সার ডিলারশিপ আবেদনের চূড়ান্ত তালিকায় একজন খুনী আসামীর নাম থাকা নিয়ে এলাকাবাসীর উদ্বেগ
বেরইল পলিতা বাজার, মাগুরা সদর থানা সার ডিলারশিপ এর জন্যে মাজহার গাজী, পিতা—নাজির গাজী, বয়স আনুমানিক ১৮–১৯ বছর—এর আবেদন চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে তিনজনের মধ্যে রয়েছে—এমন খবর জানতে পেরে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, আবেদনকারীর নামে হত্যা মামলাসহ বর্তমানে মোট তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে নির্বাচিত ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির সন্তানকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতরভাবে আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করানোর ঘটনায়ও মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়াও লুটপাটের একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ের মানুষের অভিযোগ, তাকে দেখলে অনেকেই ভয় ও আতঙ্ক অনুভব করেন। এমন একজন ব্যক্তির হাতে সার ডিলারের দায়িত্ব গেলে সাধারণ কৃষকরা কতটুকু নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সার ও কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে পারবেন—এ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্তাবিত সার গোডাউনটি ইউনিয়নের মূল বাজার থেকে প্রায় ৫–৬ কিলোমিটার দূরে। ফলে ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষকের জন্য সেখানে গিয়ে সার ক্রয় করা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল হবে। সার কেনার পাশাপাশি অতিরিক্ত যাতায়াত খরচ কৃষকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, তুফান গাজীসহ তার পরিবার কিংবা বাবা-চাচাদের কারও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি তাদের কোনো মুদি দোকানও নেই। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাদের নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এলাকাবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী, তার কোনো ব্যক্তিগত দলীয় পরিচয়ও নেই এবং তিনি কখনোই নিয়মিতভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। দলের দুঃসময়ে তিনি একটি মিছিল করেছেন—এমন নজিরও এলাকাবাসীর জানা নেই।
এদিকে, ৫ আগস্টের রাতে তিনি উপস্থিত থেকে তাদের নেতৃত্বে কিছু নিরীহ পরিবারের গোয়ালঘর থেকে পাঁচ-সাতটি গরু লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ছিলেন—এমন অভিযোগও স্থানীয়ভাবে রয়েছে। বিষয়টি মাগুরার বিভিন্ন নেতা-কর্মী অবগত আছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।
আবেদনকারীর নামে থাকা মামলাসমূহের বিবরণ:
১। মাগুরা সদর থানার মামলা নং-৩২, তারিখ- ২৬/১২/২০২২
জিআর-৩৯৭
ধারা- ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড
চার্জশীট-১৪, তারিখঃ ২৬/০২/২০২৩
২। মাগুরা সদর থানার মামলা নং-০২, তারিখ- ০১/০৫/২০২৬
জিআর-১৮৩
ধারা- ১৪৩/৩৪১/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৪২৭/১১৪ পেনাল কোড
৩। মাগুরা সদর থানার মামলা নং-২৫, তারিখ- ২২/১২/২০২৪
জিআর-৪৯৮
ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড
চার্জশীট-১১৪, তারিখঃ ২৭/০৫/২০২৫
এমন একজন ব্যক্তির হাতে যদি সার ডিলারের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে এলাকার নিরীহ কৃষকরা কতটুকু নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সার ও কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে পারবেন—এ নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
একজন কৃষককে বলতে শোনা যায়—
«“আর বোধহয় চাষবাস করা আমাদের হবে না। আমি এক বস্তা সার বাকি আনলে পরবর্তীতে এমনও হতে পারে, আমার গোয়ালের গরু খুলে আনতে পারে। এমন মানুষ ডিলার পেলে আমি কৃষিকাজ ছেড়ে দেব।”»
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, স্থানীয় কৃষকদের সুবিধা-অসুবিধা, গোডাউনের অবস্থান, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর প্রকৃত অবস্থা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
কারণ, সার ডিলার শুধু একটি ব্যবসায়িক দায়িত্ব নয়; এর সঙ্গে এলাকার হাজারো কৃষকের কৃষিকাজ, সার প্রাপ্তির সহজলভ্যতা, নিরাপত্তা ও স্বার্থ সরাসরি জড়িত।







