সরকারের অতিরিক্ত সচিব ১৪ কোটি টাকা ঋণ গ্রহন করে ১৮ মাসে ফেরত দিবে ২৮কোটি, কোথায় সেই আলাদিনের চেরাগ?
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জীবনে ব্যয় নির্বাহের জন্য সকলেরই কমবেশী ঋণ এর প্রয়োজন হয় কিন্তু মাত্র ১৮মাসে দ্বিগুন হয় এমন আলাদিনের চেরাগের কথা এই প্রথমই পাওয়া গেলো স্বয়ং তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব কে.এম আবদুল ওয়াদুদ পরিচিতি নং ৬২৬০ এর স্বাক্ষরিত সম্মতিপত্রে।
কে. এম আবদুল ওয়াদুদ এর ২৫/০৪/২০২৬ ইং তারিখে স্বাক্ষরিত এক সম্মতিপত্রে ১৪ কোটি টাকা ঋণ গ্রহন করেন যা ১৮ মাসে (১৪ x ২) – ২৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশে এমন কি ব্যবসা আছে যে, গ্রহনকৃত কোটি কোটি টাকা মাত্র ১৮ মাসে দ্বিগুন আকারে ফেরত দেওযা সম্ভব? এটি আরও গভীরে তদন্ত করা হলে অনেক বড় দুর্নিতি ও অনিয়ম বেরিয়ে আসবে নিশ্চিত।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কে এম আবদুল ওয়াদুদ, পরিচিতি নং- ৬২৬০, জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ১৪৯৫৬০৩৬২১, বর্তমান ঠিকানা: বাসা-৪৪, আফতাবনগর, মেইন রোড, ব্লক-সি, থানা: বাড্ডা, ডাক: বাড্ডা, ঢাকা-১২১৪। স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: পশ্চিম সুবিদখালী, ডাক: সুবিদখালী-৮৬১০, থানা: মির্জাগঞ্জ, জেলা: পটুয়াখালী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ০২-১২-২০২৫ খ্রি. তারিখের ০৫.০০.০০০.১৩৩.১২.০০২.২৫.১১.০৪ নং স্মারকমূলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলিপূর্বক পদায়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ০৬-০৪-২০২৬ খ্রি. তারিখের ৫১.০০.০০০.০০০.২১১.১৮.০০০৬.২৩.১৩৮ নং স্মারকে অবমুক্ত হয় এবং ০৭-০৪-২০২৬ খ্রি. তারিখ পূর্বাহ্ণে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন।
অতিরিক্ত সচিব কে. এম ওয়াদুদ ২৫.৪.২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত সম্মতি পত্রে লিখেন- এই মর্মে সম্মতি জ্ঞাপন করতেছি যে, আমার একান্ত ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৪০% হারে ১০ কোটি টাকা (আসল ১০ কোটি টাকা, হাউজ/অফিস খরচ ৪ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ১৪ কোটি টাকা) ১৮ মাস মেয়াদী ঋণ গ্রহন করিতে আগ্রহী। মেয়াদান্তে বা মেয়াদের মধ্যে লাভ সহ ২৮ কোটি টাকা ঋণদাতা বরাবরে বা উনার প্রদত্ত প্রতিনিধি বরাবরে ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতিসহ সম্মতি জ্ঞাপন করতেছি। আমি আর ও সম্মতি জ্ঞাপন করতেছি যে, আমি নিজ নামীয় এবং নিজ চেক এর মাধ্যমে উক্ত ঋণের বিপরীতে ২০০০ টাকা মূল্যমানের ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প চুক্তিমানা পত্র এবং ব্যাংক চেক প্রদান করিব। প্রকাশ থাকা আবশ্যক যে উক্ত ঋণের জন্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সম্পূর্ন দায়ভার আমি নিজে গ্রহন করিব।
সরকারি বা যেকোনো বৈধ আর্থিক নীতিমালায় সাধারণ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ১৮ মাসে দ্বিগুণ টাকা (৪০% বা ১০০%+ সুদে) ফেরত দেওয়ার কোনো অফিসিয়াল লোন বা ঋণ সুবিধা নেই।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংক বা সরকারি তহবিল থেকে ঋণ নেওয়ার নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে:
•বৈধ সরকারি ঋণ ব্যবস্থা: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধারণত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত জিপিএফ (General Provident Fund) অগ্রিম, গৃহনির্মাণ ঋণ (House Building Loan), বা কম্পিউটার/মোটরসাইকেল অগ্রিম নিয়ে থাকেন। এসব ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার অত্যন্ত কম এবং তা দীর্ঘমেয়াদে বা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকে।
•ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ব্যক্তিগত ঋণ (Personal Loan) নিলে সেটির সুদের হারও বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত সীমার (সাধারণত ৯% থেকে ১৪%-এর মধ্যে) মধ্যে থাকে।
১৮ মাসে দ্বিগুণ টাকা পরিশোধের ঋণের উৎস: এই নথিতে উল্লিখিত শর্ত বা অতিরিক্ত সুদের হার (যেমন ১০ কোটি টাকার বিপরীতে ৮ কোটি টাকা সুদ ও খরচসহ মোট ১৪ কোটি টাকা, ১৮ মাসে ফেরত ২৮ কোটি টাকা ) কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং কাঠামোর আওতায় পড়ে না। বাস্তবে এ ধরনের লেনদেন সাধারণত বেসরকারি ব্যক্তিগত মহাজনী ঋণ, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অপ্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি বা বেআইনি সুদী কারবারের ক্ষেত্র বলে প্রতিয়মান হয়।
সংক্ষেপে, সরকারি কোনো সংস্থা বা ব্যাংক থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এভাবে দ্বিগুণ সুদে লোন গ্রহণ বা প্রদান করেন না; এটি সম্পূর্ণ অপ্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত পর্যায়ের অসম লেনদেনের চুক্তিপত্র, যা একজন সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পক্ষে সম্পুর্ন আইনের লঙ্ঘন।
বাংলাদেশে সরকারের দেয় পে-স্কেল অনুয়ায়ী একজন অতিরিক্ত সচিব ২য় গ্রেড প্রাপ্ত কর্মর্কা,সরকারের প্রদেয় ২০১৫ এর পে-স্কেল অনুয়ায়ী বেতন বেতন স্কেল ৬৬,০০০-৭৬,৪৯০/= সেখানে তিনি ১৮ মাসে ২৮ কোটি যা কিস্তি অনুযায়ী প্রতিমাসে দাড়ায় ১, ৫৫,৫৫,৫৫৫.৫৫ (এক কোটি ৫৫ লক্ষ ৫৫ হাজার পাঁচশত পঞ্চান্ন দশমিক ৫৫ পয়সা। ৭৬ হাজার টাকা বেতনপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা প্রতিমাসে এত পরিমান টাকা কোথা থেকে পরিশোধ করবেন সেটার গভীরে আরও বৃহত কিছু বেরিয়ে আসবে। কর্মকর্তার পদত্ত ব্যাংক চেক নং-২০০২৭৫৭১৪,সোনালী ব্যাংক পিএলসি, রমনা কর্পোরেট ব্রাঞ্চ,ঢাকা।
উল্লেখিত বিষয়ে সরকারের অতিরিক্ত সচিব এর মুঠো ফোন 01936…..58, 01711……23 নম্বরে কল করা হলেও কল রিসিভ করেনি। হোয়াটআপ নম্বরে ম্যাসেজ পাঠানো হলে তিনি তার সম্মতিপত্র পাঠাতে বলেন। তার স্বাক্ষরিত সম্মতিপত্র পাঠানো হলে তিনি জানান যে, আগামীকাল ১৮/০৮/২৬ তারিখে প্রমানসহ এ বিষয়ে ডকুমেন্ট পাঠাবেন কিন্তু তিনি কোন ডকুমেন্ট পাঠাননি এবং কোন মতামতও পাঠাননি।
এ নিয়ে সমনে থাকবে বৃহত আকারে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন চিত্র-চলমান







