বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র এখনও উত্তর কোরিয়ার শত্রু, কেন বললেন কিমের বোন? ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত ট্রাম্পের হীরার বাজারে নকলের ছড়াছড়ি, ক্রেতাদের পকেট কাটছে প্রতারকরা বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ: একটি নির্মোহ তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় উন্নয়ন সম্ভব: হাবিবুর রশিদ হাবিব” “জনসম্পৃক্ত নদী ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা: টেকসই ভবিষ্যৎ ও যৌথ দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিক প্রেরণ ও প্রেস কাভারেজ প্রসঙ্গে। দশমিনায় এইচএসসি পরীক্ষায়  হল সুপার কর্তৃক এমসিকিউ উত্তর পত্র পুরন ও প্রতিস্থাপন করায় হল সুপারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও শিক্ষামন্ত্রী বারাবর স্মারকলিপি পেশ যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন প্রণয়নের দাবিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন প্রণয়নের দাবিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি / ২৬ Time View
Update : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন প্রণয়নের দাবিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সম্মেলনে মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম। অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাড. সালমা আলী, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এর অ্যাডভোকেসি এন্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মাহাবুবা আক্তার; ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ) এবং জেন্ডার জাস্টিস এন্ড ডাইভার্সিটি কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এর ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর সৈয়দা আহসানা জামান এ্যানি এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র স্টাফ ল’ইয়ার (লিগ্যাল এইড সার্ভিস) অ্যাড. সেলিনা আক্তার। উক্ত সংবাদ-সম্মেলনে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম সহ নেত্রীবৃন্দ, কর্মকর্তাগণ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ প্রায়  ১২০ জন উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা।

সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, যৌন হয়রানি  প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের দাবি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বা নারী আন্দোলনের সাম্প্রতিক কোনো উদ্যোগ নয়। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এই দাবি, আন্দোলন গড়ে উঠেছে। ২০০১ সালের দিকে  চারুকলার ছাত্রী সিমি, গাইবান্ধার কিশোরী তৃষাসহ বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন কীভাবে নারীর জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে তা পরিলক্ষিত হয়েছে। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষমতা ও  প্রভাবশালী অবস্থানের অপব্যবহারের কারণে ভুক্তভোগীরা মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং শিক্ষা বা কর্মজীবন থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। যৌন হয়রানি শুধু একজন নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি তার মর্যাদা ও মানবাধিকারেরও লঙ্ঘন। এই প্রেক্ষাপটে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, নারী আন্দোলন এবং বিভিন্ন সংগঠন ধারাবাহিকভাবে এই আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে এসেছে। যৌথ উদ্যোগে আইনটির খসড়া প্রণয়ন করে নীতিনির্ধারকদের কাছেও তা উপস্থাপন করা হয়েছে। তারপরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আইনটি  প্রণীত না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রের দায়িত্ব, দায়বদ্ধতা ও নারীর সুরক্ষার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ  গ্রহণ করা  প্রয়োজন।

লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম বলেন,
২০০৯ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনার পর থেকেই সংগঠনটি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে অভিযোগ কমিটি গঠনের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন ও অ্যাডভোকেসি করে আসছে। ২০২৪ সালে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে খসড়া আইন চূড়ান্ত করা হলেও ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন পাওয়ার পরও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণীত হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বিদ্যমান আইনে যৌন হয়রানির সংজ্ঞা ও দন্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা হালনাগাদকরণ, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে অভিযোগ কমিটি ও মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি যৌন হয়রানিকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ব্যাপক প্রচারণা, পাঠ্যসূচিতে প্রতিরোধমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্তি এবং প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। তিনি আরো বলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে, জাতীয় সংসদে আইনটি দ্রুত পাস ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতামুক্ত, সমতাভিত্তিক সমাজ  প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।

বাংলাদেশ   জাতীয়   মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা অ্যাড. সালমা আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০০৯ সালে  হাইকোর্ট বিভাগ যুগান্তকারী রায়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন, এবিষয়ে আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়। যেখানে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, কলকারখানাসহ সকল কর্মক্ষেত্রে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে এর প্রয়োগ দেখা যায়নি এবং এর জন্য কোন জবাবদিহিতাও নেই। রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্রসহ যেকোন পাবলিক প্লেসে নারীর প্রতি নানা ধরনের অনাকাঙ্খিত আচরণের কারনে একজন নারী মানসিকভাবে অপমানিত হন। যার ফলাফল হিসেবে অনেক নারী ও শিশুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে বা জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিচ্ছে। এ জন্য একটা প্রতিরোধমূলক আইন অতি আবশ্যক।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শাশ^তী বিপ্লব বলেন, ১৭ বছরে একটি শিশু প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তরুণ বয়স থেকে এই আন্দোলন করে এখন মধ্য বয়সে পৌঁছেও রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোন আইন পাওয়া গেল না। আজও  এই আইনের দাবীতে আন্দোলন করে যেতে হচ্ছে। সঠিক আইনী কাঠামোর অভাবে হয়রানির শিকার নারীর সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে প্রদান করা হয়েছে, এরপর নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন জোর দাবি চূড়ান্ত আইন হবার আগে নাগরিক সমাজের প্রেরিত সুপারিশসমূহ সংযুক্ত হয়েছে কিনা সেটি পর্যবেক্ষণের জন্য  নাগরিক সমাজের সাথে আলোচনার প্রয়োজন।

ব্লাস্টের অ্যাডভোকেসি এন্ড কমিউনিকেশন পরিচালক মাহাবুবা আক্তার বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রতিফলন যেনো চূড়ান্ত আইনে থাকে অর্থাৎ প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেনো নির্দেশনা মোতাবেক কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়। তিনি কমিটির বাৎসরিক প্রতিবেদন দাখিল ও সেই প্রেক্ষিতে তদারকির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর সৈয়দা আহসানা জামান এ্যানি তার বক্তব্যে  নারীর বিরুদ্ধে যেকোন ধরনের নিপীড়ন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নারীর সুরক্ষা নিশ্চিতে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন’ প্রণয়নের জোর দাবি জানান।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের লিগ্যাল এইড সাভির্সের সিনিয়র স্টাফ ল’ইয়ার এ্যাড. সেলিনা আক্তার তার অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে এ ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে অভিযোগ জানাতে আসেন। যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর নয়। কিছু প্রতিষ্ঠানে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাক্ষ্য গ্রহন করা হলেও, তারপর আর কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। আবার অভিযোগ করার পর সেই নারীর জীবন আরো দূর্বিসহ হয়ে পড়ে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মডারেটরের বক্তব্যে ডাঃ ফওজিয়া মোসলেম বলেন, যেকোন নিপীড়ন, হয়রানি বা সহিংসতা সমাজের অপরাধ প্রবণতার একটি লক্ষণমাত্র। এগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান জনগণের প্রতি সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটিসহ সকল সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি তিনি আহবান জানান দ্রুত যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহন ও যারা এই আইনের খসড়া প্রস্তুতে সহযোগিতা করেছে তাদের সাথে পূর্ণাঙ্গ আইনটি নিয়ে কথা বলা হোক, যাতে এক আইনেই এ সংক্রান্ত সকল বিষয়ের সমাধান সম্ভব হয়। তিনি আরো বলেন নারীর প্রতি সংবেদশীল সমাজ তৈরিতে, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারীর ক্ষমতায়নে এ্িট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এর মাধ্যমে সরকারও এক কালজয়ী পদক্ষেপ গ্রহনে সমর্থ হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives