বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র ঘাটতি: ব্যাহত জনজীবন, সংকটে শিল্পখাত
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র ঘাটতি: ব্যাহত জনজীবন, সংকটে শিল্পখাত
সারাদেশে বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র ঘাটতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। একই সাথে উৎপাদনের গতি থমকে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের শিল্প ও কারখানা খাত। চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারায় রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে লোডশেডিং ও গ্যাসের সংকট। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান পরিস্থিতি জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদার তুলনায় প্রায় ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ মেগাওয়াটের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে সিডিউলড লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে বিতরণ সংস্থাগুলো। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে, কোনো কোনো এলাকায় টানা ৪ থেকে ৬ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ক্রয়ে প্রতিকূলতার কারণে গ্যাস সংকটও গভীর রূপ নিয়েছে। বাসা-বাড়িতে যেমন সকালের দিকে চুলো জ্বলছে না, তেমনি ফিলিং স্টেশনগুলোতে সিএনজি সংকটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। সংকটের মূল কারণসমূহ: জ্বালানির ঘাটতি: পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেল আমদানি বা পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোতে সরবরাহ করতে না পারা। ডলার ও অর্থ সংকট: বিশ্ববাজার থেকে এলএনজি ও জ্বালানি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঋণপত্র (LC) খোলা এবং বিল পরিশোধের বিলম্ব। সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা: এলএনজি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের (Regasification) সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা ও পুরনো বিতরণ ব্যবস্থা। প্রভাব সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে তৈরি পোশাক (RMG), টেক্সটাইল, সার ও ভারী শিল্পকারখানাগুলো। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানার অটোমেটেড সিএমএম বা বয়লারগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে অনেক কারখানায় উৎপাদন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে এসেছে, যা দেশের রপ্তানি খাতে বড় ধরণের ধাক্কা দিতে পারে। সাধারণ মানুষও প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিঘ্ন দৈনন্দিন কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও উদ্যোগ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকট সামাল দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে এলএনজি কার্গো আমদানি বৃদ্ধি ও বিকল্প প্রক্রিয়ায় জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জনগণকে সাশ্রয়ী হতে এবং অপ্রয়োজনীয় আলো বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (AC) ব্যবহার সীমিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।







