শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও নান্দনিকতা: ভিসি-দের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও পোশাকের সামাজিক প্রভাব উল্টো রথযাত্রা উদযাপন-ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে স্বামীবাগ ইসকন মন্দির দিল্লীতে ছাত্র-আন্দোলন বাংলাদেশের মত ভুলপথে যাবেনা তো? রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও রাজনীতির সমীকরণ: প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা ইতিহাসে প্রথমবার, নিজেদের মাঠেই ‘অতিথি’ ভারত নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের মুখে শিক্ষা সচিব বদলি, অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক শতবর্ষী বিশ্বকাপের ফাইনাল নিজেদের ঘরে আনতে মরক্কোর বিশাল প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ স্পিকার দেশে ফিরলেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিখোঁজের ২ দিন পর জঙ্গল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার। নেপথ্যে পুলিশ ও সাংবাদিকদের যৌথ তৎপরতা

স্পিকার দেশে ফিরলেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৭ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

স্পিকার দেশে ফিরলেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরলেই পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় থাই এয়ারওয়েজের টিজি ৩২১ ফ্লাইটে তাঁর দেশে ফেরার কথা থাকলেও সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দুপুরে স্পিকার দেশে ফিরছেন। তাই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এখন সময়ের বিষয়। চিকিৎসার জন্য ১৯ জুলাই মেয়ে শামামা শাহরীন হাফিজকে নিয়ে ব্যাংককে যান তিনি। বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দেন। কিন্তু স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্রে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেননি প্রেসিডেন্ট। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এরই মধ্যে প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী বঙ্গভবনে প্রস্তুতিও নেওয়া শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বৃহস্পতিবার রুটিন অনুযায়ী বঙ্গভবনে অফিস করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি পূর্বনির্ধারিত বেশ কয়েকটি মিটিংয়ে অংশ নেন। গতকাল বিকাল পর্যন্ত পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের কোনো তথ্য নেই বলে তিনি জানান। এদিকে যে কোনো সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে যাচ্ছেন মো. সাহাবুদ্দিন-এমন গুজব ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি বঙ্গভবন থেকে।

বুধবার বিকাল থেকে এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাষ্ট্রপতি নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত। স্বাস্থ্যের অনেকটা অবনতিও হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ ডায়াবেটিস তাঁকে বেশি ভোগাচ্ছে। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরেই বঙ্গভবনের পরিবেশ বিদায়ের।

এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চান, তবে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে সরকারের কোনো করণীয় নেই। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন ও পর্যটন নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। সেটি যদি বাস্তবে ঘটে, তখন আমরা দেখব। লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথিত ফোনালাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাঁকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দিতে হবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই ইস্যুতে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে ফোনালাপের কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। এরকম যদি কিছু হয়ে থাকে তাহলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় বিজয় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন প্রশ্নে নানা আলোচনা চলছে রাজনীতিতে। এমনকি বিএনপির কারা রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, অনেক নাম দিয়েও খবর হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে। সামাজিক মাধ্যমেও রয়েছে অনেক নাম নিয়ে আলোচনা। দলটির নেতা-কর্মীদেরও অনেকে ধারণা করছেন, রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসতে পারে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছর মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্বে আসেন মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে তাঁর মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেহেতু মেয়াদ রয়েছে, সেখানে মো. সাহাবুদ্দিন যদি পদত্যাগ না করেন অথবা তাঁকে অভিশংসন বা অপসারণ না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনগত সুযোগ নেই।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। গণ অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives