মার্কিনসহ অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাথে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজধানীতে এনডিএফ’র মশাল মিছিল
দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও জ্বালানি তেলের ঘন ঘন দাম বাড়ানো এবং সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ-আগ্রাসনসহ বৈশ্বিক নানা ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের কারণে সাধারণ শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। একই সাথে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের সাথে জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়ে দেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আজ (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় জনজীবনের সংকট দূরীকরণ ও মার্কিনসহ অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজধানীতে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)’র মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি গুলিস্তান থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এনডিএফ ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মশাল মিছিল অনুষ্ঠানের পূর্বে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণ গুলিস্তানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্তের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনডিএফ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ব্রি. জেনা (অব.) এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম। এনডিএফ’র শরিক বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি এবং জাতীয় ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ সমাবেশে উপস্থিত থাকেন। এছাড়াও বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ওয়েসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশন, ঢাকা জেলা সিএনজি চালক সংগ্রাম পরিষদ এবং ঢাকা পোশাক প্রস্তুতকারী শ্রমিক সংঘসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মশাল মিছিলে উপস্থিত থাকেন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন- গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল এবং চাল, ডাল, তেলসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত মজুরি ও আয় দিন দিন কমছে। বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম মজুরি নির্ধারণ করে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ আইনি বাধ্যবাধকতা থাকার পরও ঘোষিত এই মজুরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। হোটেল, নৌযান, মৎস্য, নির্মাণ ও স’মিল সেক্টর সহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকরা সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, মজুরির তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় নিম্নআয়ের ও শ্রমজীবী পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী সর্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালু জরুরি। একই সাথে হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সকল সেক্টরে মজুরি গেজেট বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে সকল খাতের শ্রমিকদের জন্য একটি সম্মানজনক ‘জাতীয় ন্যূনতম মজুরি’ ঘোষণার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। ধান, গম, পাটসহ সকল কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে কৃষকদের জন্য সরাসরি ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে ড. ইউনুসের সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারী জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) সম্পাদিত করে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার মার্কিন পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করতে মার্কিন এর সাথে আকসা ও জেসোমিয়া চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছে। একই সাথে দেশে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগিতা আনার লক্ষ্যে সরকার চীনের সাথে সমঝোতা (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্মারক সম্পন্ন করেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশকে আন্ত:সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। জাতীয় ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেতৃবৃন্দ চীন-মার্কিনসহ সকল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাথে সম্পাদিত জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী সকল চুক্তির বিরোধিতা করে মার্কিন এর সাথে অসম বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান।







