মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারীর ক্ষমতায়ন, ভূমি ও কৃষিতে প্রবেশাধিকার এবং সম মজুরী নিশ্চিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরী ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি রোভার স্কাউট গ্রুপের ৩য় দীক্ষা ক্যাম্প ও তাঁবু জলসা অনুষ্ঠিত নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বিষয়ে নারী সংসদ সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথ বিরোধিতা করে থাকলে,তাঁকেই কেন সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়? আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বৈষম্য দীর্ঘায়িত করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে’—মাহাবুব হোসেন ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানী প্রতিরোধ করি, সকল নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিত করি’-এই প্রতিপাদ্যের আলোকে মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত কোম্পানির হস্তক্ষেপ তামাক নিয়ন্ত্রণের বড়ো বাঁধা ব্যাটিং ব্যর্থতায় দ্বিতীয় ম্যাচে হারল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল টেকসই গণতন্ত্রের জন্য নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে: সিইসি

সাবেক প্রেমিকাকে সপরিবারে মারতে ইতালি যান শাহাদাত

এসময় ডেস্ক ঃ / ৪২ Time View
Update : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ২২ বছর পর প্রতিশোধ নিতে অবৈধভাবে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নোয়াখালীর শাহাদাত হোসেন। তিনি সাবেক প্রেমিকা, তার স্বামী ও তার এক কন্যাসন্তানকে ইতালির রাজধানী রোমে গত ২৬ জুন রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইতালীয় পত্রিকার প্রতিবেদন, পুলিশ সূত্র এবং নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ঘাতক শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে আরজু আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিয়ের প্রস্তাব আরজুর পরিবার প্রত্যাখ্যান করে। তারা ইতালিপ্রবাসী কামাল উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন।

বিয়ের পর কামাল উদ্দিন তার স্ত্রী আরজুকে নিয়ে ইতালি চলে যান। সেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তিনটি সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক শাহাদাত এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। দুই দশক ধরে তিনি আরজুর পরিবারের খোঁজখবর রাখতে থাকেন এবং প্রতিশোধ নিতে সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন।

শাহাদাত হোসেন ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর ইংল্যান্ডে যান। সেখান থেকে কিছুদিন আগে অবৈধভাবে ইতালির রোমে পৌঁছে সুকৌশলে আরজুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। তিনি নিজেকে আরজুর ‘দূর সম্পর্কের আত্মীয়’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করেন। নিহত আরজুও সরল বিশ্বাসে তার পুরনো পরিচিত শাহাদাতকে তার বাড়িতে যেতে দিয়েছিলেন।

২৬ জুন রাতে সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারীদের ধারণা, শাহাদাত ওই দিন ওই বাসায় গিয়ে শুধু আরজু ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে আরিশাকে দেখেন। প্রথমে আরজুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বা চিৎকার করলে শিশু আরিশাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরও শাহাদাত পালিয়ে যাননি। বরং তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে ঘরের মেঝের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন এবং লাশগুলো লুকিয়ে রাখেন। তিনি জানতেন, একে একে পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাসায় ফিরবেন। তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন বাকিদের হত্যার জন্য। কিছুক্ষণ পর আরজুর স্বামী বাবুল কাজ থেকে বাসায় ফিরলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

সবশেষে বাসায় ফেরেন বড় ছেলে আয়ান (২০)। আয়ান তদন্তকারীদের জানান, তিনি ঘরে ঢুকে শাহাদাতকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখেন। শাহাদাত তাকে বলেন যে তার মা-বাবা ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু আয়ান যখন তার মা-বাবার কক্ষের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ খাটের নিচ থেকে তার ছোট বোন আরিশার একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তেই আয়ান বুঝতে পারেন যে ভয়াবহ কিছু ঘটেছে। ঠিক সেই সময় শাহাদাত তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আয়ানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

আয়ান প্রাণ নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। তার সেই চিৎকারে শাহাদাত ভয় পেয়ে পালিয়ে যান।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই শাহাদাত হোসেন লাপাত্তা। ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘ইল মেসাজ্জেরো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি হয়তো ইতালির সীমানা পেরিয়ে ইংল্যান্ডে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কারণ সেখানে তার স্ত্রী ও কন্যা বসবাস করেন। আবার এমনও হতে পারে যে, তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

এই চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের পর রোমের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অস্বস্তি বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, নির্মম হত্যাকাণ্ডটি তদন্তের জন্য ইতালি পুলিশ বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা বিদেশের মাটিতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ’

ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘ফ্যানপোস্ট’ লিখেছে, তদন্তকারীরা শাহাদাতের আত্মহত্যার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। কারণ হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তাঁর ফেসবুকে কিশোর কুমারের ‘মেরা জীবন কোরা কাগজ’ গানটি শেয়ার করে একটি রহস্যময় স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে অন্যকে মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারো জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives