আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বৈষম্য দীর্ঘায়িত করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বৈষম্য দীর্ঘায়িত করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
বেসরকারি ঠিকাদারি প্রথা জ্যান্ত রেখে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বৈষম্য দীর্ঘায়িত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ’। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেওয়া এক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি আয়োজিত এক সভায় ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০১৮ এবং এর সংশোধন’ পর্যালোচনার নামে বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান আনিস এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক নূর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত আদেশ অনুযায়ী সরাসরি স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ করেছিল—আউটসোর্সিং সেবায় কোনো বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থাকবে না এবং সরাসরি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সেই নীতিমালার অনুচ্ছেদ ব্যত্যয় ঘটিয়ে এবং পুরনো পরিপত্রের অজুহাত দেখিয়ে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মধ্যস্বত্বভোগী ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা চরম বৈষম্যমূলক ও রহস্যজনক।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, কমিশনভোগী ঠিকাদারদের কারণে বছরের পর বছর ধরে আউটসোর্সিং কর্মচারীরা শোষিত ও বঞ্চিত হয়ে আসছেন। ঠিকাদারি প্রথা বহাল রাখা মানেই কর্মচারীদের বেতন কেটে নেওয়া, বোনাস বঞ্চিত করা এবং চাকরিচ্যুতির স্থায়ী আতঙ্কে রাখা।
বৈষম্য দূরীকরণে পরিষদের যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো:
১. ঠিকাদারি প্রথার স্থায়ী অবসান: সরকারি কোষাগার থেকে বরাদ্দকৃত অর্থের শতভাগ যেন কর্মচারীরা পান, তা নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগী ঠিকাদারদের অবিলম্বে বর্জন করতে হবে।
২. সরাসরি নিয়োগ: অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত নীতিমালার স্পিরিট অনুযায়ী প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বা অধিদপ্তরকে সরাসরি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনবল পরিচালনা করতে হবে।
৩. চাকরির নিরাপত্তা ও বৈষম্যহীনতা: নিয়োজিত কর্মচারীদের বয়স শিথিল করে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চাকরি স্থায়ীকরণ ও অন্যান্য সরকারি ভাতার সমতা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অনতিবিলম্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় যদি এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত সংশোধন না করে, তবে দেশের সকল সরকারি দপ্তরে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।







