শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শোকসংবাদ: নাটোর হোটেল-রেস্তোরাঁ ও মিষ্টি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মরহুম আব্দুল মান্নানের স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত UNIP GLOBAL SDGs & SADGs INTERNATIONAL SUMMIT & CONFERENCE 2026 মানবাধিকার সংস্থায় অভিযোগ, তদন্তে ঝিনাইগাতীতে চেয়ারম্যান মইনুর রশীদ চৌধুরী প্রজাস্বত্ব আইন ও ঋণ সালিশী বোর্ডের স্থপতি শেরেবাংলা এ.কে.ফজলুল হকের ভূমিকা তুলে ধরল বরিশাল বিভাগ সমিতি,ঢাকা চাঁদের পৃষ্ঠে পৃথিবীর মানচিত্র দেখার দাবি পঞ্চগড়ের রফিকুল ইসলামের বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বনিম্ন বেতন অথবা সরকারি ২০তম গ্রেডের সমান মজুরি দিতে হবে পোশাক শ্রমিকদের : বজলুর রহমান বাবলু ব্রাহ্ম স্কুল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (১৮৫৮-২০০৫),জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সব স্কুল কলেজের গভর্নিং বডি/ ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বন্ধ করা গভীর ষড়যন্ত্রের ফল- অভিভাবক ঐক্য ফোরাম খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নে সংসদে উত্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিলেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ‘যুব ক্যাব চবি’র উদ্যোগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন এলাকা ক্যাম্পাস ক্লিন ইনিসিয়াটিভ উদযাপিত

ম্যারিকো বাংলাদেশের এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন: ৯৪ শ্রমিকের ১,৪৮১ কোটি টাকা বকেয়া, বিপুল লভ্যাংশ ভারতে প্রেরণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : / ১৭৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

*ম্যারিকো বাংলাদেশের এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন: ৯৪ শ্রমিকের ১,৪৮১ কোটি টাকা বকেয়া, বিপুল লভ্যাংশ ভারতে প্রেরণের অভিযোগ*

শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধ না করে কোম্পানির বিপুল মুনাফা ও নগদ লভ্যাংশ বিতরণ এবং মামলার বিচারাধীন অবস্থায় অর্থ ও সম্পদ ভারতে স্থানান্তরের আশঙ্কায় ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)-এর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শ্রম আদালতে আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শ্রমিকরা। ম্যারিকো বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ম্যারিকো লিমিটেড, ইন্ডিয়া।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট, ২০২৬) ঢাকার ১ম শ্রম আদালতে দায়ের করা বিএলএ মামলা নং ৮৬৫/২০২৫-এ বঞ্চিত সাবেক শ্রমিকরা আবেদনটি করেন। আবেদনে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানির এমডি যেন আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া বাংলাদেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষামূলক আদেশ চাওয়া হয়েছে।

 

সাবেক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তারা ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল (WPPF) ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের আইনগত পাওনা থেকে প্রায় ১৮ বছর ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

 

শ্রমিকদের দাবি, পাওনা আদায়ের জন্য প্রথমে ১৯ জন শ্রমিক ২০১৪ সালে শ্রম আদালতে মামলা নং ৬৯১/২০১৪ দায়ের করেন। পরবর্তীতে একই মামলায় উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নং ৫৭৬/২০১৮ নিষ্পত্তি না হওয়ায় শ্রম আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পরবর্তীতে প্রতিকারের আশায় আরও ৯৪ জন শ্রমিক ২০২৫ সালে বিএলএ মামলা নং ৮৬৫/২০২৫ দায়ের করেন।

 

আবেদনকারী শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি স্বনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের স্বতন্ত্র নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ম্যারিকো বাংলাদেশের ৯৪ জন সাবেক শ্রমিকের ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত মোট পাওনা প্রায় ১,৪৮১ কোটি টাকা। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর শ্রমিকদের আইনগত পাওনা অনাদায়ী থাকলেও একই সময়ে কোম্পানি বিপুল পরিমাণ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা ও বিতরণ করে আসছে।

 

শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, ম্যারিকো বাংলাদেশ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০০ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩,৮৪০ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২,০৭৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

 

শ্রমিকদের আশঙ্কা, কোম্পানির বিপুল পরিমাণ নগদ লভ্যাংশ বিতরণ ও ভারতে অর্থ স্থানান্তরের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আদালতের রায় বাস্তবায়নের সময় শ্রমিকদের পাওনা আদায় কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে কোম্পানির বর্তমান এমডি একজন ভারতীয় নাগরিক হওয়ায় তিনি নিয়মিত বিদেশ সফর করেন – এ বিষয়টিও আদালতের কাছে বিবেচনার জন্য তুলে ধরা হয়েছে।

 

আবেদনকারীদের ভাষ্য, তারা কোনো ব্যক্তির স্বাভাবিক চলাচলের অধিকারে অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে চান না। তবে প্রায় দুই দশক ধরে চলমান শ্রমিকদের পাওনা সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং সম্ভাব্য আদালতের রায় কার্যকর রাখার স্বার্থেই সাময়িক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে।

 

সাবেক শ্রমিকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে তাদের ন্যায্য পাওনা আটকে থাকা শুধু একটি আর্থিক বিরোধ নয়; এটি শ্রমিকের আইনগত অধিকার, কর্পোরেট জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। তাদের দাবি, কোম্পানির মুনাফা ও লভ্যাংশ বিতরণের পাশাপাশি শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

 

‘এক্স-ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো অন্যায্য সুবিধা চাই না; আমরা চাই আইন অনুযায়ী আমাদের পাওনা পরিশোধ এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি। শ্রমিকের পাওনা বছরের পর বছর অনাদায়ী রেখে বিপুল লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়টি আদালতের যথাযথ পর্যালোচনা ও জবাবদিহির আওতায় আসা প্রয়োজন।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives