকারের প্রশ্ন। যখন নারীর ওপর সহিংসতা বৃদ্ধি পায়, তখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত পুরো সমাজই তার ক্ষতি বহন করে। তাই নারী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনাকে সামাজিক ন্যায় বিচারের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নারী নির্যাতন প্রতিরোধের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে ও সমাজকে নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক করে তুলতে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং নারী আন্দোলনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উপরেও গুরুত্বারোপ করেন।

উক্ত সংবাদ-সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী, কর্মকর্তাগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন প্রশিক্ষণ,গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives