মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও গ্যাস সংকট নিরসনে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ : লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫ সমীক্ষা প্রতিবেদন বিষয়ক সংবাদ-সম্মেলন অনুষ্ঠিত দীর্ঘ সক্ষমতা নিয়ে আলোচনায় রিয়েলমি সি১০০আইয়ের টাইটান ব্যাটারি নান্দনিক শিক্ষাদর্শন, প্রগতিশীল নারীত্ব ও অন্ধ রক্ষণশীলতার দ্বন্দ্ব বিএনপি ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত মাসব্যাপী জলাশয় পরিচ্ছন্ন, মশার স্প্রে, কয়েল ও ডেঙ্গু লিফলেট বিতরণ গাছ সংরক্ষণে করণীয় বিষয়ক কর্মসূচির আয়োজন-খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার চলতে বছরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর সংহিসতার তথ্য প্রকাশে ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতির বিচার ও আইনি সুরক্ষা: সংবিধানের ৫১(১) অনুচ্ছেদ কি অপরাধের চিরস্থায়ী লাইসেন্স? বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর ৬টি বিতরণ অঞ্চল বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

নিরাপদ সাইকেল লেন ও সাইকেলের ওপর কর-শুল্ক কমানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৯২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীতে একটি বর্ণাঢ্য সাইকেল র‌্যালি ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট এবং নগর যানজট নিরসনে সাইকেলকে কার্যকর, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) সকাল ৭টায় ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে এ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিটি রাজধানীর আবাহনী মাঠ থেকে শুরু হয়ে জিগাতলা এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আবাহনী মাঠে এসে শেষ হয়।

এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— “সাইকেল বান্ধব নগরী, জলবায়ু সহিষ্ণু ভবিষ্যৎ”।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাইকেল ক্লাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকসহ প্রায় ১২০ জন সাইক্লিস্ট অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালির পাশাপাশি অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নিরাপদ সাইকেল লেন, সাইকেল পার্কিং সুবিধা এবং সাইকেলবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অযান্ত্রিক ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনের ব্যবহার বৃদ্ধি জরুরি। সাইকেল এমন একটি মাধ্যম যা কার্বন নিঃসরণ কমায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করতে সহায়তা করে।

ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, একটি ব্যক্তিগত গাড়ির পার্কিংয়ের জায়গায় ৮ থেকে ১০টি সাইকেল রাখা সম্ভব। সাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে নগরের যানজট ও পার্কিং সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক তাহাজ্জাত হোসেন বলেন, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট সাইকেল চালানো শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত উপকারী। একই সঙ্গে এটি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ মান্নান মনির বলেন, সাইকেলের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। সাইকেল ও এর যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত কর ও শুল্ক কমিয়ে এবং দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করে সাইকেলের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুব্বুস বলেন, “আমরা সরাসরি কর (ট্যাক্স) দিতেও প্রস্তুত, যদি সরকার সাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ সাইকেল লেন, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে। নাগরিকরা সেবা পেলে তার বিনিময়ে অবদান রাখতে প্রস্তুত।”

বুড়িগঙ্গার মঞ্চের জাতীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য কামরুল হাসান চৌধুরী বিপু বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষায় সাইকেলের কোনো বিকল্প নেই। তিনি সরকারের কাছে নগর এলাকায় পৃথক সাইকেল লেন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

কর্মসূচি থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ:
* প্রধান সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও আবাসিক এলাকাকে সংযুক্ত করে নিরাপদ ও পৃথক সাইকেল লেন নির্মাণ।
* শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপদ সাইকেল পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করা।
* এলাকাভিত্তিক সাইকেল শেয়ারিং ও ভাড়া ব্যবস্থা চালু করা।
* শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার ও গণপরিবহন কেন্দ্রগুলোতে সাইকেল পার্কিং স্থাপন।
* সাইকেলের ওপর আরোপিত ভ্যাট ও অন্যান্য কর হ্রাস করা।
* সাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমানো এবং দেশীয় উৎপাদন শিল্পকে কর-সুবিধা ও প্রণোদনা প্রদান।
* জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সাইকেলবান্ধব পরিবহন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে শুধু দিবস পালন নয়, বরং সাইকেলবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ, নীতিগত সহায়তা এবং সাইক্লিস্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নিরাপদ সাইকেল লেন ও সহজলভ্য সাইকেল ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যকর, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

উক্ত কর্মসূচিতে সহ-আয়োজক হিসেবে অংশগ্রহণ করে এনভায়রনমেন্ট ক্লাব-ডিএসসিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল, ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাই স্কুল, বেঙ্গলি মিডিয়াম হাই স্কুল, লোটাস ন্যাশনাল স্কুল, শেরে বাংলা আইডিয়াল স্কুল, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ, উত্তরা সাইকেল কমিউনিটি, স্টাইলিস্ট সাইক্লিস্ট,সূর্য শিশির রানার্স, ইকো বাংলা ইয়ুথ অর্গানাইজেশন, ধানমন্ডি ট্যুরিস্ট সাইক্লিস্ট এবং কারফ্রি সিটিজ অ্যালায়েন্স।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

Archives