বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নৌপথে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে বাল্কহেড মালিক-শ্রমিকদের মানববন্ধন নিকোটিন পাউচ বাজারজাতকরণে মরিয়া কোম্পানি, নিষিদ্ধের দাবি প্রজ্ঞা-আত্মা’র গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বনাম রাজনৈতিক উগ্রবাদ: নতুন বন্দোবস্তের নামে রাজনীতির অবক্ষয় অতিরিক্ত চার্জ ও হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রেসক্লাবে বাল্কহেড মালিকদের মানববন্ধন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন ! হঠাৎ কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় মালিতে অন্তত ৫০ সেনার প্রাণহানি মেসি-ইয়ামালের আইকনিক ছবি নিয়ে আসছে বিশেষ কার্ড চাঁদপুরে প্রলোভন দেখিয়ে ৩ প্রবাসীকে সৌদি পাঠিয়ে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাত, ২ দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বনাম রাজনৈতিক উগ্রবাদ: নতুন বন্দোবস্তের নামে রাজনীতির অবক্ষয়

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বনাম রাজনৈতিক উগ্রবাদ: নতুন বন্দোবস্তের নামে রাজনীতির অবক্ষয়

– প্রফেসার ড. আসিফ মিজান উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় (সোমালিয়া) সমাজ, রাজনীতি, অপরাধ ও মানবাধিকার বিশ্লেষক।

রাজনৈতিক দর্শনের চিরায়ত সত্য হলো—একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা এবং একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি মনস্তাত্ত্বিক ও পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাংলাদেশে ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’-এর স্লোগান দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা দল এনসিপি (NCP) এই মৌলিক পার্থক্যটি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে দেশে যখন একটি অবাধ ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে, ঠিক তখনই দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রদর্শিত চরম অরাজনৈতিক আচরণ ও কুরুচিপূর্ণ সংস্কৃতি নাগরিক সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। বিশেষ করে, দলটির নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির লাগামহীন আক্রমণাত্মক ভাষা এবং অঙ্গভঙ্গি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম অবক্ষয়কে নির্দেশ করে। একটি political entity বা রাজনৈতিক দলের উগ্রতার দায় একক কোনো ব্যক্তির ওপর বর্তায় না, বরং এর প্রাতিষ্ঠানিক দায়ভার সম্পূর্ণভাবে দলের নেতৃত্বের ওপরই পড়ে।

তাত্ত্বিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট: অধিকার বনাম কর্তব্যের দ্বান্দ্বিকতা

political theorist বা রাজনৈতিক তাত্ত্বিক আলেক্সিস ডি টকভিল (Alexis de Tocqueville) তাঁর বিখ্যাত ‘Democracy in America’ গ্রন্থে সতর্ক করেছিলেন যে, গণতান্ত্রিক অধিকার যদি নৈতিক দায়িত্ব ও সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে তা ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচার’ কিংবা সামাজিক নৈরাজ্যে রূপ নিতে পারে। গণতন্ত্র কেবল অধিকারের ক্ষেত্র নয়, এটি সমান্তরালভাবে কর্তব্যেরও এক অলঙ্ঘনীয় অনুশাসন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তরুণদের নেতৃত্বাধীন অনেক সংস্কারবাদী আন্দোলনই প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার অভাবে পরবর্তীতে চরমপন্থায় রূপ নিয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ: বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ল্যাটিন আমেরিকার বেশ কিছু দেশে তরুণ ছাত্রনেতারা প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বৈপ্লবিক স্লোগান দিয়ে রাজনীতিতে এলেও, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অভাবে তা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক violence ও ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল।

বিপরীতে, নেলসন ম্যান্ডেলার ”আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস’ (ANC) বর্ণবাদ বিরোধী তীব্র আন্দোলন করলেও ক্ষমতা ও রাজনীতির মূল ধারায় এসে অত্যন্ত সংযত ও গণতান্ত্রিক ভাষা চর্চা করেছিল, যা তাদের বৈশ্বিক আইকনে পরিণত করে।

বর্তমানে এনসিপির তরুণ নেতৃত্বের সামনে যেখানে দেশের নতুন প্রজন্মের জন্য ‘রোল মডেল’ হওয়ার সুযোগ ছিল, সেখানে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির মতো ব্যক্তিদের অসভ্য ও দানবীয় রাজনৈতিক আচরণ তরুণ সমাজকে একটি ভুল বার্তা দিচ্ছে। কোটি কোটি মানুষের ভোটে নির্বাচিত দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারকে নিয়ে যে স্তরের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে, তা কেবল নিন্দনীয়ই নয়, বরং সমাজে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সহিংসতার উস্কানিদাতা।

আহ্বান

এনসিপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের এ বিষয়ে রহস্যজনক নীরবতা প্রমাণ করে যে, তারা এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিহীনতাকে পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ারের একটি বিখ্যাত ধারণার অনুকরণে বলা যায়—আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে, তবে তা যখন অন্যের মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক সৌহার্দ্যকে ধ্বংস করে, তখন তা অপরাধের শামিল।

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সন্তানদের সামনে আমরা এমন কোনো বিকৃত রাজনৈতিক আদর্শের উদাহরণ রেখে যেতে পারি না। একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ ও মানবাধিকার-বান্ধব সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে এনসিপি-কে অবিলম্বে এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা স্বীকার করে রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার ফিরিয়ে আনতে হবে।

লেখকঃ – প্রফেসার ড. আসিফ মিজান উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় (সোমালিয়া) সমাজ, রাজনীতি, অপরাধ ও মানবাধিকার বিশ্লেষক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives