মঞ্চস্থ হলো শ্রুতিঘরেরর নতুন আবৃত্তি প্রযোজনা – “রবীন্দ্রনাথের বাঁশি”
দেশের অন্যতম আবৃত্তিসংগঠন শ্রুতিঘর ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে মঞ্চস্থ করল তাদের নতুন আবৃত্তি প্রযোজনা “রবীন্দ্রনাথের বাঁশি”। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা, গান, গল্প ও প্রবন্ধ থেকে নির্বাচিত রচনা নিয়ে সাজানো এই প্রযোজনাটি ৩১ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ শুক্রবার ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয়।
শ্রুতিঘরের একঝাঁক আবৃত্তিশিল্পী এই প্রযোজনায় অংশ নিয়েছেন, যাঁদের কণ্ঠে সমবেত ও একক আবৃত্তির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের রচনায় বাঁশির নানা রূপক। প্রযোজনাটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন সৈয়দ ফয়সল আহমদ, কথামালা উপস্থাপনায় অধ্যাপক সায়মা ফিরোজ। একক ও সমবেত আবৃত্তিতে অংশ নিয়েছেন অতসী হৈমন্তিকা, নীলা হাসান, রেজিনা খন্দকার, শফিকুল ইসলাম সোহাগ, রেজওয়ানুল কবির সুমন, সুলতানা আকতার সূচনা, সুপ্তি বিশ্বাস, শিল্পী রেখা ভৌমিক, জয়া রায়, শামসুন নাহার, মুরশিদা পাঠান, তামান্না সুলতানা এবং সৈয়দ ফয়সল আহমদ। আবহ সঙ্গীত পরিকল্পনা ও প্রয়োগে ছিলেন অসীম কুমার নট্ট, বাঁশিতে রবিউল ইসলাম হিরন। আলোক পরিকল্পনায় ফারুক খান টিটু, পোষাক পরিকল্পনায় নীলা হাসান এবং প্রযোজনা অধিকর্তা তামান্না সুলতানা।
‘রবীন্দ্রনাথের বাঁশি’ মূলত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন রচনায় বাঁশি যেভাবে রূপক হিসেবে ধরা দিয়েছে, তার সাথে পরিচয়ের একটি প্রচেষ্টা। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, গানে বাঁশি শব্দটিকে বহুমাত্রিক রূপক-উপমায়, অলংকারে-ব্যঞ্জনায় প্রকাশ করেছেন মানুষের হৃদয়কে উজ্জীবিত করতে, প্রাণে বোধের উন্মেষ ঘটাতে। সীমাবদ্ধ জগৎ ভেঙ্গে এক বৃহত্তর সত্যের পথে রবীন্দ্রনাথের বাঁশি কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র হয়ে ধরা দেয়নি, বরং বাঁশি হয়ে উঠেছে কখনও মানব-মানবীর প্রেমের অনুসঙ্গ, কখনও মনের অব্যক্ত বেদনা, কখনও মুক্তির ডাক, কখনও স্রষ্টার প্রতি সমর্পন, কখনও ধ্বনিত বিশ্বমানবতার সুর, অসীমের সঙ্গে মিলন, সহজিয়া ভাবনা আবার কখনও মানব মনের গভীরতম অনুভব।
২০১১ সালে সামাজিক দায়বদ্ধতার চেতনা নিয়ে যাত্রা শুরু করে শ্রুতিঘর। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে নিয়মিত আবৃত্তি অনুষ্ঠান, কর্মশালা ও আবৃত্তিশিল্পী তৈরির কাজ করে আসছে শ্রুতিঘর। “রবীন্দ্রনাথের বাঁশি” সংগঠনের নতুন ও পুরাতন সদস্যদের সম্মিলিত প্রয়াসে নির্মিত সাম্প্রতিকতম প্রযোজনা।







