কৃষক কার্ডে জেলেদের অন্তভূর্ক্তি ও জেলে সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সংবাদ সম্মেলন
২৮ জুলাই ২০২৬ইং মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি (রেজি নং-বি-৯৫১) এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় ২৭/৫/খ, তোপখানা রোড (৩য় তলা), সেগুনবাগিচা, ঢাকায় “কৃষক কার্ডে জেলেদের অন্তভূর্ক্তি ও জেলে সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সংবাদ সম্মেলন” অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান বাবলু বলেন, বর্তমান সরকারের ঘোষিত ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিতে মৎস্যজীবী ও মাছ চাষিদের অন্তর্ভুক্ত করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে আমরা জেলে সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই। এই উদ্যোগের ফলে জেলেরা সরাসরি কৃষিঋণ, বীমা সুবিধা এবং উৎপাদন সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় এই কার্ডের পাশাপাশি আরও কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আমরা সরকারের কাছে জেলেদের অধিকার ও সুরক্ষায় নিম্নলিখিত ১০টি দাবি পেশ করছি:
(১) প্রকৃত জেলের ডেটাবেজ প্রণয়ন: দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রকৃত ও প্রান্তিক জেলেদের তালিকা তৈরি করতে হবে এবং দ্রুত শতভাগ জেলের হাতে ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দিতে হবে। (২) হালকা ও সহজ শর্তে ঋণ: মাছ ধরার সরঞ্জাম ক্রয় ও জাল মেরামতের জন্য কৃষক কার্ডের আওতায় জেলেদের বিনা জামানতে দীর্ঘমেয়াদী সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করতে হবে। (৩) নিরাপত্তা ও খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধি: ইলিশ প্রজনন মৌসুম সহ অন্যান্য মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য চাল বা খাদ্য সহায়তা ( VGF) বরাদ্দ এবং বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। (৪) জীবন বীমা সুবিধা: গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে প্রাণহানি বা নিখোঁজ হওয়া জেলেদের পরিবারকে এককালীন আর্থিক অনুদান এবং সব জেলের জন্য জীবন বিমা সুবিধা চালু করতে হবে। (৫) স্বাস্থ্য ও বাসস্থান সুরক্ষা: প্রতিটি উপকূলীয় ও হাওর এলাকায় জেলেদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা এবং তাদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কার্ড প্রদান করতে হবে। (৬) বৈধ পরিচয়পত্রের স্বীকৃতি: কৃষক কার্ডের পাশাপাশি জেলেদের পেশাগত পরিচয়পত্র হিসেবে ‘মৎস্যজীবী কার্ড’—এর কার্যকর ব্যবহার আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। (৭) দুর্যোগকালীন আগাম সতর্কতা: ঝড়ের সময় সাগরে থাকা জেলেদের দ্রুত উদ্ধার এবং তাদের সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। (৮) মহাজন ও দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস: জেলেদের দাদন ব্যবসায়ীদের শোষণ থেকে মুক্ত করতে বিকল্প ও আনুষ্ঠানিক অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। (৯) ন্যায্য মূল্যে জ্বালানি ও উপকরণ: মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি ন্যায্যমূল্যে/ভর্তুকিতে সরবরাহ করতে হবে। (১০) মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ: নদী ও সাগরে অবৈধ জাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার কঠোরভাবে দমন করে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষা করতে হবে এবং সাগরের মহনা সহ সকল নদীগুলোর নাব্যতা দূর করে মৎস্য ও পানির স্বাভাবিক চলাচল করা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের আওতায় জেলেদের অন্তর্ভুক্তি আমাদের অধিকার আদায়ের পথে একটি বড় মাইলফলক। আমরা বিশ্বাস করি, উপরে উল্লেখিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই অবহেলিত জনগোষ্ঠী স্বাবলম্বী হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির উপদেষ্টা মোঃ তারিকুল ইসলাম মধু, মোঃ কবির উদ্দিন মাস্টার, মোঃ ফজলে কাদের সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্বাস আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, হামিদ সরকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন, মাহে আলম, ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।







