শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো কলওয়ালাপাড়া বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচন ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র এখনও উত্তর কোরিয়ার শত্রু, কেন বললেন কিমের বোন? ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত ট্রাম্পের হীরার বাজারে নকলের ছড়াছড়ি, ক্রেতাদের পকেট কাটছে প্রতারকরা বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ: একটি নির্মোহ তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় উন্নয়ন সম্ভব: হাবিবুর রশিদ হাবিব” দশমিনায় এইচএসসি পরীক্ষায়  হল সুপার কর্তৃক এমসিকিউ উত্তর পত্র পুরন ও প্রতিস্থাপন করায় হল সুপারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও শিক্ষামন্ত্রী বারাবর স্মারকলিপি পেশ যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন প্রণয়নের দাবিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ: একটি নির্মোহ তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান / ৪২ Time View
Update : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং আইনসভার সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধান বা রাষ্ট্রপতির নির্বাচন একটি অনন্য সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘস্থায়ী আইনি ও তাত্ত্বিক বিতর্ক নতুন আঙ্গিকে জাতীয় পরিমণ্ডলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ—যা রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘ফ্লোর ক্রসিং’ (Floor Crossing) বা দলবদল বিরোধী আইন নামে সুপরিচিত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো সংসদ সদস্য যদি তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে বা বিপরীত পক্ষে ভোটদান করেন, তবে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে কিনা—তা নিয়ে বর্তমানে রাজনীতিক, আইনবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মধ্যে স্পষ্ট দুটি বিপরীতমুখী ধারার সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে সরকারদলীয় চিফ হুইপের কড়া হুঁশিয়ারি ও দলীয় শৃঙ্খলার অনড় অবস্থান, অন্যদিকে এর বিপরীতে কিছু আইনজ্ঞের ভিন্নধর্মী ও কৌশলগত ব্যাখ্যা। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অপরাধ-রাজনীতি বিশ্লেষক হিসেবে এই জটিল সাংবিধানিক সমীকরণটিকে কোনো প্রকার আবেগ বা রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে, সম্পূর্ণ নির্মোহ তাত্ত্বিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক তাগিদ।

সাংবিধানিক কাঠামো: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বনাম ৭০ অনুচ্ছেদ

এই বিতর্কের গভীরতা অনুধাবন করতে হলে সর্বাগ্রে বাংলাদেশের সংবিধানের মূল ধারাগুলোর আইনি বিন্যাস ও দর্শন অনুধাবন করা প্রয়োজন। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশে একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন। এই নির্বাচনটি মূলত ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ এবং তদধীন বিধিমালার সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়।

অপরদিকে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মূল বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট, কঠোর এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপসহীন। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে:

“কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীপ্ররূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে vote দান (ভোটদান) করেন, তবে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে।”

সাধারণভাবে ‘ফ্লোর ক্রসিং’ বলতে আইনসভায় নিজ দলের নীতি, সিদ্ধান্ত বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বা ভোট দেওয়াকে বোঝায়। সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং দলবদলের অনৈতিক ও সুবিধাবাদী সংস্কৃতি রোধে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানেই এই যুগান্তকারী ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল।

চিফ হুইপের বক্তব্য ও দলীয় শৃঙ্খলার যৌক্তিকতা

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারদলীয় চিফ হুইপ স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ পুরোপুরি এবং কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে। তাঁর এই বক্তব্যের পেছনে যে রাজনৈতিক ও আইনি যুক্তি রয়েছে, তা অবহেলার সুযোগ নেই। চিফ হুইপের মূল যুক্তি হলো—সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ একটি স্বতন্ত্র এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ধারা, যা সংসদ সদস্যদের দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাধ্য করে।

যেহেতু ৭০ অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে “সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন”, এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি আইনত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষের ভেতরেই সম্পন্ন হয়, সেহেতু সংসদ কক্ষে বসে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিপরীত পক্ষে ভোট দেওয়ার কোনো আইনগত বা নৈতিক সুযোগ নেই। চিফ হুইপের দৃষ্টিতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কোনো বিচ্ছিন্ন বা সংসদের বাইরের আয়োজন নয়; এটি সংসদ সদস্যদের সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও সংসদীয় দায়িত্বেরই অংশ। অতএব, দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিলে তা সরাসরি ‘সংসদে দলের বিপক্ষে ভোটদান’ বা ফ্লোর ক্রসিং হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যের সংসদীয় আসনটি তাৎক্ষণিকভাবে শূন্য হয়ে যাবে।

বিপরীত পক্ষের মত ও আইনি সংশয়

এর বিপরীতে, দেশের কতিপয় সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করছেন। তাঁদের মূল দাবি হলো, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সংসদের সাধারণ আইন প্রণয়ন বা বাজেট পাসের প্রক্রিয়াগত ও গুণগত চরিত্র এক নয়। এই পক্ষের প্রধান যুক্তিগুলো নিম্নরূপ:

১. ইলেকটোরাল কলেজ (Electoral College) তত্ত্ব: বিপরীত পক্ষের আইনবিদদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা প্রথাগত ‘আইনপ্রণেতা’ হিসেবে ভোট দেন না, বরং তাঁরা ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ বা একটি বিশেষ নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। এই নির্বাচনটি সংসদের নিয়মিত আইনপ্রণয়নকারী কার্যক্রমের অংশ নয়, বরং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আইনসভার অভ্যন্তরে আয়োজিত একটি বিশেষ সাংবিধানিক নির্বাচন।
২. স্পিকারের পরিবর্তে সিইসি-র কর্তৃত্ব: সংসদের স্বাভাবিক অধিবেশনে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব ও শৃঙ্খলা রক্ষা করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় সংসদ কক্ষটি একটি অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), যিনি এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা। ফলে এই বৈঠকটি সংসদের নিয়মিত বা প্রথাগত ‘সিটিং’ বা অধিবেশন নয়।
৩. গোপন ব্যালটের আইনি সুরক্ষা: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, এই ভোটগ্রহণ অত্যন্ত গোপন ব্যালটের (Secret Ballot) মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। তাত্ত্বিকভাবে, যেখানে ভোট অত্যন্ত গোপন, সেখানে কোনো সদস্য ব্যালট পেপারে কাকে ভোট দিলেন তা আইনগতভাবে উদ্ঘাটন করা অসম্ভব। যেখানে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করাই অসম্ভব, সেখানে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে সদস্যপদ কেড়ে নেওয়ার দাবি অবান্তর ও বাস্তবতাবিবর্জিত।

নির্মোহ তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: নিজ দলের বিপরীতে ভোট দিলে কেন সদস্যপদ থাকবে না?

উভয় পক্ষের এই দ্বান্দ্বিক যুক্তিমালা পর্যালোচনার পর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আইনি দর্শন ও অপরাধ-রাজনীতি বিশ্লেষণের গভীর স্তর থেকে একটি নির্মোহ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব। তাত্ত্বিক ও সাংবিধানিক চেতনার চূড়ান্ত বিচারে—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজ দলের বিপরীতে ভোট দিলে ফ্লোর ক্রসিং হবেই এবং সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত হওয়াই সাংবিধানিক ও তাত্ত্বিকভাবে অমোঘ ও অনিবার্য সত্য। এর পেছনে সুনির্দিষ্ট চারটি তাত্ত্বিক ভিত্তি রয়েছে:

১. ‘সংসদে ভোটদান’ শব্দবন্ধের সামগ্রিক ও আক্ষরিক অর্থ: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে ব্যবহৃত শব্দবন্ধটি হলো “সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন”। এখানে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে লক্ষণীয় যে, সংবিধানে “সংসদে আনীত কোনো বিল, প্রস্তাব বা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর” দলের বিপক্ষে ভোটদানের কথা সুনির্দিষ্ট করে বা সীমাবদ্ধ করে বলা হয়নি। অর্থাৎ, সংসদ ভবনের ভেতরে বা সংসদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে সংসদ সদস্য হিসেবে যেকোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ভোটদানই এই পরিধির অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ যেহেতু সংসদ কক্ষের ভেতরেই (In Parliament) সম্পন্ন হয়, তাই সেখানে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বা বিপরীত পক্ষে সিল মারা সরাসরি ৭০ অনুচ্ছেদের আক্ষরিক লঙ্ঘনের শামিল।

২. দলীয় ম্যান্ডেট ও প্রতিনিধিত্বের তত্ত্ব (Theory of Party Mandate): আধুনিক সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি মূলত একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীক, আদর্শ, ইশতেহার এবং দলীয় পরিচয়ের ওপর ভর করে জনগণের ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাত্ত্বিকভাবে, তাঁর সংসদীয় সত্তা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব দলের সামষ্টিক সিদ্ধান্তের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। রাষ্ট্রপতি পদের মতো একটি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ও নীতিগত পদে দল যখন কোনো প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেয়, তখন দলের প্রত্যেক সদস্য সেই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো—যে রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের ওপর ভিত্তি করে তিনি সংসদে পা রেখেছেন, সেই জনআকাঙ্ক্ষা ও ম্যান্ডেটকে সরাসরি অস্বীকার করা। এটি রাজনৈতিক অপরাধবিদ্যার (Political Criminology) দৃষ্টিতেও এক ধরনের ‘রাজনৈতিক বিশ্বাসভঙ্গ’ (Political Breach of Trust)।

৩. হুইপের নির্দেশনার আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা: সংসদীয় ব্যবস্থায় দলের চিফ হুইপ বা হুইপগণ সদস্যদের জন্য দলীয় দিকনির্দেশনা (Whip) জারি করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দল যদি নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য ‘হুইপ’ জারি করে, তবে তা অমান্য করার কোনো সুযোগ সদস্যদের থাকে না। গোপন ব্যালটের দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগও ক্ষণস্থায়ী। কারণ, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গের বা সাবোটাজের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রমাণ বা যৌক্তিক সন্দেহ তৈরি হলে, দল তাঁর বিরুদ্ধে নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। দল থেকে বহিষ্কৃত হলে বা দল যদি তাঁর সদস্যপদ বাতিলের জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন করে, তবে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রথম শর্ত (“দল হইতে পদত্যাগ করেন” বা দলীয় আনুগত্যের অবসান) প্রক্ষালিত হয়ে আসন শূন্য হওয়ার পথ সুগম হয়।

৪. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংবিধানের মূল দর্শন: সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মূল দর্শনই হলো আইনসভায় যেকোনো ধরনের অনৈতিক রাজনৈতিক চালবাজি, ঘোড়া-কেনাবেচা (Horse-trading) এবং বিশৃঙ্খলা রোধ করা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যদি সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে বা দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তা পুরো সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলেই আঘাত হানবে, যা সংবিধান প্রণেতাদের মূল চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

উপসংহার

সংক্ষক্ষেপে ও নির্মোহভাবে বলতে গেলে, গোপন ব্যালটের কারিগরি কারণে হয়তো সাময়িকভাবে প্রমাণের সংকট বা আইনি অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে, কিন্তু তাত্ত্বিক, দার্শনিক ও সাংবিধানিক চেতনার গভীরতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া পরিষ্কারভাবেই ‘ফ্লোর ক্রসিং’। বাংলাদেশের সংবিধানের বর্তমান কাঠামো ও রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনে বিপরীত পক্ষে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো নিজের সংসদীয় পদের নিশ্চিত ও আইনি অবসান ঘটানো। সংসদীয় গণতন্ত্রে দলের নীতি ও সামষ্টিক শৃঙ্খলা ব্যক্তি-স্বাধীনতার ঊর্ধ্বে স্থান পায়। তাই, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ থাকবে না—চিফ হুইপের এই অবস্থানটিই তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক ও আইনি বিচারে অকাট্য এবং সুপ্রতিষ্ঠিত। আইনসভার মর্যাদা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থায়িত্বের স্বার্থে এই সাংবিধানিক কঠোরতা ও শৃঙ্খলার নীতি বজায় রাখাই এই মুহূর্তের প্রধান রাজনৈতিক সত্য।

লেখকঃ – প্রফেসার ড. আসিফ মিজান
রাজনীতি, মানবাধিকার ও অপরাধ বিশ্লেষক এবং উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় (সোমালিয়া


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives